প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       বিএনপি চেয়ারপরসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ও নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার ব্যবস্থা নিয়ে আন্দোলনে নামছে বিএনপি। ঈদের পরই তারা আন্দোলন করবে বিএনপি নেতাদের কথায় এমনটিই আভাস পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

অন্যদিকে আওয়ামী লীগ আন্দোলন দমন করার প্রস্তুতি গ্রহণ করছেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের কথায় এমনটিই আভাস পাওয়া গেছে। ফলে সংঘাতের আশঙ্কা করেছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

 

 

 

রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের দায়িত্ব হচ্ছে গণতন্ত্রকে ফিরে বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করা। সেজন্য মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে জানপ্রাণ জীবন বাজি রেখে আমাদেরকে লড়াই করতে হবে এবং সেই সংগ্রামে আমাদের জয়ী হতে হবে।

 

 

 

 

সরকারকে বাধ্য করতে হবে একদিকে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে, অন্যদিকে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করতে। প্রাণপণ বাজি রেখে লড়াই করতে হবে। বুধবার সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

 

 

সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। তিনি বলেন, বিনা শর্তে, ফোনে ও অনানুষ্ঠানিক সংলাপ হতে পারে।

 

 

 

 

আবার বিএনপির সঙ্গে কোনো সংলাপের প্রয়োজন মনে করছে না আওয়ামী লীগ শুনতে পাচ্ছি তবে সরকারের পক্ষ থেকে যাই বলা হোক না এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে, সরকার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে বসতে বাধ্য হবে। ১৩ আগস্ট একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। মওদুদ আহমদের কথায় সংঘাতের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

 

 

 

 

 

সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে বলেছেন, কোটা সংস্কার ও শিক্ষার্থীদের নিরাপদ সড়কের দাবি সরকার মেনে নিয়েছে। তার পরও আমরা দেখলাম, একটি মহল আন্দোলনকারীদের মধ্যে ঢুকে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

 

 

 

 

 

আগামীতেও দেশে যে কোনো আন্দোলন হলে সরকারবিরোধীরা সেই আন্দোলনের ফসল ঘরে তুলতে চাইবে। কিন্তু আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সরকারবিরোধী যে কোনো আন্দোলন নস্যাৎ করতে তৎপর থাকবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের নামে সব অরাজকতা প্রশাসনিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করা হবে।

 

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারি বাসভবন গণভবন সূত্রে জানা গেছে, গত সপ্তাহে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রধানদের একটি বৈঠক হয়।

 

 

 

 

এতে সবশেষ আন্দোলন এবং আগামী নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে করণীয় বিষয়ে আলোচনা হয়। এর পর গত শনিবার পুলিশ সদর দপ্তরে পুলিশের মহাপরিদর্শক জাবেদ পাটোয়ারীর সভাপতিত্বে বাহিনীর সব ডিআইজি ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের নিয়ে আরও একটি বৈঠক হয়। জানা গেছে, দুটি বৈঠকেই আগামী নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য আন্দোলনের আশঙ্কা এবং তা মোকাবিলায় সরকারের কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্যলে. কর্নেল (অব) মুহাম্মদ ফারুক খান একটি গণমাধমকেকে বলেন, আগামী নির্বাচনের আগে আন্দোলনের নামে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হতে পারে।

 

 

 

 

সে জন্য এখন থেকেই সরকারের সব সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে তীক্ষè দৃষ্টি রাখতে হবে। আমরা নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনের পক্ষে। তবে ধ্বংসাত্মক কোনো আন্দোলন যাতে ছড়িয়ে না পড়ে সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

 

 

 

 

 

লেখক, গবেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান একটি গণমাধ্যমকে বলেন, প্রতিরোধ করতে গেলে তো পরিস্থিতি সংঘাতময় হবেই।

 

 

 

 

 

তবে আশা করা যায় যে তা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। এমন কিছু হবে না যা সমাজকে বিপর্যন্ত করবে। তিনি বলেন, এ সংকট উত্তরণে একটা সংলাপ হতে পারে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ সংলাপ হতে পারে।

 

 

 

 

 

হতে পারে নির্বাচন কমিশনের মধ্যেও। আওয়ামী লীগ ও বিএনপি এ দুটি রাজনৈতিক দল ওয়ান টু ওয়ান আলাপ করতে পারে। আবার যদি সম্ভব হয় তারা নির্বাচন কমিশনের সঙ্গেও আলোচনা করতে পারে। আলোচনার মাধ্যমে একটা সমাধানে আসতে হবে।

 

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক ড. সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী একটি গণমাধ্যমকে বলেন, দুই দলের মুখোমুখি অবস্থানে সংঘাতের আশঙ্কা তো আছেই।

 

 

 

 

আমরা সেটা আশা করব না। আমরা আশা করব এমন একটা নির্বাচন হওয়া যাতে মানুষ ভোট দিতে পারে। তিনি বলেন, গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরের কথা, আগে ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

 

 

 

 

এজন্য যা যা করা প্রয়োজন, সব পদক্ষেপ নিতে হবে। এর মধ্যে সংলাপ একটা পদক্ষেপ হতে পারে। নির্বাচন কমিশনকে শক্তিশালী করা। তারা যদি সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে না পারে প্রয়োজনে তা পুনর্গঠন করা- এসবই করতে হবে।

 

 

 

 

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদ একটি গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী নির্বাচন নিয়ে দুই দলের মধ্যে আবারও বিপরীতমুখী অবস্থান লক্ষ করা যাচ্ছে। এটা কাম্য নয়।

 

 

 

 

 

নির্বাচন নিয়ে তাদের অবশ্যই ঐকমত্যে আসতে হবে। কিন্তু সরকারের সে রকম উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচন হবে কিনা, হলে কেমন নির্বাচন হবে তা নির্ভর করছে সরকারের ওপর।