প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      মঙ্গলবার সকালে চরম অমানবিকতার সাক্ষী রইল ভারতের ফুলেশ্বর স্টেশন। স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে যাত্রীদের বসার বেঞ্চে দীর্ঘক্ষণ পড়ে থেকে কার্যত বিনা চিকিৎসায় বেঘোরে প্রাণ হারালেন এক ব্যক্তি। তাঁর চিকিৎসার জন্য এগিয়ে এলেন না রেল কর্তৃপক্ষ বা পথচলতি কোনও মানুষ কিংবা ট্রেন ধরতে আসা কোনও যাত্রীও।

 

 

 

 

 

রেল পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মৃতের নাম স্বপনকুমার হালদার (৫৫)। তার বাড়ি কলকাতার বেহালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এদিন ভোর থেকে প্ল্যাটফর্মে বসার বেঞ্চে বসেছিলেন তিনি।

 

 

 

 

কিছুক্ষণ পরে ওই বেঞ্চেই শুয়ে পড়েন। অনেকক্ষণ সে ভাবে তিনি পড়ে থাকলেও তাঁকে ডাকার কথা কেউ ভাবেননি। কেউ ফিরেও তাকাননি তাঁর দিকে। কিন্তু সকাল ৮ টা নাগাদ ট্রেন ধরতে আসা এক যাত্রীর সন্দেহ হয়। তিনি তাঁকে ডাকেন।

 

 

 

 

কিন্তু সেই ব্যক্তি সাড়া না দেওয়ায় অন্য যাত্রীরা তখন তাঁকে ওঠানোর জন্য অনেক ডাকাডাকি করেও কোনও সাড়া পাননি। সঙ্গে সঙ্গে তারা রেলপুলিস ও স্টেশন ম্যানেজারকে বিষয়টি জানান। স্টেশনে আসা যাত্রীরা জানান, ‘রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো সত্ত্বেও ওই ব্যক্তির চিকিৎসার জন্য রেল দপ্তর কোনও উদ্যোগ নেয়নি।’

 

 

 

 

 

এইভাবে বেশ কয়েকঘণ্টা কেটে যাওয়ার পর বেলা ১২টা নাগাদ রেল পুলিস স্টেশন থেকে ওই ব্যক্তিকে উদ্ধার করে উলুবেড়িয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

 

 

 

 

এ ব্যাপারে যাত্রীরা বলেন, ‘প্রথমে ভাবা হয়েছিল ওই ব্যক্তি ঘুমোচ্ছেন। কিন্তু তাঁকে অনেক ডাকাডাকি করার পরেও তিনি না ওঠায় রেল কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়।

 

 

 

 

কিন্তু তারপরেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।’ যাত্রীদের দাবি, ‘রেল কর্তৃপক্ষ আরও একটু তৎপর হলে তাঁকে অনেক আগে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া যেত। সেক্ষেত্রে হয়তো তিনি প্রাণে বেঁচে যেতে পারতেন। কিন্তু সকলের চরম উদাসীনতায় প্ল্যাটফর্মেই কার্যত বিনা চিকিৎসায় পড়ে থেকে প্রাণ হারালেন।’

 

 

 

 

 

এদিকে, তাঁর পকেট থেকে পাওয়া একটি ভিজিটিং কার্ড ও মোবাইলের সূত্র ধরে ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে পারে পুলিস। কলকাতার একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মী ওই ব্যক্তি কী কারণে ফুলেশ্বরে এসেছিলেন, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনার পুলিশি তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

পাশাপাশি বিষয়টি জানতে পেরে রেল কর্তৃপক্ষ কেন তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করেনি, তাও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে রেলের এক আধিকারিক জানিয়েছেন। কোনও গাফিলতি থাকলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে রেলের তরফে জানানো হয়েছে।