প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       গোপালগঞ্জের মধুমতী নদীতে আবারও ফেরিডুবির আশঙ্কা করা হচ্ছে। কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ঘাটের ৪ নম্বর ফেরিটির তলদেশে ছিদ্র ও ওপরের অংশ ফেটে যাওয়ায় কালনা ফেরির চালক ও ইজারাদার এই আশঙ্কা করছেন।

 

 

 

 

অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে প্রতিনিয়ত পানি সেচে ফেরিটি চালানো হচ্ছে। ঘাটে আরেকটি ফেরি (১৬ নম্বর) থাকলেও ইঞ্জিনের শক্তি কম থাকায় সেটি চালানো যাচ্ছে না। তাই ঝুঁকির মধ্যেই ৪ নম্বর ফেরি দিয়ে পারাপার করা হচ্ছে শত শত যানবাহন।

 

 

 

 

 

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ মধুমতী নদীর কাশিয়ানী উপজেলার কালনা ফেরিঘাট। প্রতিদিন নড়াইল, যশোর, সাতক্ষীরা, বেনাপোলসহ বেশ কয়েকটি পথের (রুট) ২৫০ থেকে ৩০০ যানবাহন এই ফেরি দিয়ে কালনা-লোহাগড়া (নড়াইল) নৌপথ পারাপার হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

কালনা ফেরিঘাটের ইজারাদার মঞ্জুর হাসান বলেন, ঘাটে দুটি ফেরি রয়েছে। বর্তমানে বর্ষায় নদীতে স্রোত বেশি। তাই ১৬ নম্বর ফেরির ইঞ্জিনের শক্তি কম থাকায় সেটি যানবাহন পারাপারে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

 

 

 

 

৪ নম্বর ফেরিটির তলদেশে বিভিন্ন স্থানে ছিদ্র দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন দুই-তিনবার পাম্প মেশিন দিয়ে সেচ দিতে হয়। এভাবে চলতে থাকলে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ছিদ্র থাকায় ২০১৪ সালের ১৯ জুন রাতে ১৪ নম্বর ফেরিটি ডুবেছিল।

 

 

 

 

 

 

মঞ্জুর হাসান বলেন, ‘১৬ নম্বর ফেরিটি ইঞ্জিন মাত্র ১৫০ হর্স পাওয়ারের। বর্তমানে নদীতে যে স্রোত আছে তাতে ৪০০ থেকে ৪৫০ হর্স পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিন প্রয়োজন। সামনে ঈদ। গাড়ির চাপ বাড়বে।

 

 

 

 

 

এ অবস্থায় একমাত্র ভরসা ছিদ্রযুক্ত ৪ নম্বর ফেরিটি। এটি কোনো কারণে ফেল করলে বা দুর্ঘটনা ঘটলে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাবে। ঘাট স্বাভাবিক করতে দ্রুত একটি নতুন ফেরি ও ১৬ নম্বরের জন্য বেশি পাওয়ারের দুটি ইঞ্জিন প্রয়োজন।’

 

 

 

 

 

 

 

ফেরিচালক (ড্রাইভার) নজরুল ইসলাম বলেন, ঘাটে একটি নতুন ফেরি দরকার। ১৬ নম্বর ফেরিতে ৩০০ থেকে ৪৫০ হর্স পাওয়ারের ইঞ্জিন প্রয়োজন। দ্রুত ৪ নম্বরটি মেরামত করা না হলে আবার দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।

 

 

 

 

 

ফেরির খালাসি মো. মোখলেচুর রহমান বলেন, কালনা ঘাটের ফেরি যানবাহন পারাপারের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এ ছাড়া পন্টুন চারটির মধ্যে তিনটিতেই ছিদ্র। পানি ঢুকে কাত হয়ে আছে। চারটি ঘাটের মধ্যে দুই পাশে দুটি ভালো আর দুটি খারাপ। গাড়ি ওঠা-নামায় খুব সমস্যা হয়।

 

 

 

 

 

কালনা ফেরিঘাটের সুপার ভাইজার বেল্লাল হোসেন, ড্রাইভার হাফিজুর রহমান, আলমগীর হোসেন, শ্রমিক সর্দার মো. আকরাম সরদার, শ্রমিক রেজাউল শেখ, খালাসি ফায়েকুজ্জামান ফায়েক, কাজী মফিজুল ইসলামসহ বেশ কয়েকজন বলেন, তিন শিফটে আটজন ড্রাইভার, একজন সুপারভাইজার, দুজন খালসিসহ ২১ জন ফেরিতে দায়িত্ব পালন করেন।

 

 

 

 

 

তাঁদের খুব কষ্ট করে ফেরি চালু রাখতে হচ্ছে। বারবার জানালেও কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। খান জাহান আলী পরিবহনের চালক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘ফেরি সমস্যার কারণে আমরা ভয়ে ভয়ে পারাপার হই।

 

 

 

 

 

ঘাটের অবস্থাও ভালো না। বিপদ হলে গাড়িতো যাবেই, অনেক মানুষও প্রাণ হারাবে।’ ট্রাকচালক অহিদুল খান বলেন, ‘কালনাঘাটের ফেরি প্রায়ই অকেজো হয়ে পড়ে। ঘাটে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। আমরা এর থেকে রেহাই চাই।’

 

 

 

 

 

সড়ক ও জনপথ বিভাগের ফেরি ডিভিশনের ফরিদপুর অঞ্চলের উপসহকারী প্রকৌশলী আবুল বাশার বলেন, ‘ঘাটে যে ফেরি রয়েছে তার সব কয়টির ইঞ্জিন ভালো।

 

 

 

 

 

এখন নদীতে স্রোত বেশি হওয়ায় একটু সমস্যা হচ্ছে। ১৬ নম্বর ফেরির জন্য বেশি শক্তির ইঞ্জিনের জন্য কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে। নতুন ফেরি দেওয়ার বিষয়টি ফেরি বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।’

 

 

 

 

 

 

গোপালগঞ্জ সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী খ. মো. শরিফুল আলম বলেন, ‘ফেরি ডিভিশন ঢাকা ও ফরিদপুর বিষয়টি দেখভাল করে। আমাদের কাজ ঘাটের দুই পাশের রাস্তা দেখা। এরপরও বিষয়টি ফেরি বিভাগে জানানো হয়েছে। আশা করি, তারা সমস্যাটি দ্রুত সমাধান করবে।’