প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      সিলেট জেলায় এবার ১২টি কুরবানির পশুর হাট বসানোর অনুমোদন দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা প্রশাসন। তবে বৈধ পশুর হাটের সংখ্যা বাড়তে পারে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।

 

 

 

 

এছাড়া জেলার কোথাও অবৈধভাবে পশুর হাট বসতে দেয়া হবে না এবং রাস্তায় জোরপূর্বক গরুবাহী ট্রাক আটকানো যাবে না বলে জানিয়েছেন সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (দক্ষিণ) আ ক ম আক্তারুজ্জামান।

 

 

 

 

 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানান, সিলেট মহানগরী ও শহরতলীতে ১০টি বৈধ পশুর হাট রয়েছে। এগুলো হলো, সিলেট মহানগরীর কোতোয়ালি থানার কাজীর বাজার পশুর হাট, বিমানবন্দর থানার লাক্কাতুরা চা বাগান মসজিদ সংলগ্ন মাঠ, দক্ষিণ সুরমা থানার লালাবাজার পশুর হাট, কামাল বাজার পশুর হাট, নাজিরবাজার পশুর হাট, মোগলাবাজার থানার রেঙ্গা হাজীগঞ্জ বাজার পশুর হাট, জালালপুর পশুর হাট, রাখালগঞ্জ বাজার পশুর হাট, শাহপরান(রহ.)থানার পীরের বাজার পশুর হাট ও খাদিমপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ মাঠ।

 

 

 

 

 

 

এছাড়া সিটি করপোরেশন টেন্ডারের মাধ্যমে সিলেট নগরীর সোবহানীঘাট, চালিবন্দর, ঝালোপাড়া ও কদমতলী এলাকায় আরও চারটি অস্থায়ী পশুর হাটের অনুমোদন দেয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

 

 

 

 

এর বাইরেও নগরীতে অন্তত ১৫টি অবৈধ পশুর হাট বসানো হয়েছে যা রাজনৈতিক এবং বিশেষ প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় বসানো হয়েছে বলে জানা যায়। তবে এসব অবৈধ পশুর হাট উচ্ছেদেও নেই তেমন তৎপরতা।

 

 

 

 

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, রাস্তায় গরুর হাট বসানো যাবে না ঢাকা থেকে এ নির্দেশ পাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশ কমিশনারকে জানানো হয়েছে। এখন এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত তারাই নেবেন।

 

 

 

 

 

অবৈধ পশুর হাটগুলোর মধ্যে রয়েছে, লালটিলা, কয়েদীর মাঠ, আম্বরখানা (আবাসন হাউজিং), আখালিয়া, চন্ডিপুল, মাদিনা মার্কেট, পাঠানটুলা, দর্শন দেউড়ী, হাউজিং এস্টেট, টিলাগড়, বালুচর, শাহী ঈদগাহ, রিকাবীবাজার, মেন্দিবাগ জালালাবাদ গ্যাস অফিসের পেছনে, কদমতলী ফল মার্কেটের সামনে।

 

 

 

 

সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব জানান, অনুমোদন ছাড়া যত্রতত্র অবৈধ হাট উচ্ছেদে অভিযান চালানো হবে।

 

 

 

 

 

এদিকে বহুল অলোচিত শাহী ঈদগাহ সিলেট সদর উপজেলার মালিকানাধীন শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়ামে এবার পশুর হাট বসবে না বলে জানিয়েছেন উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদ। যদিও এরইমধ্যে মাঠে পশুর হাট বসাতে তোড়জোড় শুরু করেছেন ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মীরা। তবে এর সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন আশফাক।

 

 

 

 

 

বুধবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘সদর উপজেলা মাঠটি বর্তমানে শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম নামে নামকরণ করা হয়েছে। কিছুদিন থেকে একটি মহল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি তার নাম ভাঙিয়ে কে বা কারা ষড়যন্ত্রমূলকভাবে পশুর হাট বসানোর পাঁয়তারা করছে।’

 

 

 

 

তিনি বলেন, ‘সিলেট সদর উপজেলা খেলার মাঠে মেলা বা পশুর হাট বসানোর বিপক্ষে সবসময় আমার অবস্থান। বর্তমানে মাঠের উন্নয়নমূলক কাজও চলছে। এবারের ঈদে খেলার মাঠে কোনও পশুর হাট বসবে না। এমনকি হাট যাতে না বসে সেজন্য সবরকমের ব্যবস্থাও নেয়া হবে।’

 

 

 

 

 

 

 

বিবৃতিতে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘যারা আজ এই মাঠ নিয়ে মায়াকান্না দেখাচ্ছেন মূলত এখানে তাদের কোনও অবদান নেই। যে কয়েকবার এই মাঠ হাট বাজারের জন্য ইজারা দেয়া হয়েছে তার সব অর্থ সদর উপজেলা পরিষদের নামে ব্যাংক হিসাবে রাখা হয়েছে।

 

 

 

 

ব্যাংক হিসাবটি যৌথ স্বাক্ষরে পরিচালিত হয়, এখান হতে কোনও নগদ টাকা নেয়ার সুযোগ নেই। অথচ উন্নয়ন বিরোধীরা বলছে এখানে আমার কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য হয়েছে। যা তাদের মনগড়া কথা ছাড়া আর কিছু নয়।’

 

 

 

 

 

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরে মাঠ উন্নয়নের নামে সদর উপজেলা মাঠে পশুর হাট বসানো হয়। যদিও এসব বিষয় বরাবরেই এড়িয়ে যান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশফাক। এবার এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে শাহী ঈদগা মাঠে হাট না বসানোর জন্য প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

এরই প্রেক্ষিতে প্রশাসন সেখানে এবার হাট না বসানোর সিদ্ধান্তে অনড় রয়েছে। তবে ক্ষমতাসীন দলের কতিপয় নেতাকর্মী প্রশাসনের এই ঘোষণাকে উপেক্ষা করে সেখানে হাট বসাতে তৎপর রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

অন্যদিকে, সিলেটের পশুর হাটগুলো অনেকটা ক্রেতা শুন্যই রয়েছে। ঈদের সময় ঘনিয়ে এলেও এখনও জমে উঠেনি প্রবাসী অধ্যুষিত সিলেটের কুরবানির পশুর হাট। বাজারে প্রচুর পশুর সমাগম ঘটলেও হাটগুলোতে নেই ক্রেতা। তবে শেষ মুহূর্তে বেচাকেনা জমার আশায় বসে আছেন বিক্রেতারা।