প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       রাখাইনে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধনযজ্ঞ চালানো ও তাদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় মিয়ানমারের চার সামরিক ও পুলিশ কমান্ডারসহ দুটো সামরিক ইউনিটের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

 

 

 

 

 

গতকাল শুক্রবার মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় এ নিষেধাজ্ঞা আরোপের কথা জানিয়েছে। রোহিঙ্গা নিপীড়নের জবাবে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে এটিই এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া সবচেয়ে কঠোর পদক্ষেপ। বার্তা সংস্থা এপির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

 

আন্ডার সেক্রেটারি ফর টেরোরিজম অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স সাইগল মানডেলকার বলেন, মিয়ানমারের নিরাপত্তা রক্ষাকারী বাহিনী জাতিগত নিধন, ব্যাপক হত্যাযজ্ঞ, যৌন নিপীড়ন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িয়েছে।

 

 

 

 

 

অর্থ মন্ত্রণালয় মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের জবাবদিহিতার আওতায় আনতে ইউনিটগুলো ও এর নেতৃত্বের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে। এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন মিয়ানমারের পশ্চিম সামরিক কমান্ডের প্রধানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

 

 

 

 

 

নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে এসব সামরিক কর্মকর্তাদের সম্পদ থাকলে তা জব্দ করা হবে এবং তাদের সঙ্গে কোনো মার্কিনী লেনদেন করতে পারবেন না। প্রসঙ্গত, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নিধন অভিযানের মুখে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

রাখাইন পরামর্শক প্যানেলের ১২ দফা সুপারিশ
থাইল্যান্ডের নেতৃত্বাধীন রাখাইন পরামর্শক প্যানেল তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সিলর অং সান সু চি’র কাছে জমা দিয়েছে। রাখাইন নিয়ে কফি আনান কমিশনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করতে এতে ১২ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

 

 

 

 

 

তবে এতে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে কোনও সুপারিশ করা হয়নি। গতকাল মিয়ানমারের সংবাদমাধ্যম মিয়ানমার টাইমস এ খবর জানিয়েছে।

 

 

 

 

 

 

প্যানেলের এই দফা পরামর্শের মধ্যে রয়েছে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন যা জাতীয় উদ্যোগ হবে এবং নিরপেক্ষভাবে তা তদন্ত পরিচালনা করবে। সহিংসতাকবলিত এলাকায় সাংবাদিকদের তথ্য সংগ্রহের অনুমতি ও রাখাইনের স্বাস্থ্যসেবা বৃদ্ধি করা।

 

 

 

 

 

 

 

এই পরামর্শক প্যানেলের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন থাইল্যান্ডের সাবেক উপ-প্রধানমন্ত্রী সুরাকিয়ার্ত সাথিরাথাই। সুপারিশমালা সরকার ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। যদিও এই কমিশন নিয়ে ইতোমধ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।