প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শনিবার (১৮ আগস্ট) শপথ নিয়েছেন ক্রিকেটের কিংবদন্তি ইমরান খান। তিনি হচ্ছেন দেশটির ২২তম প্রধানমন্ত্রী।

 

 

 

 

দেশের প্রেসিডেন্ট হাউসে প্রেসিডেন্ট মামনুন হোসাইন নতুন প্রধানমন্ত্রীকে শপথ বাক্য পাঠ করান। সকাল সাড়ে ৯টায় শপথের জন্য সময় নির্ধারিত থাকলেও আধা ঘণ্টার দেরিতে অনুষ্ঠানটি হয়।

 

 

 

 

 

 

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার নভজ্যোত সিংহ সিধু। এ ছাড়াও প্রাক্তন পাক-ক্রিকেটার রামিজ রাজা এবং ওয়াসিম আকরাম উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

১৯৯৬ সালে বাইশ গজের আঙিনা থেকে বেরিয়ে সরাসরি ঢুকে পড়েছিলেন রাজনীতির আঙিনায়। তৈরি করেন নিজের রাজনৈতিক দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)। ক্রিকেটের ময়দানে তার আক্রমণাত্মক ভূমিকা বিশ্বের কারও অজানা নয়। তবে সম্পূর্ণ একটা ভিন্ন আঙিনায় ঢুকেও তার স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিটা কিন্তু উধাও হয়ে যায়নি।

 

 

 

 

 

 

গত ২২ বছর ধরে তিল তিল করে নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করেছেন। ছুটে বেড়িয়েছেন দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। যতটা বেশি সম্ভব মানুষের কাছে পৌঁছনোর লক্ষ্য নিয়ে। টানা বাইশ বছর ধরে নিরলস ও অক্লান্ত পরিশ্রমের ফসল অবশ্য শেষমেশ নিজের ঘরেই তুলে এনেছেন।

 

 

 

 

 

 

দেশকে সুনির্দিষ্ট পথে চালিত করা, দেশকে যারা লুঠ করেছে তাদের বিচারের ব্যবস্থা করা- এমন বেশ কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন ‘কাপ্তান’। তবে তার মাথায় ‘তাজ’ ওঠার পথটাও কিন্তু মসৃণ ছিল ছিল না। নির্বাচনের শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাস ধরা পড়েছিল তার গলায়। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে উঠে আসে পিটিআই।

 

 

 

 

 

 

শুক্রবার (১৬ আগস্ট) পার্লামেন্টে হয়েছে আস্থা ভোট। ম্যাজিক ফিগার ছিল ১৭২। ছোট ছোট দলগুলিকে নিজের দলে টেনে নিয়ে ১৭৬ ভোট অর্জন করে সেই পরীক্ষাও পাশ করেছেন তিনি।

 

 

 

 

যেখানে তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী শাহবাজ শরিফের পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন) পেয়েছে মাত্র ৯৬ ভোট। ইমরানের এই জয় কিন্তু পাকিস্তানের চিরাচরিত ‘প্রথা’কে ভেঙে দিয়েছে।

 

 

 

 

 

কারণ এত দিন পর্যন্ত দেশের ক্ষমতা গিয়েছে হয় পিএমএল-এন এর হাতে, অথবা বেনজির ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি(পিপিপি) এর হাতে। কিন্তু ইমরান ক্ষমতায় এসে সেই দীর্ঘ ‘প্রথা’ ভেঙে চুরমার করে দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

 

ইমরান ক্ষমতায় আসার পরে সেই প্রশ্নটাই ঘুরপাক খাচ্ছে, পারবেন কি ‘কাপ্তান’ তাঁদের পূর্বসূরিদের খোলস থেকে নিজেকে বের করে আনতে? তা সময়ই বলবে।