প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:        স্বামীর সঙ্গে দেওরের স্ত্রীর ‘সুসম্পর্ক’। তা মোটেই ভালোভাবে মেনে নিতে পারেননি গৃহবধূ। এ নিয়ে সংসারে রোজই ঝামেলা লেগে থাকত। সেই ঝামেলা থেকে মুক্তি পেতেই স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলিয়ে দিয়েছে স্বামী।ভারতের দক্ষিণ ২৪ পরগনার পাথরপ্রতিমা থানার বরোদাপুর গ্রামের ঘটনা।

 

 

 

 

 

 

নিহতের নাম সরস্বতী জানা (৩৫)। ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামী নিশিকান্ত জানা, ভাই বউ সুচিত্রা জানা ও মা গঙ্গা জানাকে গ্রেফতার করেছে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ।

 

 

 

 

 

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রায় এগারো বছর আগে নামখানার নারায়ণপুরের বাসিন্দা সরস্বতী মল্লিকের সঙ্গে নিশিকান্ত জানার বিয়ে হয়। তাদের একটি সাত বছরের ছেলেও রয়েছে। অভিযোগ, বেশ কয়েক বছর ধরে নিশিকান্তের সঙ্গে তাঁর ভাইয়ের বউ সুচিত্রার বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক গড়ে ওঠে। যা নিয়ে মাঝেমধ্যেই সংসারে অশান্তি লেগে থাকত।

 

 

 

 

 

 

পরিস্থিতি এতটাই আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছিল যে কিছুদিন আগে সরস্বতী পাথরপ্রতিমা থানায় স্বামীর নামে অভিযোগও জানায়। সমস্যা মেটাতে কয়েকবার গ্রামে সালিশি সভাও হয়। কিন্তু কিছুতেই সমস্যা মেটেনি।

 

 

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে খবর, বিভিন্ন অসামাজিক কাজকর্মের সঙ্গে যুক্ত নিশিকান্ত।মৃতের বাবা হিমাংশু মল্লিকের অভিযোগ, প্রায় পাঁচ বছর আগে দিল্লিতে একটি ধর্ষণের মামলাতেও নাম জড়িয়েছিল নিশিকান্তর। চার বছর জেলও খাটে। চার বছর পর বাড়িতে এসে ছোট ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে নতুন করে সম্পর্কে জড়ায়।

 

 

 

 

 

অভিযোগ, বুধবার রাতে দেওরের বউয়ের সঙ্গে স্বামীকে ঘনিষ্ঠভাবে দেখে ফেলেন সরস্বতী। এই নিয়ে নতুন করে অশান্তি শুরু হয়। সরস্বতীর বাপের বাড়ির লোকেদের অভিযোগ, এই ঘটনার পরই স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন করে নিশিকান্ত।

 

 

 

 

 

 

 

আর খুনের ঘটনায় নিশিকান্তকে মদত দেয় মা গঙ্গা জানা ও ভাইয়ের বউ সুচিত্রা জানা।বৃহস্পতিবার পাথরপ্রতিমা থানায় অভিযোগ দায়ের হয়। এরপরই পুলিশ অভিযুক্ত তিনজনকে গ্রেফতার করে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পাথরপ্রতিমা থানার পুলিশ। মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তে পাঠানো হয়েছে