প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      বাবা থাকে নেশার ঘোরে। অধিকাংশ সময়ই বাইরে বাইরে। আর সেই সুযোগে মা মেতে উঠেছিল পরকীয়া সম্পর্কে। মায়ের এই অবৈধ সম্পর্ক দেখে ফেলায় মৃত্যু ডেকে আনলো ছয় বছরের মেয়েটি। মা ও তার প্রেমিককে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে ফেলায় খুন করা হয় শিশুটি। ঘটনাটি ঘটেছে ভারতের পূর্ব দিল্লির গাজীপুরে।

 

 

 

 

 

জানা যায়, স্বামী ঠেলা গাড়ি চালাত। নেশাও করত সব সময়। আর সেই কারণে সব সময় বাসায় থাকত না সে। আর সেই সুযোগে ওই নারীর পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে অন্যএকজনের সাথে। নিয়মিত তাদের যৌনতাও চলত।

 

 

 

 

 

ঘটনার দিনও প্রেমিক আসে তার বাড়িতে। প্রেমিকের সাথে সময় কাটানোর জন্য মেয়েকে দোকানে পাঠান নারী। তবে শিশুটি দোকান থেকে ফিরে এসে মাকে তার প্রেমিকের সাথে অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখে বাবাকে বলে দেয়ার হুমকি দেয়। আর এটাই কাল হয় মেয়েটির জন্য।

 

 

 

 

 

 

এখানেই শেষ নয়। আরো অভিযোগ, খুনের ঘটনা আড়াল করতে তারপর পুলিশের কাছে বানিয়ে বানিয়ে কালাজাদুর গল্পও ফাঁদে মা।

 

 

 

 

 

পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাতে এক পরিবার এসে জানায় তাদের ৬ বছরের মেয়ে কাজলকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। তদন্ত শুরু করে প্রথমেই নিখোঁজ শিশুকন্যার ছবি হোয়াটসঅ্যাপে ছড়িয়ে দেয়। পাশাপাশি ঘরে ঘরে গিয়ে তল্লাশিও চালানো হয়। কিন্তু সব চেষ্টাই ব্যর্থ হয়। কোথাওই নিখোঁজ শিশুকন্যাকে খুঁজে পাওয়া যায় না।

 

 

 

 

এরপর ওই শিশুর বাড়ির পাশের আবাসনের ছাদে শিশুটির গলাকাটা মৃতদেহ উদ্ধার করে তারা। মেয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হতেই ‘ভেঙে পড়ে’ মা মুন্নি দেবী। এরপরই পুলিশের কাছে গল্প ফাঁদে মুন্নি।

 

 

 

 

 

 

সে জানায়, প্রতিদিনের মতই বিকেলে খেলতে গিয়েছিল কাজল। সেইসময় সে ঘরেই স্বামী ও অপর দুই সন্তানের সঙ্গে ছিল। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও কাজল ঘরে না ফিরলে, খোঁজাখুঁজি শুরু করে তারা। কাজলের বন্ধুদেরকে কাজলের কথা জিজ্ঞেস করতে তারা জানায়, কাজল কোনও ‘অলৌকিক’ কিছুকে দেখে এগিয়ে যায়। তারপর আর তাদের সঙ্গে খেলতে আসেনি।

 

 

 

 

 

 

মৃতদেহ উদ্ধার হতেই, মেয়ের খুনের পিছনে কালাজাদুর হাত রয়েছে বলে দাবি করে মুন্নি। প্রাথমিকভাবে মুন্নির কথা বিশ্বাসযোগ্য বলে মনে হলেও, আরো জিজ্ঞাসাবাদ করতেই কোনো সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারে না সে। তখনই পুলিশের সন্দেহের তীর ঘুরে যায় মুন্নির দিকে। পুলিশের টানা জেরার মুখে ভেঙে পড়ে মুন্নি। মেয়েকে খুনের কথা স্বীকার করে নেয় সে।

 

 

 

 

 

 

জেরায় মুন্নি জানায়, কাজল ছাদে খেলছিল। সেইসময় প্রেমিক সুধীরের সঙ্গে তাকে দেখে ফেলে কাজল। তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখে দৌঁড়ে গিয়ে বাবাকে সেকথা জানাতে যায় কাজল।

 

 

 

 

কোনোমতে তাকে ধরে ফেলে ফের ছাদে নিয়ে আসে মুন্নি। কাউকে কোনো কথা জানাতে কাজলকে বারণ করে সে। কিন্তু মায়ের কথা শুনতে রাজি হয় না কাজল। এরপরই কাজলকে চিরতরে চুপ করিয়ে দিতে প্রেমিক সুধীরের সঙ্গে মিলে তাকে খুনের পরিকল্পনা করে মুন্নি।

 

 

 

 

ছুরি দিয়ে কাজলের গলার নলি কেটে দেয় যুগল। কাজলকে খুনের পর মৃতদেহটি পাশের আবাসনের ছাদে ছুড়ে ফেলে দেয় মুন্নি ও সুধীর। এরপর সুধীর পালিয়ে যায়।

 

 

 

 

 

 

আর মুন্নি বাড়ি ফিরে মেয়েকে খোঁজার ভান করতে শুরু করে। প্রেম গোপন করতে একজন মায়ের এরকম ভয়ঙ্কর ‘কীর্তি’র কথা শুনে স্তম্ভিত পুলিশ। অভিযুক্ত মুন্নি ও সুধীরকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।