প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:        কোরবানি মানেই লাল মাংসের সম্ভার। গরু, খাসি, ভেড়া, মহিষ, উট কিংবা দুম্বার মাংসকে বলা হয় লাল মাংস। এসব মাংসে থাকে প্রচুর পরিমাণ খারাপ জাতের চর্বি। এ খারাপ জাতের চর্বিকে বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয়ে থাকে লো ডেনসিটি লাইপো প্রোটিন। সংক্ষেপে এলডিএল। এটি হৃৎপিন্ডের অন্যতম শত্রু।

 

 

 

 

 

হৃৎপিণ্ডের আরেক শত্রু কোলেস্টেরল। দুই শত্রুরই বসবাস সম্পৃক্ত চর্বিতে। যে চর্বির অন্যতম উৎস পশুর লাল মাংস। এ কারণে কোরবানির মাংস ভোজনে কোলেস্টেরলের কথা মনে রাখতে হবে, বিশেষ করে যাদের রক্তে কোলেস্টেরল মাত্রা বেশি কিংবা বিপদ সীমার কাছাকাছি রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

চর্বি বিদায় করার কৌশল : মাংসের দৃশ্যমান চর্বি মাংস কাটার সময়ই কেটে বাদ দেওয়া যেতে পারে। রান্নার আগে মাংস আগুনে ঝলসে নিলেও খানিকটা চর্বি গলে পড়ে যায়। মাংস হলুদ ও লবণ দিয়ে সিদ্ধ করে ফ্রিজে ঠাণ্ডা করলেও কিছুটা চর্বি মাংস থেকে বেরিয়ে জমাকৃত অবস্থায় থাকবে।

 

 

 

 

 

এ অবস্থায় বাড়তি চর্বিটুকু চামচ দিয়ে আঁচড়ে বাদ দেওয়া খুবই সহজ। আবার মাংস র্যাক বা ঝাঁজরা পাত্রে রেখে অন্য একটি পাত্রের ওপর বসিয়ে চুলোয় দিলে নিচের পাত্রটিতে মাংসের ঝরে যাওয়া চর্বি জমা হবে। এ পদ্ধতিতেও মাংসের মধ্যের কিছুটা চর্বি বিদায় হবে।

 

 

 

 

 

 

কোলেস্টেরল এড়িয়ে চলার উপায় : রান্নার কাজে ঘি ও বাটার অয়েল ব্যবহার না করে সূর্যমুখী বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা যেতে পারে। মিষ্টান্ন তৈরির জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে স্কিমড বা ননিতোলা দুধ। ডিমের তৈরি যে কোনো খাবার থেকে কুসুম বাদ দেওয়া যেতে পারে।

 

 

 

 

 

 

কোলেস্টেরল প্রতিরোধে সালাদ : প্রচুর শাকসবজি, ফলমূল খাদ্যতালিকায় রাখতে হবে। খাবারের সঙ্গে সালাদ রাখতে হবে। সালাদ এবং শাকসবজি খাবারের চর্বি শরীরে শোষিত হতে বাধা দেয়। বিজ্ঞানীদের মতে, প্রতিদিন ১০ গ্রামের মতো দ্রবণীয় আঁশযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে কোলেস্টেরলের পরিমাণ ৫ থেকে ১০ শতাংশ কমতে পারে।

 

 

 

 

 

লেখক : স্বাস্থ্যবিষয়ক নিবন্ধকার এবং চিকিৎসক