প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    আগামীকাল সোমবার থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুশৃঙ্খল করতে গণপরিবহনের দৃশ্যমান জায়গায় চালক-হেলপারদের নাম-ছবি, মোবাইল ও লাইসেন্স নম্বর ঝুলিয়ে রাখাসহ চারটি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শুরু হবে। ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন আনার লক্ষে বৃহস্পতিবার ১৭টি সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। এসব সিদ্ধান্তের কিছু বাস্তবায়নে ইতোমধ্যে মাঠে নেমেছেন পুলিশ, বিআরটিএ ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

রোববার রাজধানীর আব্দুল্লাহপুর থেকে শাহবাগ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি পর্যন্ত ২০টির বেশি স্থান পরিদর্শন করেছেন তারা। ঢাকার কোন জায়গায় আন্ডারপাস ও ফুটওভার ব্রিজ, ইউলুট নির্মাণের প্রয়োজন রয়েছে এমন স্থান চিহ্নিত করেছেন তারা। পরে বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকনের সঙ্গে তার কার্যালয়ে মতবিনিময় সভা হয়। সেখানে কিছু দিক-নির্দেশনা দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

মেয়রের সভাপতিত্বে ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) মো. আবুল কালাম আজাদসহ একাধি মন্ত্রণালয়ের সচিব, আইজিপি ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া ও দুই সিটি কর্পোরেশন কর্মকর্তারা।

 

 

 

 

তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ওই নির্দেশনা সময়োপযুগী ও যুগান্তকারী বলে প্রশংসা করা হলেও তা বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ বলছেন পরিবহন মালিক সংগঠনের নেতারা। এ সিদ্ধান্ত অন্তত ঈদের আগে পুরোপুরি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। ঈদের পর দুই এক মাসের মধ্যে কাছের ও দূরপাল্লার সব ধরনের গণপরিবহনের চালক হেলপারের জীবনববৃত্তান্ত ঝুলিয়ে রাখার কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব।

 

 

 

 

 

সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিটের ‘ঢাকা শহরের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন’ সংক্রান্ত সভায় প্রায় ১৭টি সিদ্ধান্ত হয়। সোমবার চারটির বাস্তবায়ন শুরু হবে। এ জন্য বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট অথরিটি (বিআরটিএ) এবং ঢাকা মহানগর পুলিশকে (ডিএমপি) নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নে বিআরটিএ, বিআরটিসি, বাংলাদেশ পুলিশ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি), ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, ঢাকা জেলা প্রশাসক, বাংলাদেশ স্কাউট, আর্মড ফোর্সেস ডিভিশন এবং শিক্ষা ও তথ্য মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে প্রথম চারটি সিদ্ধান্তই আগামীকাল সোমবারের মধ্যে বাস্তবায়নের জন্য তাগিদ দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

 

সিদ্ধান্ত চারটি হলো:

১. চলন্ত অবস্থায় সব গণপরিবহনের দরজা বন্ধ রাখতে হবে, নির্ধারিত স্টপেজ ছাড়া যাত্রী উঠানামা করা যাবে না।

 

 

 

 

২. গণপরিবহনের দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও হেলপারের ছবিসহ নাম এবং চালকের লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা করতে হবে।

 

 

 

 

৩. সব মোটরসাইকেল ব্যবহারকারীকে (সর্বোচ্চ দুজন আরোহী) বাধ্যতামূলক হেলমেট এবং সিগন্যাল আইন মানতে বাধ্য করতে হবে।

 

 

 

 

৪. সব মহাসড়কে বিশেষত মহাসড়কে চলমান সব পরিবহনে (বিশেষত দূরপাল্লার বাস) চালক এবং যাত্রীর সিটবেল্ট ব্যবহার এবং পরিবহনগুলোকে সিট বেল্ট সংযোজন করতে হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে বিআরটিএ এবং বাংলাদেশ পুলিশ।

 

 

 

 

 

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মীর রেজাউল আলম বলেন, ঢাকার ট্রাফিকে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আমাদের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। চলন্ত গণপরিবহনের দরজা বন্ধ রাখা, নির্ধারিত স্টপেজ ব্যবহার নিশ্চিত করা, গণপরিবহনের দৃশ্যমান দুটি স্থানে চালক ও হেলপারের ছবিসহ নাম, লাইসেন্স ও মোবাইল নম্বর প্রদর্শনের ব্যবস্থা নিতে মালিক-শ্রমিকপক্ষের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে। আশা করছি, এ লক্ষে গৃহীত পদক্ষেপ কাল থেকে বাস্তবায়ন শুরু সম্ভব হবে।

 

 

 

 

বাংলাদেশ বাস ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ফারুক তালুকদার সোহেল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিদ্ধান্তগুলো সময়োপযুগী। এমন সিদ্ধান্তকে আমি সাধুবাদ জানাই। তবে সিদ্ধান্ত যতো ভালোই নেয়া হোক না কেন তা রাতারাতি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কারণ এখন পর্যন্ত পুলিশ কিংবা বিআরটিএ আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেনি। তারা আমাদের সঙ্গে ফরমালি বিষয়টি নিয়ে কথা বললে আমরা সারাদেশের গণপরিবহনের মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ব্যবস্থা নিতে পারবো। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সময়সাপেক্ষ ব্যাপার।

 

 

 

 

 

পরিদর্শন টিমে ও সভায় অংশ নেয়া ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা (অঞ্চল-৫) এসএম অজিয়র রহমান বলেন, সিটি কর্পোরেশন সরাসরি ট্রাফিক ব্যবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা সুষ্ঠু করতে বেশকিছু উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে থাকে। আমরা সেটাই করতে যাচ্ছি। বৃহস্পতিবারের সভায় নেয়া ১৭ সিদ্ধান্তের মধ্যে বাকিগুলো হলো-

 

 

 

 

 

সড়ক ব্যবস্থাপনায় ৯ সিদ্ধান্ত:

১. ১৮ আগস্টের মধ্যে রাজধানীর যেসব স্থানে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস রয়েছে সেসব স্থানের উভয় পাশের ১০০ মিটারের মধ্যে রাস্তা পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি যারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস ব্যবহার করবে তাদের ‘ধন্যবাদ’ কিংবা ‘প্রশংসাসূচক’ সম্বোধনের ব্যবস্থা নিতে হবে।

 

 

 

 

২. ফুটওভার ব্রিজ ও আন্ডারপাসে প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে ২০ আগস্টের মধ্যে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা এবং ৩০ আগস্টের মধ্যে বাইরে আয়নার ব্যবস্থা করতে হবে।

 

 

 

৩. ১৮ আগস্টের মধ্যে শহরের সব সড়কে জেব্রা ক্রসিং ও রোড সাইন দৃশ্যমান করে ফুটপাত দখলমুক্ত ও অবৈধ পার্কিং এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করতে হবে। সড়কের নাম ফলক দৃশ্যমান স্থানে সংযোজন করতে হবে।

 

 

 

 

 

৪. ট্রাফিক সপ্তাহে চলমান কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে হবে। দুই সিটি কর্পোরেশন ও ডিএমপিকে এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে হবে।

 

 

 

 

 

৫. স্বয়ংক্রিয় বৈদ্যুতিক সিগন্যাল ব্যবস্থা চালুর বিষয়ে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণে সিটি কর্পোরেশন কর্তৃক বাস্তবায়িত ট্রাফিক সিগন্যাল ব্যবস্থাপনা কর্তৃত্ব পুলিশকে হস্তান্তর করতে হবে। এ জন্য আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ডিএনসিসি ও ডিএমপিকে সময় দেয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে অনিষ্পন্ন বাংলাদেশ পুলিশ থেকে পাওয়া ‘জনবল’বিষয়ক প্রস্তাবের সব সিদ্ধান্ত সমন্বয়ের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) ফোকাল পয়েন্টে কর্মকর্তা হিসেবে বাংলাদেশ পুলিশ এবং উত্তর এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করবে।

 

 

 

 

 

৬. শহরে রিমোট কন্ট্রোল অটোমেটিক বৈদ্যুতিক সিগন্যালিং পদ্ধতি চালু করা। ১৫ অক্টোবরের মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে ডিএমপি।

 

 

 

 

৭. দুই সিটি কর্পোরেশনকে রোড ডিভাইডারের উচ্চতা বৃদ্ধি বা স্থানের ব্যবস্থাপনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

 

 

 

 

৮. মহাখালী ফ্লাইওভারের পর থেকে ফার্মগেট পর্যন্ত ন্যূনতম দুটি স্থানে স্থায়ী মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে। পাশাপাশি দৈবচয়নের ভিত্তিতে যানবাহনের ফিটনেস এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা নেয়া হবে। শহরের অন্যান্য স্থানেও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী অস্থায়ী অনুরূপ কাজের জন্য মোবাইল কোর্ট বা আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ঢাকা জেলা প্রশাসন, ডিএমপি ও বিআরটিএকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

৯. স্কুল সময়ে যেখানে সেখানে রাস্তা পারাপার বন্ধেও সভায় আলোচনা হয়েছে। এ জন্য শহরের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠান ছুটি বা শুরুর আগে অপেক্ষাকৃত বয়ঃজ্যেষ্ঠ শিক্ষার্থী, স্কাউট এবং বিএনসিসির সহযোগিতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের রাস্তা পারাপারের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিষয়ে সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।

 

 

 

 

ফিটনেস এবং লাইসেন্স-সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত:

১. অবৈধ পরিবহনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, ফিটনেস সনদ প্রদান প্রক্রিয়াতে অবশ্যই পরিবহন দর্শনপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ,

 

 

 

 

২. রুট পারমিট বা ফিটনেসবিহীন যানবাহনগুলোকে দ্রুত ধ্বংস করার সম্ভাব্যতা যাচাই,

 

 

 

 

 

 

৩. লাইসেন্স প্রদান প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ‘লার্নার’ সনদ দেয়ার সময় ড্রাইভিং টেস্ট নেয়া যেতে পারে বলেও মতামত দেয়া হয়েছে। এ ছাড়া উত্তীর্ণদের দ্রুত লাইসেন্স প্রদান,

 

 

 

 

 

৪. কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঘাটতি থাকলে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঘাটতি পূরণে পদক্ষেপ নেবে বিআরটি।