প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনকে রেখে জোট গঠনে তৎপর রাজনীতিবিদরা। আলোচনা, বৈঠক করেছেন কেউ কেউ। আগামী ঈদের পর জোট গঠনের পরিধি আরো বেড়ে যাবে। একই সঙ্গে আন্দোলন ও ঐক্য দুটিই একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছেন বিএনপি। আশির দশক থেকে মূলত দেশে জোটের রাজনীতি শুরু হয়।

 

 

 

 

 

দেশের প্রধান দুই রাজনৈতিক দল জোটবদ্ধভাবে পুরো আশির দশক জুড়ে় এরশাদবিরোধী আন্দোলন করে। এক সময় তা সফলতা পায়। ইতিহাসের পথ ধরে ‘সফলতার আশায়’ বর্তমান সময়ে চলছে জোটের রাজনীতি।

 

 

 

 

 

কোনো রাজনৈতিক এজেন্ডা, বিশেষ করে নির্বাচনে অংশগ্রহণ বা নির্বাচন-পরবর্তী সরকার গঠন নিয়ে একাধিক রাজনৈতিক দলের মধ্যে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে জোট, মোর্চা গঠন করা হয়।

 

 

 

 

 

বৃহত্তর নির্বাচনী জোট গঠন নিয়ে ১৪ দলীয় জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছে ব্যারিস্টার নাজমুল হুদার নেতৃত্বাধীন ৯টি দলের সমন্বয়ে গঠিত জাতীয় জোট। ১৯ জুলাই আওয়ামী লীগ সভাপতির ঢাকার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।

 

 

 

 

এতে অংশ নেয়া জাতীয় জোটের সদস্য দলগুলো হলো- তৃণমূল বিএনপি, গণতান্ত্রিক আন্দোলন, ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স, সম্মিলিত ইসলামিক জোট, কৃষক শ্রমিক পার্টি, একামত আন্দোলন, জাগো দল, ইসলামিক ফ্রন্ট ও গণতান্ত্রিক জোট।

 

 

 

 

বৈঠক শেষে ১৪ দলের মুখপাত্র মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আমরা তাদের আগ্রহের কথা শুনেছি। আমাদের জোটনেত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনাকে বিষয়টি জানাবো। তিনি তাদের গ্রহণ করবেন কি না সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত জানাবেন।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী তোপখানা রোডস্থ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কার্যালয়ে যান। এ সময় ওবায়দুল কাদের সিপিবি সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম ও সাধারণ সম্পাদক শাহ আলমসহ অন্যান্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। রাজনৈতিক পরিস্থিতি, কোটা আন্দোলন, আগামী নির্বাচন এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক জোট নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ২৪ জুলাই এ বৈঠক হয়।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের কট্টর সমালোচক হয়ে উঠা দলের সাবেক নেতা আবদুল কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন ওবায়দুল কাদের। ২৬ জুলাই বিকালে সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রীর কার্যালয়ে এই বৈঠক হয়।

 

 

 

 

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে জোট সম্প্রসারণের বিষয়ে আওয়ামী লীগের যে চিন্তা, আর অংশ হিসেবেই এই বৈঠক হয়। অর্থাৎ কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের নেতাকে জোটে নেয়া বা নির্বাচনী সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়াই এখন বিএনপির মূল টার্গেট। সব দলের অংশগ্রহণে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি আদায়ের মাধ্যমে ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার’, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনই এই ঐক্যের মূল লক্ষ্য।

 

 

 

 

 

২০ দলীয় জোটের বাইরের পাঁচটি দলকে নিয়ে শিগগির ‘বৃহত্তর রাজনৈতিক ঐক্য’ গড়তে যাচ্ছে বিএনপি। দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক করছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

 

 

 

 

 

ঈদুল আজহার পর আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকে পৃথক মঞ্চ থেকে যুগপৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে তারা। কিছু দাবি আদায় হলে বা কৌশলগত অবস্থান নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত হলে দলগুলোকে নিয়ে ‘নির্বাচনী মোর্চা’ করবে বিএনপি। এ বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে তারা।

 

 

 

 

 

 

 

বৃহত্তর এই জোটে অধ্যাপক বদরুদ্দোজা চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিকল্পধারা, ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরাম, আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জেএসডি, বঙ্গবীর আবদুল কাদের সিদ্দিকীর নেতৃত্বাধীন কৃষক-শ্রমিক জনতা লীগ এবং মাহমুদুর রহমান মান্নার নেতৃত্বাধীন নাগরিক ঐক্য থাকছে।

 

 

 

 

 

 

 

২০১৭ সালের ৪ ডিসেম্বর নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নাসহ চারটি রাজনৈতিক দল মিলে ‘যুক্তফ্রন্ট’ নামে নতুন একটি জোট গঠন করা হয়েছে।