প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল বুধবার। কয়েক দিন ধরেই রাজধানীর ২৫টি কোরবানির পশুর হাটে বিকিকিনি চলছে।শেষ দিনে এসে পশুর দড়ি ধরে ক্রেতায়-ক্রেতায় টানাটানির অবস্থায় পড়তে নারাজ নগরবাসী। সে জন্য তারা আগেভাগেই হাটে আসছে। দাম একটু বাড়তির দিকে মনে হলেও কিনে নিচ্ছে পছন্দের পশুটি।

 

 

 

 

 

 

অন্যদিকে ক্রেতার অভাবে লোকসান দিয়ে পশু বিক্রি করে পথে বসার ঝুঁকি নিতে চাইছে না বিক্রেতারাও। মোটামুটি লাভ হলেই তারা ছেড়ে দিচ্ছে পশু। ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়েই শেষ দিনের ‘লটারি’ বা ‘ফাঁদ’ নিয়ে সতর্ক। সে জন্য গতকাল সোমবার প্রতিটি হাটেই ক্রেতার ভিড় ছিল। আজ মঙ্গলবার শেষ দিনে হাটগুলোতে ব্যাপকভাবে ক্রেতার আগমন ঘটবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

গতকাল সকাল থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে বিকিকিনি হয়েছে দেদার।

 

 

 

 

তবে দাম নিয়ে ক্রেতাদের মুখে অভিযোগ ছিল। তারা বলছে, ছোট আর বড় আকারের গরুর দাম তুলনামূলক ঠিক থাকলেও মাঝারি আকারের গরুর দাম বেশি। প্রতিটি গরু কিনতে গুনতে হয়েছে বাজেটের অতিরিক্ত টাকা। খাসির দামও বেশি।

 

 

 

 

 

রাজধানীর বেশ কিছু হাট ঘুরে গতকাল পর্যন্ত কোনো রকম অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। তবে গাবতলী হাটে কয়েকটি গরুতে মোটাতাজাকরণ ভ্যাকসিন দেওয়ার অভিযোগে মালিককে জরিমানা করেছেন র‌্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত। প্রতিটি হাটেই আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশংসা করেছেন কেউ কেউ। অবৈধ হাটও খুব একটা নগরবাসীর চোখে পড়েনি।

 

 

 

 

কমলাপুর হাটে গতকাল গিয়ে দেখা যায়, পশু কেনাবেচার যেন ধুম পড়েছে। সকাল থেকেই দলে দলে ক্রেতারা হাটে আসতে শুরু করে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়তে থাকে ক্রেতার উপস্থিতি। তবে বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক ক্রেতার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সরবরাহে সংকট হতে পারে এমন ধারণা থেকে এবার আগেভাগেই অনেকে পশু কিনে ফেলছে।

 

 

 

 

 

নরসিংদীর মনোহরদীর চালাকচর থেকে ১২টি খাসি নিয়ে এসেছেন সবুজ মিয়া। জানালেন, তার কাছে ১০ হাজার থেকে ২৫ হাজার টাকা দামের খাসি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি খাসি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। এই হাট থেকে মাঝারি আকারের দুটি গরু কেনেন ব্যাংক কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম ও তাঁর ভাই আতিকুল ইসলাম। বললেন, দুটি গরু কিনতে গত বছরের তুলনায় ৫০ হাজার টাকা বেশি লেগেছে।

 

 

 

 

মেহেরপুর সদর এলাকা থেকে সাতটি গরু নিয়ে বুধবার কমলাপুর হাটে আসেন মুকুল মিয়া। জানালেন, ইতিমধ্যে ছয়টি গরু বিক্রি হয়ে গেছে। প্রতিটিতে আট থেকে ১০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে। ভূসির দাম বেশি না হলে আরো লাভ হতো।

 

 

 

 

 

গরুর পাশাপাশি খাসির দামও বেশি বলে অভিযোগ করেন কেউ কেউ। তেজগাঁও এলাকার পশুর হাটে ইজারাদার ও হাসিল আদায়ের দায়িত্বরতদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গরুর চেয়ে খাসি বিক্রি হচ্ছে বেশি। মাঝারি আকারের খাসি ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হয়েছে। একটু ছোট আকারের খাসির দাম আট থেকে ১২ হাজার টাকা। আর বড় আকারের খাসি ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম হাঁকছে বিক্রেতারা।

 

 

 

 

কুষ্টিয়ার খোকসা থেকে আসা ব্যবসায়ী হাতেম আলী ও জালু মিয়া বলেন, ‘আমরা প্রতিবছর ঢাকার হাটে গরু নিয়ে আসি। এবার গরু আনতে ট্রাক ভাড়া বেশি দিতে হয়েছে। রাস্তায় ঝামেলা না থাকলেও হাটে আসার পর প্রতিদিনই খরচ হচ্ছে। সব মিলিয়ে গরুর দাম গতবারের চেয়ে খুব বেশি বাড়েনি, যা বেড়েছে তা পরিবহন ও খাদ্য খরচ। ’

 

 

 

 

 

কুড়িল ৩০০ ফুট রাস্তার পাশে পশুর হাটে গিয়েও বিপুল ক্রেতার সমাগম দেখা যায়। মাদানী এভিনিউ কোরবানির পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, হাজার হাজার পশু নিয়ে এসেছে বিক্রেতারা। রাস্তার দুই পাশে শামিয়ানা টানিয়ে বড় আকৃতির গরু সারি বেঁধে রাখা হয়েছে। বড় গরুর যত্ন করার জন্যও রয়েছে অনেক কর্মী। হাটের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে রয়েছে ইজারাদারের পক্ষ থেকে স্বেচ্ছাসেবক। তারা ট্রাকে করে গরু আসার পর তা নামাতেও সহযোগিতা করছে।

 

 

 

 

 

হাটের পাশেই রয়েছে পুলিশের ওয়াচ টাওয়ার। র‌্যাবের সদস্যরাও তৎপর। এমন পরিবেশে অনেকটা নিশ্চিন্ত মনে পশু কিনতে পারছে ক্রেতারা। এই হাটে ২৫টি গরু নিয়ে আসা ভাই ভাই অ্যাগ্রো ফার্মের মালিক আফাজ উদ্দিন মোড়ল জানান, তিনি ২৫টি গরু এনেছেন। মাঝারি আকারের গরু একেকটি ৮০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দাম চাচ্ছেন। আটটি বিক্রি হলেও আশানুরূপ দাম না বলায় বাকিগুলো বিক্রি করতে পারেননি।

 

 

 

 

গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার পাশাপাশি দুম্বা, এমনকি উটও পাওয়া যাচ্ছে গাবতলী হাটে। এখানে সবচেয়ে বড় গরুটির দাম ১৮ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে বলে জানা গেল। খাসির দাম চাওয়া হচ্ছে সাত হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। উটের দাম হাঁকা হচ্ছে পাঁচ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। রাজধানীর একমাত্র স্থায়ী হাটটিতে বিক্রেতারা ত্রিপল টাঙিয়ে বড় গরুগুলো রাখার ব্যবস্থা করেছে। হাট পরিচালনা কমিটির সদস্যরা জানান, ব্যবসায়ীরা নিজ উদ্যোগেই ত্রিপল দিয়ে শামিয়ানা করে নিচ্ছে।

 

 

 

 

 

রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে জমজমাট বিকিকিনির সুবাদে ইজারাদাররাও খুশি। যদিও বেশির ভাগ হাটের ক্ষেত্রে নিলামেই সিটি করপোরেশন কাঙ্ক্ষিত দর পায়নি। ফলে ২৫টি হাটে দুই সিটি করপোরেশন কয়েক কোটি টাকা রাজস্ব কম পাচ্ছে। ভাটারা (সাঈদনগর) হাটের ইজারা পেয়েছেন মারফত আলী। তিনি এই হাটটি দুই কোটি ২৯ লাখ টাকা দিয়ে ইজারা পেয়েছেন। বিশাল এই হাটে কমপক্ষে পাঁচ কোটি টাকা হাসিল আদায় হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘আমাদের সব হাট ইজারা দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারি বিধিবিধান মেনে নেওয়া হয়েছে। যেগুলোর ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্য পাওয়া যায়নি সেখানে খাস আদায়ের জন্য আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের বলা হয়েছে। ’