প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       কাজল দেবগন একজন ভারতীয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী। তিনি ‘কাজল’ নামেই সমধিক পরিচিত। ভারতের মুম্বাই শহরে জন্ম নেয়া কাজল পরিচালক সমু মুখার্জী ও অভিনেত্রী তনুজা দম্পতির কন্যা এবং অভিনেতা অজয় দেবগনের স্ত্রী।

 

 

 

 

 

কাজল ভারতের অন্যতম সফল এবং সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত অভিনেত্রী। কাজলের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয় ১৯৯২ সালে তার মায়ের সাথে রোম্যান্টিক বেখুদি চলচ্চিত্রে। তার প্রথম বাণিজ্যিক সফল চলচ্চিত্র হল থ্রিলারধর্মী বাজীগর (১৯৯৩)।

 

 

 

 

 

১৯৯৭ সালে রহস্য চলচ্চিত্র গুপ্ত: দ্য হিডেন ট্রুথ এবং ১৯৯৮ সালে মনস্তাত্ত্বিক থ্রিলার দুশমন তাকে খ্যাতি এনে দেয়। বর্তমানে তিনি দুই সন্তানের জননী। সম্প্রতি তিনি আনন্দবাজার পত্রিকার মুখোমুখি হয়েছেন। সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ জাগো নিউজের পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো-

 

 

 

 

 

প্র: টিনএজার মেয়ের মা আপনি। সামলান কীভাবে?

উ: টিনএজেই ছেলেমেয়েদের ব্যক্তিত্ব তৈরি হয়ে যায়। নিজেদের স্বতন্ত্র পছন্দ, মতামত গড়ে ওঠে। আর আমরা মা-বাবারা সেটা অনেক দেরিতে বুঝি। আমার নিজেরও বুঝতে অনেক সময় লেগেছিল। এই বয়সে বাচ্চাদের সময় দিতে হয়। তাতে দেখবেন, আপনি যে রকম চাইছেন সেটাই হবে। আমার আর নাইসার অনেক বিষয়ে তর্ক হয়। ও নিজের মতো চলতে চায়। আমার মতে, ওদের ছেড়ে দেয়া উচিত। ভুল পথে গেলে আমরা তো আছিই। কিন্তু কাপ গরম কি না, সেটা ওরা নিজেরাই পরখ করে দেখুক। ভালো-খারাপ নিজেরাই বুঝে নিক।

 

 

 

 

 

প্র: যুগ আর নাইসার (দুই সন্তান) ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে সতর্ক থাকেন?

উ: আমি ব্যালান্স করে চলি। টিভি দেখা আর পড়াশোনা করার পরেও একটা পৃথিবী আছে। আজকের দুনিয়া খুবই কম্পিটিটিভ। সেখানে তাল মিলিয়ে চলতে হবে। মা হিসেবে কখনওই চাইব না যে, যুগ-নাইসা কোনো কিছু মিস করুক।

 

 

 

 

 

 

প্র: ছেলে না মেয়ে— কার অভিভাবক হওয়াটা বেশি কঠিন?

উ: ছেলে বা মেয়ে হিসেবে বলব না। আসলে প্রথম সন্তানকে বড় করা সবচেয়ে কঠিন। প্রথম সন্তানের সামান্য জ্বর হলেও মনে হয় সুনামি এসেছে। দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে প্যানিক কম হয়।

 

 

 

 

 

 

প্র: নাইসা তো বিদেশে পড়তে গিয়েছে। খুব মিস করেন নিশ্চয়ই?

উ: ভীষণ। আমিতো সময় পেলেই সিঙ্গাপুর চলে যাই। সারাক্ষণ টেক্সট করছি, ‘মিস ইউ’ লিখছি। নাইসা উল্টে আমাকে বলে, ‘নো ড্রামা, মা’ (হেসে)! প্রথম তিন মাস আমাদের সকলের জন্য খুব কঠিন ছিল। কিন্তু এখন ওর ওখানে কিছু ভাল বন্ধু হয়েছে। তাই খানিকটা সেটল করেছে।

 

 

 

 

 

প্র: মেয়ে কি অভিনয় জগতে আসতে চায়?

উ: নাইসা এ নিয়ে কিছু জানায়নি। যদি আসতে চায়, আমার আর অজয়ের পুরো সমর্থন থাকবে। যুগ এখন ছোট আর কনফিউসডও। ফিটনেস সংক্রান্ত বিষয় ওর খুব ভাল লাগে। তাই ওকে মার্শাল আর্ট শেখাচ্ছি।

 

 

 

 

 

 

প্র: অভিনেতাদের সন্তানরা শুরু থেকেই প্রচারে। এতে তো নিশ্চয়ই সমস্যা হয়।

উ: প্রথম প্রথম ওদের খুব অসুবিধা হতো। এত বেশি অ্যাটেনশন কার ভাল লাগে! এয়ারপোর্টে বা কোনো পাবলিক প্লেসে আমি সবসময়ে ওদের সঙ্গে থাকতাম। বলতাম, কোনো দিকে না তাকিয়ে সোজা গাড়িতে উঠতে। নাইসাকে নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক কিছু লেখা হতো। কারও কথায় কান না দিয়ে নিজের ওপরে আত্মবিশ্বাস রাখতে বলতাম। আর নাইসা তো আমার মতো ভীষণ পাগল, জেদি। (খুব জোরে হেসে) ওকে সব সময়ে বলি, এই জেদ ভাল কাজে লাগাও।

 

 

 

 

 

 

প্র: এত কম কাজ করেন। তাও আপনাকে নিয়ে আগ্রহ কম নেই!

উ: কম কাজ করি বলেই সকলের আগ্রহ থাকে। ভালো স্ক্রিপ্ট আর ভালো গল্প খুব কম পাই। খারাপ চিত্রনাট্য বা চরিত্রের পেছনে নিজের পরিশ্রম দিতে চাই না।

 

 

 

 

 

 

প্র: ‘হেলিকপ্টার ইলা’র জন্য আপনি না অজয় কে আগে রাজি হলেন?

উ: চিত্রনাট্য শুনে আমি আর অজয় দু’জনেই কানেক্ট করতে পেরেছিলাম। আমি অভিনয় করতে রাজি হয়ে যাই। আর অজয় বলে, ও প্রোডিউস করবে। দাদার (প্রদীপ সরকার) সঙ্গে কাজ করার সুযোগ ছাড়তে চাইনি। ওর সঙ্গে আগে বিজ্ঞাপন করেছি। ভীষণ ভালো অভিজ্ঞতা। আসলে আমরা অনেক দিন ধরেই একসঙ্গে কাজ করতে চাইছিলাম। কিন্তু ভালো কোনো বিষয় পাচ্ছিলাম না। আমি আর দাদা একে অপরের ভক্ত! যেদিন সেটে আমার কাজ থাকত না, সেদিনও দাদা আমাকে আসতে বলতেন। ছবির শেষে মনে হয়েছে, উনি আমার সেরাটা বার করে এনেছেন। বলেছি, পরের ছবিতে ওকে অ্যাসিস্ট করব (হাসি)!

 

 

 

 

 

 

প্র: বাংলা ছবি করতে চান?

উ: চাই। তবে ভাষার ব্যাপারে একদম কনফিডেন্ট নই। ভাষার ওপরে দখল না থাকলে সেই ছবি করা উচিত নয়। একটা অসাধারণ স্ক্রিপ্ট আর এক জন আউটস্ট্যান্ডিং ডিরেক্টরের সঙ্গে বাংলা ছবি করার অপেক্ষায় আছি।

 

 

 

 

 

 

প্র: জীবনের এই পর্যায়ে এসে নতুন জিনিস শিখতে ইচ্ছা করে?

উ: মা হিসেবে নিত্যনতুন জিনিস শিখছি। নাইসা আর যুগ আমাকে নতুন গান, নতুন নাচের স্টাইল, নতুন গ্যাজেট সম্পর্কে শেখাতেই থাকে। এক সময়ে খুব লিখতে ভালোবাসতাম। এখন আর সময় পাই না। লেখার জন্য নিরবচ্ছিন্ন সময় চাই। সেটা যেদিন পাব, সেদিন আবার লিখতে শুরু করব।

 

 

 

 

 

 

প্র: আত্মজীবনী লিখবেন?

উ: (জোরে জোরে মাথা নেড়ে) একদম না। কোনো দিন না। আমার পার্সোনালিটি খুব ইন্টারেস্টিং, কিন্তু আমি মানুষটা বোরিং। সবসময়ে ভাবি- মিডিয়া আমাকে কী প্রশ্ন করবে? আমিতো কোনো দিনই গসিপ বা মসলা দিতে পারি না।

 

 

 

 

 

 

 

প্র: তাহলে আপনার বায়োপিকও কোনো দিন হবে না?

উ: কোনো দিন নয়। তবে দিদা শোভনা সমর্থ আর মায়ের বায়োপিক দেখতে চাই। আর মিস্টার অমিতাভ বচ্চনের বায়োপিক নিয়েও আগ্রহ রয়েছে। সেখান থেকেই কত কিছু শেখা যাবে।

 

 

 

 

 

 

 

প্র: নিজেকে খুশি রাখেন কীভাবে? মিডলাইফ ক্রাইসিসে ভোগেন?

উ: (খুব জোরে হেসে) মিডলাইফে আমি পৌঁছেছি নাকি! নিজের সঙ্গে কথা বলি। এমনিতেই আমি কথা বলতে ভীষণ ভালবাসি। পজিটিভ থাকার চেষ্টা করি। নেগেটিভিটি থেকে দূরে থাকি। ওয়ার্কআউট করি। বাচ্চাদের সঙ্গে সময় কাটাই। এক কথায় যেভাবে পারি, নিজেকে খুশি রাখার চেষ্টা করি।