প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       আজকের রাত ফুরোলেই কাল পবিত্র ঈদুল আযহা। আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভে একের পর এক পশু কোরবানি হবে। কোরবানির দিন যে পরিমাণ মাংস একবারে ঘরে তোলা হয়, তা বোধহয় সারা বছরেও হয় না।

 

 

 

 

 

ফলে মাংস সংরক্ষণ কঠিন এক বিষয়ে হয় ওঠে। যাদের ফ্রিজ রয়েছে তাদের তেমন চিন্তা নেই। কিন্তু যাদের ফ্রিজের সুবিধা নেই তাদের জন্য মাংস সংরক্ষণ বেশ চিন্তার বিষয়। তবুও সংরক্ষণের পদ্ধতি রয়েছে। এখানে জেনে নিন। বেশ অনেক দিন পর্যন্ত মাংস ভালো রেখে খেতে পারবেন।

 

 

 

 

 

চুলায় জ্বাল দিয়ে সংরক্ষণ
এটা বহুল প্রচলিত ও পরিচিত এক পদ্ধতি। চুলায় মাংস জ্বাল দিয়ে তা বেশ কিছু দিন সংরক্ষণ করা যায়। এ ক্ষেত্রে মাংসে চর্বির পরিমাণ যদি কিছু বেশি থাকে, তবে ভালো হয়। চর্বি বেশি থাকলে মাংস দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। মাংসের পরিমাণ অনুযায়ী এই মাপের একটি হাঁড়ি নিতে হবে।

 

 

 

 

 

প্রথমেই মাংস ভালো করে ধুয়ে নিন। সেই হাঁড়িতে মাংস নিয়ে তাতে পরিমাণমতো লবণ ও হলুদ মেশাতে হবে। পরিমাণ মতো পানি দিয়ে জ্বাল দিতে থাকুন। মনে রাখবেন, এই মাংস কিন্তু দিনে নিয়ম করে অন্তত ২ বার জ্বাল করতে হবে। এখানে মাংস বেশ অনেকদিন ভালো থাকে।

 

 

 

 

 

রোদে শুকিয়ে মাংস সংরক্ষণ
রোদে শুকিয়েও কিন্তু মাংস সংরক্ষণ করা যায়। এভাবে মাংস কিন্তু দীর্ঘদিন ভালো থাকে। রেখে দিয়ে বহু দিন ধরে খাওয়া যায়। এর জন্য আর চর্বি ছাড়া মাংস নিতে হবে। প্রথমে মাংস পরিষ্কার করে ধুয়ে ছোট টুকরা করে নিন।

 

 

 

 

এবার তারে বা শিকে একটার পর একটা মাংস গেঁথে নিন। এবার এগুলো রোদে দিন। চুলার ওপরে তার বেঁধেও আগুনের তাপে মাংস শুকানো যায়। এই উপায়ে মাংস সংরক্ষণ করলে মাংসের সমস্ত পানি টেনে মাংস একদম শুকিয়ে যায়, ফলে দীর্ঘদিন তা ভালো থাকে।

 

 

 

 

 

রোদে মাংস শুকাতে হলে পাতলা কাপড় বা নেট দিয়ে মাংস ঢেকে দিন। এতে করে ধুলোবালি পড়ে মাংস নোংরা হবে না। পর পর ৫-৬ দিন মাংস রোদে দিন। মাংস শুকিয়ে একদম শক্ত হলে মুখ বন্ধ করা পাত্রে বা টিনের কৌটায় মাংস ভরে ভালমতো মুখ বন্ধ করে রাখুন।

 

 

 

 

 

 

মাঝে মাঝে কৌটা ধরে মাংস রোদে দিন। তাহলে পোকার আক্রমণ হবে না। রোদে শুকানো মাংস রান্না করার আগে কমপক্ষে ১ ঘণ্টা হালকা গরম পানিতে মাংস ভিজিয়ে রাখুন, এতে মাংস নরম হবে।

 

 

 

 

 

লবণ দিয়ে শোকানো
এই পদ্ধিতকে বলা হয় ‘কিউরিং’। মাংসস ধুয়ে নিয়ে তাতে লবণ মেখে রোদে শুকাতে দিতে হবে। লবণ আসলে মাংসকে জীবাণুমুক্ত করে ফেলে। ফলে অনেক দিন পর্যন্ত মাংস ভালো থাকে। লবণ মাখার সময়ই মাংসের পানি বেরিয়ে যায়। বাকি কাজ আগেরটির মতোই।

 

 

 

 

 

 

কাঁচা সংরক্ষণ
এ পদ্ধতিতে কাঁচা মাংস কিউব আকারে কেটে নিতে হয়। পরে এতে লবণ মাখিয়ে ক্যানের মধ্যে সংরক্ষণ করতে হয়। এর ক্যানটা অবশ্যই বায়ুমুক্ত করতে হবে। মাংসসহ ক্যানগুলোকে রোদ থেকে দূরে রাখা জরুরি।