প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     নির্ধারিত দামেও পশুর চামড়া কিনতে রাজি হচ্ছেন না ট্যানারি মালিকরা। এতে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমী চামড়া ব্যবসায়ীরা। লাভের আশায় চামড়া কিনে বড় লোকসানের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা।

 

 

 

 

এবার ঢাকায় লবণযুক্ত প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫-৫০ টাকা আর ঢাকার বাইরে ৩৫-৪০ টাকা। এ ছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ১৮-২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩-১৫ টাকা।

 

 

 

 

 

তবে মৌসুমি ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, পশুর চামড়া কিনে বিপদে পড়েছেন তারা। বাড়ি বাড়ি ঘুরে কেনা কুরবানির চামড়া ন্যায্য মূল্যে আড়তে বিক্রি করতে পারছেন না। সরকার নির্ধারিত দামেও চামড়া কিনতে চাইছেন না আড়তদার ও ট্যানারি মালিকরা।

 

 

 

 

 

ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ী ওসমান মোল্লা জানান, আমরা চামড়া কেনার আগে ট্যানারি মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রতি ফিট চামড়া ৪০ টাকা মূল্য নির্ধারণ করে নেই। সেই অনুযায়ী আমরা বিভিন্ন এলাকা থেকে চামড়া ক্রয় করে তা বিক্রির জন্য সাভার চামড়া শিল্পনগরীতে নিয়ে গিয়েছি।

 

 

 

 

কিন্তু এখন ট্যানারি মালিকদের সে কথাও রাখছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়া বিক্রি হচ্ছে না জানিয়ে তারা আগের নির্ধারিত মূল্য দিয়ে কোনো চামড়া ক্রয় করবে না বলে পরিষ্কার বলে দিচ্ছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, অনেকেই দূর-দুরান্ত থেকে চামড়া নিয়ে ট্যানারিতে এসেছে একটু লাভের আশায়। কিন্তু তাদের সে আশায় গুঁড়েবালি। এখানকার ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে চামড়ার দাম কমিয়ে ফেলেছে। যে কারণে মৌসুমী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা ট্রাক ভাড়া করে চামড়া নিয়ে পড়েছেন বিপাকে।

 

 

 

 

 

 

এখন তারা চামড়া ফেরতও নিয়ে যেতে পারছে না আবার কম দামে বিক্রিও করতে চাইছে না। ফলে এসব ব্যবসায়ীদেরকে চামড়া নিয়ে বিভিন্ন ট্যানারি মালিকদের কাছে ধরনা দিচ্ছে। কিন্তু ট্যানারি মালিকরা যে দামে চামড়া কিনতে চাইছেন তা দিয়ে গাড়ি ভাড়াও উঠবে না অনেক ব্যবসায়ীর। এরইমধ্যে অনেক ব্যবসায়ী লবণ না দেওয়ায় পচতে শুরু করেছে তাদের সংগ্রহ করা চামড়া।

 

 

 

 

 

এদিকে, চামড়া নিয়ে বিভিন্ন ট্যানারিতে ঘুরে ক্লান্ত অনেক ব্যবসায়ীকে মাথায় হাত দিয়ে বসে থাকতে দেখা গেছে। প্রতিটি চামড়া অর্ধেকের চেয়েও বেশি লোকসান হওয়ার তারা যেন চোখে অন্ধকার দেখছেন।

 

 

 

 

 

তবে, এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ। তার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার বাজার ভালো না। যে কারণে দেশেও দাম কমেছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, আমরা বিভিন্ন দিক বিবেচনা করে চামড়ার দাম র্নিধারণ করি। চামড়ার গ্রেডিংয়ের ওপর ভিত্তি করে দাম নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু মৌসুমি ব্যবসায়ীরা গ্রেডিং না বুঝেই শুধু সাইজ দেখে চামড়া কেনেন। এতে তাদের কেনা দামে হেরফের হয়।