প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     গত বছরের আগস্টের শেষ সপ্তাহে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে শুরু হয় রোহিঙ্গাদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনীর অমানবিক নির্যাতন। ফলে প্রাণ বাচাঁতে বানের পানির মতো বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে শুরু করে রোহিঙ্গারা। আজ শনিবার পুরণ হলো এক বছর। আর এ দিনকে তাদের জীবনের কাল দিন হিসেবে ঘোষণা করেছে বাস্ত্যু রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী।

 

 

 

 

সকাল থেকে উখিয়া টেকনাফের প্রধান সড়ক ও ৩০ টি ক্যাম্পে রাখাইনে গণহত্যা বন্ধ ও নিরাপদ প্রত্যাবাসনের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে রোহিঙ্গারা। তারা নিজ দেশে ফিরতে চাই। তবে সে ফিরা যেন নিরাপদ হয়।একই সঙ্গে বাংলাদেশে আশ্রয় দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এবং এদেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তারা।

 

 

 

 

 

গত বছর এইদিনে নিজ দেশের সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে প্রাণ হারান অসংখ্য রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশু। জীবন বাঁচাতে সেইদিন থেকে বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে শুরু করে মিয়ানমারের রাখাইনের রোহিঙ্গারা। আর এসব রোহিঙ্গাদের প্রথমে স্থানীয় জনগণ মানবিক কারণে আশ্রয় দেয়। পরে প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা দিয়ে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেন।এরপর উখিয়া টেকনাফে ৩০ টি ক্যাম্প করে তাদের আশ্রয় দিয়ে খাদ্যসহ সব কিছু সরবরাহ করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

আজকের এ দিনকে কাল দিবস হিবেসে পালনের লক্ষে সকাল ৯ টা থেকে জেলা ১১টা পর্যন্ত উখিয়ার কুতুপালং, বালুখালী, মধুরছড়া ও টেকনাফের নয়াপাড়া, মুছনি ক্যাম্প সহ ক্যাম্পের বিভিন্ন স্থানে একযোগে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে রোহিঙ্গারা। সে সঙ্গে চলে মানববন্ধন আর সমাবেশ। কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের পাশপাশি কুতুপালং ৩ নং ব্লকে সমাবেশ করে রোহিঙ্গারা। সেখানে রোহিঙ্গা নেতারা বক্তব্য রাখেন। এসময় তারা নাগরিক অধিকার ফিরিয়ে দিয়ে নিরাপদ প্রত্যাবসনের দাবি জানান। এছাড়া সেদিনের ঘটনায় মিয়ানমারের সামরিক জান্তা সরকারের আন্তর্জাতিক আদালতের বিচারের মুখোমুখি করার আহবানও জানানো হয়।

 

 

 

 

 

মিছিলে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা নারী মাহমুদা বেগম  বলেন, ‘২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমার সেনার গুলিতে প্রাণ হারিয়েছে আমার বাবা। আমার বোনকে ধর্ষণ করে হত্যা করা হয়েছে। আমাকে নিয়ে মা এদেশে পালিয়ে আসার পথে মারা গেছে। সব হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছি। এখনে এসে এক আত্বীয়কে বাধ্য হয়ে বিয়ে করেছি। তারপরও আমি আমার দেশে ফিরে যেতে চাই। এই কারণে আমি বিক্ষোভে অংশগ্রহন করেছি।’

 

 

 

 

 

 

বিক্ষোভটি কারা আয়োজন করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘নায্য অধিকার আদায়ের জন্য কোন কিছুই আয়োজন করতে হয়না। এখানে সবাই স্বতস্ফূর্তভাবে এসেছে।’

 

 

 

 

বিক্ষোভ মিছিলে থাকা ফরিদুল আলম নামের এক রোহিঙ্গা বলেন, ‘আর্ন্তজাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই আমরা আজকের এই বিক্ষোভ করেছি। আমরা কি চাই তাই জানানোর জন্যই আমাদের এইপ্রয়াস।

 

 

 

 

তিনি আরো বলেন, আমরা যুদ্ধ চাই না , শান্তি চাই। নিজ দেশে ফিরে যেতে চাই। আর সেজন্য আর্ন্তজাতিক মহলের সহযোগীতা। আমরা সেদিন ঘটনার জন্য দোষিদের বিচার চাই।’

 

 

 

 

 

কুতুপালং সমাবেশে অংশ নেয়া,আবুল হোসে,মঈন উদ্দিন,আবু আহমদ,আজগর আলী সহ কয়েকজন রোহিঙ্গা বলেন‘,আমরা এখানে অনেক ভালো আছি, আমাদের আশ্রয় দে্রয়ার জন্য বাংলাদেশের মানুষ আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ।’

 

 

 

 

সমাবেশে অংশ নেওয়া ফরিদুল আলম বলেন, ‘আজকের দিন টি আমাদের কাছে কালো দিন, এ দিনটি গণহত্যার দিন। তাই এটিকে আমরা বিশ্ববাসীর কাছে গণহত্যা দিবস করার আহবান জানাচ্ছি।’

 

 

 

 

কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের কুতুপাং বাজারে লাল পতাকা নিয়ে বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া রোহিঙ্গা যুবক রহিম উল্লাহ বলেন, ‘আমরা চাই আমাদের মাতৃভূমি মিয়ানমারে ফেরত যেতে। এজন্য আমাদের নিরাপদ পরিবেশ, নাগরিকত্ব ও একটি রাষ্ট্রের যাবতীয় সুযোগ সুবিধা প্রদান করতে হবে।’

 

 

 

 

 

 

এদিকে কালোদিবস উপলক্ষে কুতুপালং ক্যাম্পে ব্লক ৩ আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে রোহিঙ্গা নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশকে সরকার ধন্যবাদ। আমাদেরকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য। কিন্তু আমরা কতদিন এদেশে থাকব। আমরা দিনে দিনে এদেশের বোঝাতে পরিণত হচ্ছি। তাই আমরা ফিরে যেতে চাই স্বদেশে। আন্তর্জাতিক মহলকে অনুরোধ করব মিয়ানমারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন যাতে সরকার দ্রুত আমাদের নিয়ে যায়। নিরাপদ প্রত্যাবসন বিলম্ব করতে মিয়ানমার সামরিক জান্তা তালবাহানা শুরু করেছে। বিশ্বমোড়লরা কেন মিয়ানমার সরকার ও সেনাবাহিনীর বিষয়ে নিশ্চুপ এটি আমাদের মাথায় ডুকছে না।’

 

 

 

 

 

 

উখিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবুল বলেন, ‘আজ সকাল থেকে হঠাৎ করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গারা রাস্তার নামার চেষ্টা করে। এতে আমরা বাধা দেয় এবং ক্যাম্পের ভিতরে শান্তিপূর্ণভাবে তাদের বিক্ষোভ সমাবেশ করার অনুরোধ জানায়।

 

 

 

 

 

 

 

 

পরে উখিয়া ও বালুখালীর বিভিন্ন ক্যাম্পে রোহিঙ্গারা তাদের কর্মসূচি পালন করে। প্রায় দুই ঘন্টা ধরে রোহিঙ্গারা প্রতিবাদ সরূপ তাদের কর্মসূচি পালন করে। এতে কোনো ধরণের অপ্রীতিকার ঘটনা ঘটেনি।’