প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      ১৪ দলীয় জোটের নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের মেয়াদ শেষ হচ্ছে ২৮ জানুয়ারি। সে অনুযায়ী আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে ২৮ জানুয়ারির মধ্যে সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্বাচনি মাঠে নেমে পড়েছে সরকারি দল আওয়ামী লীগ। কোরবানির ঈদকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা এবং গ্রামে গ্রামে জোরেশোরে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছে দলটি। নির্বাচনী এই প্রচার-প্রচারণায় দিনে দিনে নতুন নতুন মাত্রা আরও বাড়ানো হবে।

 

 

 

 

 

শনিবার আওয়ামী লীগের বেশ কয়েকজন নেতার সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

 

 

 

 

অবশ্য দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা একটি নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই অন্য নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে থাকে। সেই হিসেবে তারা সব সময়ই নির্বাচনি প্রচারণা নিয়ে মাঠে রয়েছে। আর তারা একাদশ সংসদ নির্বাচনের জন্য এ বছরের শুরু থেকেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রচারণায় রয়েছে। ক্রমে এই গতি বাড়ছে। আগামী দিনেও বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

 

 

 

 

 

জানা গেছে, ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচনের তফসিল হবে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে। ফলে নির্বাচনের জন্য আর মাত্র চার মাসের মতো সময় বাকি রয়েছে। দলীয় সূত্র জানায়, গত ২৬ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় নেতারা ১৫টি টিমে বিভক্ত হয়ে দেশব্যাপী সাংগঠনিক সফরের মধ্য দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণায় নেমেছেন।

 

 

 

 

 

ওই টিম এরই মধ্যে সাংগঠনিক জেলায় সফর শেষ করেছে। এছাড়া দলের প্রতিটি সংসদীয় আসনে দলের নেতারা যাচ্ছেন; বিভিন্ন সভা, সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছেন। সাধারণ জনগণ যেন আবারও নৌকায় ভোট দেন সে আহ্বান জানানো হচ্ছে। এর বাইরে দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও দেশের বিভিন্ন এলাকা সফর করছেন।প্রথমে তিনি বিভাগীয় শহরগুলোতে যান। এখন তিনি জেলা পর্যায়ে সফর করছেন। আগামী অক্টোবরের শেষ দিকে ‘নির্বাচনকালীন সরকার’ গঠনের আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এই সফর চলবে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে নির্বাচনি প্রচারণার পাশাপাশি নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সরকারি দল আওয়ামী লীগ কেন্দ্রভিত্তিক কমিটি গঠন ও ভোটকক্ষে দলের পক্ষে দায়িত্ব পালনে পোলিং এজেন্টদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করছে। নিজের সফর, সাংগঠনিক সফর ছাড়াও শেখ হাসিনা দলের কেন্দ্রীয় নেতা, সংসদ সদস্য ও মনোনয়ন প্রত্যাশীদের যার যার এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

ঈদের আগে তিনি সবাইকে এলাকায় গিয়ে ঈদ উদযাপনের নির্দেশ দেন। নির্দেশ দেন সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচির কথা জনগণকে জানাতে এবং তুলে ধরতে। একইসাথে দলীয় নেতাকর্মীদের সর্তক করে দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি-জামায়াতের রাজনীতির সাথে যুক্তরা যেন দলে (আওয়ামী লীগে) না ভিড়তে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।

 

 

 

 

নেতাকর্মীরা যাতে এলাকায় যেতে পারেন সে জন্য প্রধানমন্ত্রী ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় স্বল্প সময়ের মধ্যে শেষ করে দেন। সে সময় তিনি নেতাদের এলাকায় যাওয়ার নির্দেশ দিয়ে বলেন, আপনারা সবাই যার যার এলাকায় চলে যান। সরকার কী কী উন্নয়ন কাজ করেছে, তা তুলে ধরেন। জনগণ খুশি হয়ে ভোট দিলে আমরা ক্ষমতায় যাবো। না হলে নেই।

 

 

 

 

 

জানা গেছে, আওয়ামী লীগের বেশির ভাগ নেতাকর্মী এবং মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এবার কোরবানির ঈদের দুই-তিনদিন আগেই ঢাকা ত্যাগ করেন। শনিবার (ঈদের পরে) ও তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করছেন এবং তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সরকারের উন্নয়মূলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরে মতবিনিময় করছেন। এর আগে (তারা) ওইসব মনোনয়ন প্রত্যাশীরা (সাবেক ও বর্তমান এমপি) ঈদের দিন ও ঊদের পরের (৪র্থ) দিন ভোটারদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ছাড়াও গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন।

 

 

 

 

 

 

আগামী দিনেও এটি অব্যাহত থাকবে। জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এমপি কায়সার হাসনাত জানান, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশ পেয়ে ঈদের আগে থেকেই তিনি এলাকায় অবস্থান করছেন। ঈদের দিন থেকে শুক্রবারও তিনি সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আরও কয়েক দিন এলাকায় থেকে গণসংযোগ চালিয়ে যাবেন।

 

 

 

 

 

 

বর্তমান সরকারের সকল উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে তৃণমূলে ভোটারদেরকে আগামী নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন তিনি। ঈদের আগে ও পরে রাজনৈতিক, সামাজিক ও ধর্মীয় বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নমূল কর্মকাণ্ড জনগণের কাছে তুলে ধরে নৌকায় ভোট চাইছেন কিশোরগঞ্জ-২ আসনের (কটিয়াদী-পাকুন্দীয়া) মনোনয়ন প্রত্যাশী ড. জায়েদ মোহাম্মদ হাবিবুলল্লাহ।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও দিনাজপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য খালিদ মাহমুদ চৌধুরী নির্বাচনি এলাকায় ঘুরে এসেছেন। ঈদের দিন ঢাকায় নামাজ আদায় ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পর তিনি আবারও ছুটে গেছেন এলাকায়। শনিবার বিকালে টেলিফোনে কথা বলার সময়ও এলাকায় তিনি একটি কর্মসূচিতে ছিলেন।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, দলীয়ভাবে আমাদের নির্বাচনি প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে। দলীয় সভাপতি তৃণমূল নেতৃবৃন্দকে ঢাকায় ডেকে এরই মধ্যে নির্দেশনা দিয়েছেন। যারা আসন্ন নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী তারাও যার যার মতো করে নিজ নিজ এলাকায় প্রচারণা চালাচ্ছে। ঈদের সময়ও তারা প্রচারণা চালিয়েছে। এটা অব্যাহত থাকবে। নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সাথে ঈদ পূর্ণমিলনী করেছেন ডেমরা থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি পুত্র আলহাজ মশিউর রহমান মোল্লা সজল।

 

 

 

 

 

 

তিনি ভোটারদের ধারে ধারে বর্তমান সরকারের দৃশ্যমান উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে নৌকায় ভোট চাইছেন। একইসাথে মুন্সীগঞ্জ-১ আসনে আওয়ামীলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সহ-সম্পাদক গোলাম সারোয়ার কবির দলীয় মনোনয়ন পেতে সভা-সমাবেশের মাধ্যমে সরকারের উন্নয়নমুলক কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। সর্বশেষ শনিবার বিকেলেও শোক দিবসের এক আলোচনা সভায় তিনি আবারও নৌকায় ভোট দিতে দলীয় নেতাকর্মীও ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের সভাপতিমÐলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান ঈদের দিন ঢাকায় থাকলেও ঈদের আগে টানা চারদিন এলাকায় ছিলেন। এ সময় তিনি বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন। জনগণের সমস্যার কথা শুনে তাৎক্ষণিক সমাধান দেন। সরকারের উন্নয়নের কথা বলেন এবং নৌকার জন্য ভোট চেয়েছেন ফারুক খান।

 

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল হিসেবে আমরা সব সময়ই নির্বাচনমুখী। কাজেই প্রতিটি পদক্ষেপই নির্বাচনি প্রস্তুতির মধ্যে পড়ে। আমি নিজেই এবার ঈদের আগে এলাকায় গিয়ে জনগণের কাছে সরকারের উন্নয়ন কর্মসূচি তুলে ধরে আগামী নির্বাচনে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছি। নির্বাচনি প্রচারণা আমাদের অব্যাহত রয়েছে। সামনের দিনগুলোতে এর মাত্রা আররা বাড়বে।