প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      আবারও কাঠগড়ায় রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল। বিল বাড়ানোর জন্য মৃত্যুর পরও দীর্ঘক্ষণ রোগীকে ভেন্টিলেশনে রেখে দেওয়া হল। আর এই ঘটনায় উত্তেজনা ছড়াল ভারতের উত্তর ২৪ পরগনার বারাসতের এক বেসরকারি হাসপাতালে। শেষে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিসবাহিনী পৌঁছালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।

 

 

 

 

 

 

জানা গিয়েছে, বারাসতের বাসিন্দা ওই বৃদ্ধা দীর্ঘদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শুক্রবার রাতে অবস্থার অবনতি হলে তড়িঘড়ি তাঁকে স্থানীয় একটি নার্সিংহোমে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃদ্ধার পরিবারের অভিযোগ, বারবার বলা সত্ত্বেও চিকিত্‍সকেরা কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

 

 

 

 

 

অক্সিজেনের প্রয়োজন থাকলেও, তার ব্যবস্থাও করেনি নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। এরপর কিছুক্ষণের মধ্যেই বৃদ্ধা মারা যান। কিন্তু তা সত্ত্বেও শুধুমাত্র ব্যবসায়িক স্বার্থে দীর্ঘক্ষণ ভেন্টিলেশনে রাখা হয় ওই বৃদ্ধাকে।

 

 

 

 

 

ভোররাতের দিকে বৃদ্ধা মারা গিয়েছেন বলেই জানায় নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। মৃত্যু সংবাদ শুনেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন মৃতার বাড়ির লোকজন। চিকিত্‍সায় গাফিলতি ও মৃত্যুর পরেও ভেন্টিলেশনে রেখে বিল বাড়ানোর অভিযোগ তুলে নার্সিংহোমের বাইরে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন।

 

 

 

 

 

 

নার্সিংহোমের কর্মী ও চিকিত্‍সকদের সঙ্গে বচসাও শুরু হয়। দীর্ঘক্ষণ ধরে বাদানুবাদ চলে। যদিও নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ রোগীর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

 

 

 

 

 

 

তাদের পাল্টা দাবি, আশঙ্কাজনক অবস্থাতেই বৃদ্ধাকে নার্সিংহোমে আনা হয়েছিল। শেষ চেষ্টা করতেই ভেন্টিলেশনে রেখে চিকিত্‍সা করানো হয়েছিল তাঁকে। তবে তা সত্ত্বেও রোগীকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। এরপর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়। ইতিমধ্যে হাসপাতাল চত্বরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে, নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতার বাড়ির লোক। ঘটনায় তদন্তে নেমেছে পুলিশ। ঘটনাটি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও।