প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    কিছুদিন পর পরই শোনা যায় বিজ্ঞানীরা এতো শত কিংবা এতো হাজার বছরের পুরনো মনুষ্য প্রজাতির কঙ্কাল কিংবা খুলি উদ্ধার করেছে। আর এসব কঙ্কালগুলো আকারে অনেক বড়। তখনকার মানুষ কতটা দৈত্যকায় ছিল এনিয়ে রয়েছে এখনকার মানুষের ব্যাপক কৌতূহল।

 

 

 

 

 

এমনই একটি মনুষ্য প্রজাতি হলো হোমা ফ্লোরেসিয়েন্সিস। এই প্রজাতির মানুষগুলো ছিল ১ মিটারের চেয়ে বেশি দীর্ঘকায়। ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরে অঞ্চলে ১২ হাজার বছর আগে ছিল তাদের বসবাস। তবে কিছু জাদুঘরে এমন বড় বড় কিছু অস্ত্রের সন্ধান মিলেছে যাতে মনুষ্য প্রজাতি কতটা দীর্ঘকায় হতে পারে তা নিয়ে রীতিমতো ধাঁধার সৃষ্টি হয়েছে। এমনই চারটি অস্ত্রের কথা নিচে তুলে ধরা হলো-

 

 

 

 

 

 

১. দ্বি-মাথার অতিকায় কুড়াল: দ্বি-মাথার এমন অতিকায় তিনটি কুড়াল রয়েছে গ্রিসের হেরক্লেয়ন আর্কিওলজিকাল মিউজিয়ামে। মিনোয়ান শিল্পকর্ম সংগ্রহে রাখার জন্য এই জাদুঘর সুপরিচিত। এই জাদুঘরে রাখা তিনটি দ্বি-মাথার কুড়াল দেখে বুঝা যায়, এটার ব্যবহারকারী মনুষ্য প্রজাতি কতটা দীর্ঘকায় ছিল। এটা নাড়াচাড় করার জন্য অন্তন্ত ১৩ ফুট লম্বা মানুষের প্রয়োজন ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধের পরিবর্তে বরং এসব কুড়াল বিভিন্ন অনুষ্ঠানে প্রতীকী হিসেবে ব্যবহার করা হতো।

 

 

 

 

 

 

২. নোরিমিতসু ওদাচি: দৈত্যকায় এই তলোয়ার ‘নোরিমিতসু ওদাচি’ হিসেবে পরিচিত। এটি ৩৭৭ সেন্টিমিটার দীর্ঘ এবং প্রায় ১৪ কেজি ভারী। বর্তমানে একটি স্ট্যান্ডার্ড তলোয়ার ৬০ সেন্টিমিটার দীর্ঘ হয়ে থাকে।

 

 

 

 

 

তাহলে এরচেয়ে ছয় গুণ বেশি দীর্ঘ তলোয়ার যিনি ব্যবহার করতেন, সেই মানুষটি কতটা দীর্ঘকায় ছিলেন? বর্তমানে মানুষ গড়ে ৫-৬ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। সে হিসেবে এই অতিকায় তলোয়ারের মালিক ছিল ৩০-৩৬ ফুট লম্বা! পনের শতাব্দীর এই তলোয়ারটি এক টুকরো স্টিল থেকে তৈরি এবং কিবিতসু মন্দিরে এটা প্রদর্শিত রয়েছে।

 

 

 

 

 

 

৩. তাম্রযুগের কুড়াল: ডেনমার্কের এক কৃষক ও তার শ্যালক গাছ রোপন করার সময় একটি কুড়াল দেখতে পান। প্রত্নতত্ত্ববিদরা পরে ওই এলাকায় একই ধরনের আরও তিনটি কুড়ালের সন্ধান পান। তারা দাবি করেন, এগুলো তাম্রযুগের কুড়াল।

 

 

 

 

 

এসব কুড়াল আকারে এবং ওজনে সাধারণ কুড়ালের দ্বিগুণ। সুতরাং ধারণা করা যায়, এগুলোর ব্যবহারকারীরা কতটা শক্তিশালী এবং দীর্ঘকায় ছিল। একেকটি কুড়াল আকারে ৩০ সেন্টিমিটার এবং ওজনে এক কেজির বেশি। এগুলো খৃষ্টপূর্ব ১,৬০০ অব্দের পুরনো বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

৪. অতিকায় শিকার সরঞ্জাম: একটি পত্রিকার প্রতিবেদনে ‘দক্ষিণ মরোক্কয় অতিকায় কিছু উপকরণের সন্ধান পাওয়া গেছে’ বলে দাবি করা হয়। অবশ্য ইন্টারনেটে এই প্রতিবদেনটি খুঁজে পাওয়া যায়নি।

 

 

 

 

 

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ফরাসী ক্যাপ্টেন লাফেনুশের এমন ৫০০টি শিকার ধরার অস্ত্রের সন্ধান পেয়েছেন যেগুলো আকারে এবং ওজনে অস্বাভাবিক ধরনের বড়। সাধারণত একজন মানুষ যে ওজনের শিকার সরঞ্জাম ব্যবহার করতে সক্ষম, এগুলো তার চেয়ে ২০ গুণ বেশি ওজনের।

 

 

 

 

 

 

এখন বিষয় হলো- এসব অস্ত্রগুলো জাদুঘরের সৌন্দর্য্য বর্ধনের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে, নাকি আসলেই এসব অস্ত্র ব্যবহারের মতো দৈত্যকায় মনুষ্য প্রজাতির অস্তিত্ব ছিল। আর যদি এমন মনুষ্য প্রজাতি থেকেই থাকে, তাহলে তারা কতটা দীর্ঘকায় ছিল যারা পৃথিবী থেকে নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে?