প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      মালয়েশিয়ায় ১০ হাজার কোটি ডলার ব্যয়ে বিলাসবহুল ‘ফরেস্ট সিটি’ আবাসন প্রকল্পে বিদেশি নাগরিকেরা কোনো সম্পদ কিনতে পারবে না বলে সাফ জানিয়েছে দিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ। গতকাল সোমবার রাজধানী কুয়ালালামপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

 

 

 

 

মালয়েশিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য জোহরে কৃত্রিম চারটি দ্বীপের ওপর প্রায় সাত লাখ মানুষের বাসস্থানের সুযোগ রেখে গড়ে তোলা হচ্ছে পরিবেশবান্ধব সুউচ্চ এই ভবনগুলো। সিঙ্গাপুর থেকে এই সিটির আকাশপথে দূরত্ব এক ঘণ্টার।

 

 

 

 

প্রকল্পটি হাতে নিয়েছে হংকংভিত্তিক নামকরা আবাসন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান কান্ট্রি গার্ডেন ডেভেলপার কোম্পানি। এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে জোহরের সুলতানের মালিকানাধীন একটি ফার্মও। এই প্রকল্প ২০৩৫ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা। মূলত চীনের সম্পদশালী ক্রেতাদের কথা মাথায় রেখেই এই আবাসন গড়ে তোলা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

এ অবস্থায় গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে রয়টার্সের এক প্রশ্নের জবাবে মাহাথির মোহাম্মদ বলেন, ‘একটা বিষয় নিশ্চিত—যে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়েছে, তা বিদেশিদের কাছে বিক্রি করা যাবে না। আমরা কাউকে ভিসা দিতে পারি না, যারা বাইরে থেকে এসে এখানে বসবাস করবে।’

 

 

 

 

মাহাথির আরও বলেন, ‘আমাদের আপত্তির কারণ হলো, প্রকল্পটি বিদেশিদের জন্য নেওয়া হয়েছে, মালয়েশিয়ার জনগণের জন্য নয়। মালয়েশিয়ার বেশির ভাগ মানুষেরই এখানে ফ্ল্যাট কেনার সামর্থ্য নেই।’

 

 

 

 

ফরেস্ট সিটি নিয়ে অনেক মালয়েশিয়ান নাগরিকের অভিযোগ, এটি কেবল ধনী বিদেশিদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে। এ ছাড়া এই প্রকল্পের কারণে পরিবেশের ক্ষতি হতে পারে বলে তাঁরা উদ্বিগ্ন।

 

 

 

 

কয়েকটি আবাসন প্রতিষ্ঠান যৌথ মালিকানায় ফরেস্ট সিটি গড়ে তুলছে। এই আবাসনের ৬৬ অংশের মালিক কান্ট্রি গার্ডেন প্যাসিফিকভিউ এসডিএন বিএইচডি। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বিদেশিদের কাছে বিক্রি করার জন্য প্রয়োজনীয় সব আইন মেনেই ফরেস্ট সিটির নির্মাণকাজ চলছে। তাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে যথাযথভাবে আসেনি। এরপরও প্রতিষ্ঠানটি এক বিবৃতি জানিয়েছে, তারা মাহাথির বক্তব্যের বিষয়ে পরিষ্কার হতে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যোগাযোগ করছে।

 

 

 

 

 

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘এই মাসের ১৬ আগস্ট কান্ট্রি গার্ডেনের চেয়ারম্যান ইউং কোয়াক কাং মাহাথিরের সঙ্গে দেখা করেছেন। তখন মাহাথির বিদেশি বিনিয়োগকে স্বাগত জানিয়েছেন। কারণ তিনি মনে করেন, এর মধ্য দিয়ে দেশটিতে কর্মসংস্থান তৈরি হবে। প্রযুক্তির উদ্ভাবন ও স্থানান্তর উন্নীত হবে। যার মধ্য দিয়ে মালয়েশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান তৈরি হবে।’

 

 

 

 

কান্ট্রি গার্ডেনের শেয়ারর দাম গতকাল সকালে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়লেও মাহাথিরের এই বক্তব্যের পর তা ২ দশমিক ৫ শতাংশতে নেমে যায়।

 

 

 

 

এ পর্যন্ত ফরেস্ট সিটির যতগুলো অ্যাপার্টমেন্ট বিক্রি হয়েছে, তার দুই-তৃতীয়াংশের ক্রেতাই চীনের। ২০ শতাংশ ক্রেতা মালয়েশিয়ার। আর বাকিগুলো ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, দক্ষিণ কোরিয়াসহ ২০ দেশের নাগরিকেরা কিনেছে।

 

 

 

 

 

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়, গত ডিসেম্বরে নির্বাচনী প্রচারে বলেছিলেন, তিনি আশা করেন, ফরেস্ট সিটি হবে সত্যিকারের বন। যেখানকার বাসিন্দা হবে বাবুন ও বানর।

 

 

 

 

মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাজিব রাজাকের সময়ে কুয়ালালামপুর ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক খুব ভালো ছিল। সেই সময় মালয়েশিয়ায় চীনের বিনিয়োগ ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। তবে পরিস্থিতি পাল্টানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন মাহাথির।

 

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর থেকে মাহাথির চীনের অর্থায়নে দুই হাজার কোটি ডলারের ইস্ট কোস্ট রেইল লিংক প্রকল্প, বাবাহদে প্রাকৃতিক গ্যাসের পাইপলাইন প্রকল্পসহ অনেকগুলো প্রকল্প স্থগিত করে দিয়েছেন। এ ছাড়া প্রকল্পগুলোর মধ্যে ছিল কুয়ালালামপুর থেকে সিঙ্গাপুর পর্যন্ত দ্রুতগতির রেললাইন স্থাপন, যা ফরেস্ট সিটি প্রকল্পকে আরও সামনে এগিয়ে যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত এই প্রকল্পকে বাদ সাধলেন মাহাথির।