প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       আদালতের নির্দেশনা থাকার পরও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধমূলক কমিটি না থাকায় বেশির ভাগ নারী পোশাক শ্রমিক এখনো প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে যৌন হয়রানির শিকার হয় বলে বেসরকারি এক জরিপ প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, ৮৩ শতাংশ নারী শ্রমিক জানায়, তারা কারখানার সুপারভাইজর ও ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়।

 

 

 

 

 

গতকাল সোমবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের এএস মাহমুদ সেমিনার হলে ব্লাস্ট, ব্র্যাক, ক্রিশ্চিয়ান এইড, নারীপক্ষ ও এসএনভি মিলিতভাবে এই গবেষণা জরিপের ফলাফল তুলে ধরে। ‘বাংলাদেশ পোশাক শিল্পে নারীর প্রতি সহিংসতাবিষয়ক প্রচার অনুষ্ঠান’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সজাগ কোয়ালিশনের দলনেতা মাহীন সুলতানা।

 

 

 

 

 

 

জরিপে অংশ নেওয়া কারখানার ৮৩ শতাংশ নারী শ্রমিক জানায়, তারা কারখানার সুপারভাইজর ও ব্যবস্থাপকদের মাধ্যমে নানাভাবে যৌন হয়রানির শিকার হয়। অশালীন ভাষায় কথা বলা, কারখানায় প্রবেশের সময় নিরাপত্তাকর্মীদের অস্বস্তিকর আচরণ, চেকিং ও পুরুষ সহকর্মীর অপ্রত্যাশিত স্পর্শ এবং মধ্যম সারির কর্মকর্তাদের অনৈতিক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করার মাধ্যমে তাদের হয়রানির শিকার হতে হয়।

 

 

 

 

 

 

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২২ শতাংশ নারী শ্রমিক জানিয়েছে, তারা কারখানার ভেতরে অথবা বাইরে শারীরিক, মানসিক ও যৌন হয়রানির সম্মুখীন হয়েছে। ৬৬ শতাংশ মনে করে, তারা কোনো বিচার পাবে না, তাই প্রতিকার চাইতেও যায় না।

 

 

 

 

৬৮ শতাংশ জানায়, তাদের কারখানায় সত্যিকারভাবে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে কোনো কমিটি নেই। চলতি বছরের মার্চ থেকে জুন পর্যন্ত সাভার, আশুলিয়া ও গাজীপুর এলাকার আটটি কারখানার ৩৮২ জন নারী পোশাক শ্রমিকের সঙ্গে সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে এ তথ্য উঠে আসে। এর মধ্যে অর্ধেক কারখানা সজাগ কোয়ালিশনের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ।

 

 

 

 

 

মুক্ত আলোচনায় গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘নারী নির্যাতনে নানা কৌশল যোগ হয়েছে। কারখানার মালিকদের বেশি কাজ করানোর মানসিকতা থেকে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

 

 

 

 

 

এর থেকে মালিকরা বের হয়ে এলে আমার বিশ্বাস, কোনো কারখানায় যৌন হয়রানি হবে না।’ তিনি বলেন, এসব বন্ধে কারখানার ম্যানেজার, সুপারভাইজরদের সচেতনতামূলক কর্মসূচির আওতায় নিয়ে আসা যায় কি না সেটাও ভেবে দেখার সময় এসেছে।

 

 

 

 

প্ল্যান বাংলাদেশের যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ হুমায়রা সুলতানা বলেন, হয়রানি থেকে প্রতিকার পেতে কল সেন্টার বা অ্যাপস ব্যবহার করা হয়। অথচ অ্যাপসগুলো বেশ জটিল। এ ছাড়া সব শ্রমিক স্মার্ট ফোন ব্যবহার করে না। আর করলেও ইন্টারনেট ব্যবহার করে না। ফলে এসব ডিজিটাল উদ্যোগও তেমন কার্যকর নয়।

 

 

 

 

 

 

 

 

ক্রিশ্চিয়ান এইড বাংলাদেশের এই দেশীয় প্রতিনিধি সাকেব নাবির সঞ্চালনায় আলোচনায় আরো অংশ নেন শ্রম মন্ত্রণালয়ে আইন বিভাগের সহকারী সচিব বেগম মোর্শেদা হাই, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের (ডাইফি) ডিআইজি মতিউর রহমান, জেন্ডার ইকুয়ালিটি অ্যান্ড উইমেন এমপাওয়ারমেন্টের সৈয়দা শায়লা আশরাফ প্রমুখ।