প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      সড়ক পরিবহন উপদেষ্টা পরিষদের সভায় গতকাল সোমবার বেশ কিছু সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। জাতীয় মহাসড়কে লেগুনার মতো ধীরগতির কোনো গাড়ি চলাচল করতে পারবে না। মহাসড়কে সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার গতিসীমা কঠোরভাবে বাস্তবায়িত হবে।

 

 

 

 

ঢাকায় বাসগুলোর প্রতিযোগিতা বন্ধে চুক্তিভিত্তিক চলাচল বন্ধ করার আগের সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে হবে। ঢাকার নগর পরিবহনের আওতাধীন সব ধরনের বাস ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে রং করে সৌন্দর্য বাড়াতে হবে। এ ছাড়া ঢাকায় আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে নেওয়া ঢাকা উত্তরের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাবেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।

 

 

 

 

 

গতকাল পরিষদের সভায় সড়কের শৃঙ্খলা ফেরাতে অন্তত ২০টি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে বহু সিদ্ধান্ত আগেই নেওয়া হয়েছে। সেগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে। সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান, প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র সাঈদ খোকনসহ বিভিন্ন সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

 

 

 

সড়কমন্ত্রী সভায় বলেন, ‘যেসব গাড়ির চামড়া উঠে গেছে, দেখতে কেমন লাগে আপনারা জানেন। পরিবহন মালিক নেতারা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বাসগুলোর বিউটিফিকেশন আপাতত ঢাকা মহানগরে করা হবে। আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা মহানগরীর বাসের এমন চেহারা যে গ্রামের গাড়িগুলো এদের চেয়ে ভালো।

 

 

 

 

এ কথাটা আমি বারবার বলি, তার পরও আমরা লজ্জা পাই না।’ সড়কমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মহাসড়কে ধীরগতির গাড়ি বা লেগুনা চলাচল করতে পারবে না। ইজি বাইক ও ব্যাটারিচালিত রিকশার খুচরা যন্ত্র আমদানি নিয়ন্ত্রণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধপত্র পাঠানো হবে।

 

 

 

 

সড়কমন্ত্রী জানান, জাতীয় মহাসড়কে ইজি বাইকের বিষয়ে নীতিমালা প্রণয়নে সড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আব্দুল মালেকের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি আগামী ২০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেবে। সড়কমন্ত্রী জানান, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসা না পর্যন্ত ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেট সংকট লাঘব হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় আটজন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ দিয়ে ১১ জন করা হয়েছে। তিনি জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চান্দিনা, ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, সিরাজগঞ্জের হাটিকুমরুল, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে বিশ্রামাগার স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে সিটিং সার্ভিসের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সভা হবে বলেও সড়কমন্ত্রী জানান।