প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঐকান্তিক সদিচ্ছার কারণে বর্তমানে বিদ্যুৎ সেক্টর স্বাবলম্বী। তাঁর সরকারের ওপর আস্থা রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশের বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নে এগিয়ে এসেছে।

 

 

 

 

বাংলাদেশে ৯২ শতাংশ মানুষ বর্তমানে বিদ্যুতের আওতায়। আগামী তিন মাসের মধ্যে আরো তিন ভাগ উন্নতি হলে ৯৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় চলে আসবে। বিদ্যুৎ সেক্টরে এরই মধ্যে ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ এসেছে। ২০৪১ সালের মধ্যে এই সেক্টরে শতভাগ নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুত্ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের ধারাবাহিকতার বিকল্প নেই।

 

 

 

 

 

কারণ বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নে বর্তমান সরকার বিদেশি যেসব বিনিয়োগ পেয়েছে এবং আরো বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি আদায় করেছে, সরকার পরিবর্তন হলে সেসব বিনিয়োগ ফিরে যেতে পারে। বর্তমান সরকারের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে দেশের উন্নয়নও অব্যাহত থাকবে। গত রবিবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ মন্ত্রণালয়ের নিজ অফিস কক্ষে একান্ত সাক্ষাৎকারে কালের কণ্ঠকে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

 

বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে দেশে দৈনিক এক ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাওয়া যেত না। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিদ্যুৎ সেক্টরের উন্নয়নে ভিশন নিয়ে কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। তাঁর ঐকান্তিক উদ্যোগে বর্তমানে বিদ্যুৎ সেক্টরে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ অব্যাহত আছে। শুরুতে এ নিয়ে বিরোধীরা অনেক সমালোচনা করলেও বর্তমানে তাদের মুখে কুলুপ পড়েছে।’

 

 

 

 

 

 

নসরুল হামিদ বলেন, ‘জ্বালানিতে বর্তমানে দেশে দৈনিক ৭৫ এমএমসি গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। এই হিসাবে আগামী বছর ঘাটতি হবে তিন হাজার এমএমসি। ওই পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার আগাম প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে। এনএলজি বেসরকারি খাতে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। যাঁরা কল-কারখানা করতে চান, তাঁরা আগামী দুই বছরের মধ্যে তাঁদের কারখানায় গ্যাস পাবেন। কারণ আমরা আগামী দুই বছরের মধ্যে দেশে গ্যাসের চাহিদা মেটাতে প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছি। এই সেক্টরের সব অনিয়ম কঠোর হাতে প্রতিরোধ করা হয়েছে।’

 

 

 

 

 

নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি ব্যবহারে আরো উদ্যোগ নেওয়ার প্রতি জোর দিয়ে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যে আমরা খুলনায় ও বাঘাবাড়ীতে ডিপো করেছি। বিদ্যু ও জ্বালানি খাতসহ দেশের সর্বত্র বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। এ উন্নয়নের ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে হবে। এর জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ধারাবাহিকতাও অব্যাহত রাখতে হবে। নৌকা মার্কার বিজয়ের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে হবে। তবেই দেশ আরো এগিয়ে যাবে।’

 

 

 

 

 

 

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বিশাল কর্মযজ্ঞ চলছে। যার জন্য বিদ্যুৎ খাতে প্রয়োজন ৮২ দশমিক ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ। এরই মধ্যে ২১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে।’

 

 

 

 

 

নসরুল হামিদ বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশ যারা গত ৪৫ বছরে বাংলাদেশের দিকে ফিরে তাকায়নি তারা বর্তমানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ করছে। ফ্রান্স, চীন, জার্মান, সিঙ্গাপুরসহ বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাতে বিনিয়োগ করছে। এই সাফল্য শেখ হাসিনার সরকারের সাফল্য। আমরা আশা করছি আগামীতে বিশ্বের আরো অনেক দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে এগিয়ে আসবে। অন্য কোনো সরকার ক্ষমতায় এলে তা ব্যাহত হবে।’

 

 

 

 

 

 

প্রিপেইড মিটারের সাফল্য তুলে ধরে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘প্রিপেইড মিটার আমাদের একটি বড় কর্মপরিকল্পনা। এই পরিকল্পনার আওতায় আমরা দুই কোটি মিটার লাগানোর প্রস্তুতি নিয়েছি। এরই মধ্যে প্রায় ১২ লাখ মিটার লাগানোর কাজ শেষ হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

আশা করি, আগামী চার-পাঁচ বছরের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে পারব। ঢাকাসহ বড় বড় শহরগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহে সব বিদ্যুতের লাইন আন্ডারগ্রাউন্ড করার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে এমন কয়েকটি প্রকল্পের কাজ শুরুও হয়েছে।’