প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের এক বছর পূর্তিতে রাখাইন রাজ্য থেকে নতুন করে আরো রোহিঙ্গা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত কয়েক দিনে টেকনাফ সীমান্তের নাফ নদের ওপারে নাইক্ষ্যংদিয়ায় তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা এপারে আসার জন্য জড়ো হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গাদের দাবি, রাখাইনে নতুন করে মিয়ানমার বাহিনী নির্যাতন শুরু করে তাদের ঠেলে দিচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্ত এলাকার অধিবাসীদের অভিযোগ, রোহিঙ্গাদের পুঁজি করে যারা নানাভাবে ফায়দা লুটছে তারাই আরো রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশে ইন্ধন দিচ্ছে। বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত খোলা রেখে একটি দেশে এভাবে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া যায় না।

 

 

 

 

নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টার ঘটনা নিয়ে এভাবে সীমান্ত এলাকায় পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

নাফ নদের এপারে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, রাখাইনের বিভিন্ন গ্রামে যেসব রোহিঙ্গা এখনো রয়ে গেছে তাদেরকে বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন ও দেশ ত্যাগে চাপ অব্যাহত রেখেছে মিয়ানমার সেনাবাহিনী। এ অবস্থায় নতুন করে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে নাফ নদের মিয়ানমারের সীমান্ত এলাকা নাইক্ষ্যংদিয়ায় দুই দিন ধরে তাঁবু করে অবস্থান করছে।

 

 

 

 

 

 

কুতুপালং অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা শিবিরের ব্যবস্থাপনা কমিটির সাবেক সভাপতি আবু ছিদ্দিক জানান, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে পাহাড়ের পশ্চিম ও পূর্ব তীরের বিভিন্ন গ্রামে রোহিঙ্গাদের বসতি।

 

 

 

 

 

রোহিঙ্গারা জানায়, গত ২৩ আগস্ট থেকে রাখাইন রাজ্যের পাহাড়ের পূর্ব পারের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা আলিয়ং, গুদামপাড়া, জংশং, পুইমালী ও সিন্দিপ্রাং এলাকায় যেসব রোহিঙ্গা বসতি রয়েছে সেখানে মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে নির্যাতন চালাচ্ছে। শুধু তাই নয়, সেখানকার রোহিঙ্গাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকিসহ গবাদি পশু ও গোলার ধান লুট করে নেওয়ার খবরও পাওয়া গেছে। পাশাপাশি ওই সব রোহিঙ্গাকে রাখাইন ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যেতেও নির্দেশ দিচ্ছে বলে জানা যায়।

 

 

 

 

 

 

মিয়ানমার সেনাদের এমন আচরণে সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা তাদের ওপর আবারও সেনা ও মগদের পাশবিক নির্যাতনের আশঙ্কা করছে। গত বছর সংঘাতের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা কজন রোহিঙ্গার মাধ্যমে রাখাইনে যোগাযোগ করে জানা গেছে, নতুন করে শুরু হওয়া নির্যাতন ও হুমকির মুখে তিন হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে অপেক্ষা করছে। গত দুই দিনে নাইক্ষ্যংদিয়ায় জড়ো হওয়া রোহিঙ্গাদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। তারা যেকোনো সময় বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশের চেষ্টা নিয়ে সীমান্ত এলাকার বাসিন্দারা নানা আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে। কক্সবাজারের টেকনাফ-উখিয়ার সাবেক সংসদ সদস্য ও টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোহাম্মদ আলী বলেছেন, ‘রোহিঙ্গাদের এখন আন্তর্জাতিক ব্যবসা ও রাজনীতির ইস্যু বানানোর চেষ্টা চলছে। এসব কাজে যারা জড়িত তারাই নতুন করে রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে।’

 

 

 

 

 

 

অন্যদিকে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টেকনাফ-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আছাদ-উজ-জামান বলেছেন, গত ২৪ আগস্ট নাফ নদের ওপারে কিছু রোহিঙ্গার জড়ো হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। গতকাল সোমবার একইভাবে নাফ নদের ওপারে আবারও কিছু রোহিঙ্গার জটলার খবর পাওয়া গেছে।

 

 

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, বছরের পর বছর ধরে সীমান্ত দিয়ে এভাবে অন্য দেশের নাগরিকদের অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া যায় না। যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে নাফ নদ ও টেকনাফ সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।