প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       সরকারি কর্মচারীদের গ্রেপ্তারের আগে অনুমোদনের বিধান রেখে যে আইনটি করা হচ্ছে, তা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কার্যক্রমে কোনো প্রভাব ফেলবে না বলে মন্তব্য করেছেন দুদক চেয়ারম্যান।

 

 

 

 

 

তিনি বলেছেন, দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে স্বাধীন সংস্থা হিসেবে দুদক কারো অনুমতি নিয়ে কাজ করবে না। নতুন ওই আইন নিয়ে দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। কমিশন ঠুঁটো জগন্নাথ হবে না, গ্রেপ্তারও থেমে থাকবে না। প্রয়োজনের সময় গ্রেপ্তার হবে। দুর্নীতিবাজদের গ্রেপ্তারে কোনো সমস্যা হবে না।

 

 

 

 

 

রাজধানীর সেগুনবাগিচায় সংস্থাটির প্রধান কার্যালয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন পাওয়া সরকারি চাকরি আইন-২০১৮-এর খসড়া নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

 

 

 

 

 

ফৌজদারি মামলায় কোনো সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র আদালতে গৃহীত না হওয়া পর্যন্ত তাকে গ্রেপ্তার করতে হলে অনুমোদন নেওয়ার বিধান রেখে ‘সরকারি চাকরি আইন-২০১৮’-এর খসড়া গত ২০ আগস্ট মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

আইনটি প্রণীত হলে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুদক সংকটে পড়বে কি না—জানতে চাইলে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘আইনটা যেভাবেই পাস হোক না কেন, যেসব অসৎ এবং দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা রয়েছে তাদের কিন্তু উচ্ছ্বসিত হওয়ার কোনো কারণ নেই।

 

 

 

 

 

তাদেরকে আইনের আওতায় আনতে দুর্নীতি দমন কমিশনের কোনো অসুবিধা হবে না।’ তবে কোনো আইনই দুর্নীতিবাজদের ‘রক্ষা করার জন্য’ হয় না মন্তব্য করে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আইনের প্রয়োজন আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমরাও চাই সৎ যেসব কর্মকর্তা-কর্মচারী আছেন তাঁদের সুরক্ষার প্রয়োজন।

 

 

 

 

 

 

 

নতুন আইন হলে দুদকের ক্ষমতা খর্ব হবে কি না জানতে চাইলে দুদক চেয়ারম্যান  বলেন, ‘দুদক ঠুঁটো জগন্নাথ হবে না এবং গ্রেপ্তারও থেমে থাকবে না। প্রয়োজনের সময় গ্রেপ্তার হবে। দুর্নীতিবাজদের  গ্রেপ্তার করা সমস্যা হবে না।’

 

 

 

 

 

সরকার এ আইনের খসড়া অনুমোদন দিলেও পরবর্তী পদক্ষেপে যাওয়ার আগে দুদক এ বিষয়ে সরকারের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি না বলে জানান ইকবাল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘এ ব্যাপারে কথা বলার প্রয়োজনও নেই।

 

 

 

 

 

 

আমরা মনে করি সরকার দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষার জন্য কোনো আইন তৈরি করবে না। প্রস্তাবিত আইনটা দুর্নীতিবাজদের সুরক্ষার জন্য আইন না, বরং এটাকে আমি দেখি সৎ কর্মচারীদের সুরক্ষার আইন।’

 

 

 

 

 

 

নতুন আইন হলে ফাঁদ পেতে ঘুষের ঘটনা ধরার ক্ষেত্রে দুদক সমস্যায় পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ইকবাল মাহমুদ বলেন, ‘ফাঁদ মামলা চলবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’