প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      পবিত্র হজ পালন শেষে গতকাল সোমবার থেকে শুরু হয়েছে ফিরতি হজ ফ্লাইট। এরই মধ্যে দেশে ফিরতে শুরু করেছেন হাজিরা। তাঁরা বিমানবন্দরে নেমেই নানা রকম অভিযোগ করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে হজ ফ্লাইটে বিলম্ব, বাসযাত্রায় ভোগান্তি, নিম্নমানের খাবারসহ বিভিন্ন অব্যবস্থাপনার অভিযোগ।

 

 

 

 

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০২ ফ্লাইটটি রবিবার দিবাগত রাত ৩টা ১৯ মিনিটে পৌঁছায়। ফ্লাইটটিতে ৪০৩ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি হজ ফ্লাইট বিজি ৪০১২ ঢাকা পৌঁছানোর কথা রয়েছে সোমবার রাত ১০টা ১০ মিনিটে।

 

 

 

 

বিমানের মুখপাত্র শাকিল মেরাজ বলেছেন, ‘সোমবার রাতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট শুরু হয়েছে। ফিরতি ফ্লাইট ভালোভাবে সম্পন্ন করার জন্য আমরা সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এরই মধ্যে মক্কা থেকে ফিরতি হজ ফ্লাইটের যাত্রীদের জেদ্দা বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। কোনো ধরনের সমস্যা ছাড়াই সব ফ্লাইট যথাসময়ে পরিচালিত হবে।’

 

 

 

 

 

 

জানা গেছে, সৌদি এয়ারলাইনসে ৬৩ হাজার ২৪০ জন এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসে ৬২ হাজার ৮১০ জন বাংলাদেশ থেকে হজের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যায়। ১৪ আগস্ট বিজি-১০১১ পূর্বনির্ধারিত সময়ে ৪১৯ জন হজযাত্রী নিয়ে এ বছর প্রথম হজ ফ্লাইট শুরু করে। বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস হজযাত্রী পরিবহন শেষ করেছে ১৫ আগস্ট। সৌদি এয়ারলাইনস হজযাত্রী পরিবহন শেষ করেছে ১৭ আগস্ট।

 

 

 

 

 

এ বছর যাত্রী সংকটের কারণে বিমানের ২০টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়। বেসরকারি হজ এজেন্সিগুলোর প্রতারণার শিকার হয়ে এ বছরেও হজে যেতে পারেনি ৬০৬ জন হজযাত্রী। পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে সৌদি আরবে ১৫ জন নারীসহ সর্বমোট ইন্তেকাল করেছে ৮৯ জন হাজি। এর মধ্যে মক্কায় ৫২, মদিনায় সাত, জেদ্দায় দুই, মিনায় ১৮ এবং আরাফায় ১০ জন ইন্তেকাল করেছে।

 

 

 

 

 

এদিকে ফিরতি হজ ফ্লাইটের শুরুতেই দেখা দিয়েছে বিলম্ব। ঘণ্টাখানেক বিলম্বে প্রথম ফিরতি ফ্লাইট সৌদি এয়ারলাইনসের এসভি-৮০২-এ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছেছে হাজিরা। ফ্লাইটটি রবিবার দিবাগত রাত ২টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও সেটি রাত ৩টা ১৯ মিনিটে এসে পৌঁছে। ফ্লাইটটিতে ছিল ৪০৩ জন হাজি।

 

 

 

 

 

 

বিমানবন্দরে নেমেই হজ পালন করতে গিয়ে নানা হয়রানির কথা তুলে ধরে অনেক হাজি। আবু ইউসুফ নামের এক হাজি বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নানা অব্যবস্থাপনাসহ নানা জটিলতায় পড়তে হয়েছে আমাদের। সৌদি আরবে এক শ্রেণির অতি মুনাফালোভী মুয়াল্লিমের দুর্ব্যবহার চরমে পৌঁছেছে। বেশির ভাগ বাংলাদেশি হাজির সঙ্গে সৌদি আরবের মুয়াল্লিমরা বিমাতাসুলভ আচরণ করেছে।’

 

 

 

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক হাজি বলেন, ‘মিনা-আরাফায় হাজিদের নিম্নমানের খাবার পরিবেশনসহ প্রতিটি হজ এজেন্সির নির্ধারিত তাঁবুতে গাদাগাদি করে হাজিদের থাকতে দেওয়া হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

প্রতিটি তাঁবুতে ৫০ থেকে ৬০ জন হাজির সিট কম দেখা গেছে। লক্কড়ঝক্কড় নন-এসি বাস দিয়ে মিনা-আরাফা-মুজদালিফার রাস্তাঘাট চেনে না এমন ড্রাইভার ও হেলপার দিয়ে আমাদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগে ফেলেছে।’