প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করতে বিএনপি যেমন গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনকে লিখিত প্রস্তাব দিয়েছে, ঠিক একইভাবে বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি ডা. এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেনও বিএনপিকে কিছু শর্ত দিয়েছেন।

 

 

 

 

 

এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য শর্তটি হলো: জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আগামী নির্বাচনে অংশ নিয়ে তাতে জয়লাভ করলে যে সরকার গঠিত হবে, ওই সরকারের রাষ্ট্রপতি হবেন এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রীত্ব চান ড. কামাল হোসেন। বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

 

 

 

 

 

সূটি জানায়, গণতন্ত্র, জনগণের ভোটাধিকার ও আইনের শাসন পুনঃপ্রতিষ্ঠিত করতে ২০ দলীয় জোটের বাইরে সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য তৈরির ডাক দিয়েছে বিএনপি।

 

 

 

 

ঐক্যের প্রক্রিয়ায় অংশ হিসেবে ইতিমধ্যে বি. চৌধুরী, ড. কামাল, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম রব ও নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকও করেছে বিএনপি। এজন্য ড. কামালকে ১০ দফা লিখিত প্রস্তাবও দিয়েছে বিএনপি।

 

 

 

 

 

 

তবে শেষ পর্যন্ত জাতীয় ঐক্য হবে কী না তা নিয়ে একটা গুঞ্জন উঠেছে বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের মধ্য।

 

 

 

 

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপি ও ২০ দলীয় জোটের দু’জন নেতা এই প্রতিবেদককে বলেন, শেষ পর্যন্তু জাতীয় ঐক্য হওয়াটা খুবই কঠিন। কারণ বি. চৌধুরী ও ড. কামালের দাবি বিএনপির পক্ষে মেনে নেওয়াটা খুব কঠিন। কারণ আন্দোলনে সফল হলে সরকার গঠনে রাষ্ট্রপতি হতে চান বি. চৌধুরী এবং প্রধানমন্ত্রী হতে চান ড. কামাল হোসেন।

 

 

 

 

 

যদিও তারা বিএনপিকে উদাহরণ হিসেবে মালয়েশিয়ার কথা তুলে ধরেছেন। আর বিএনপি তাদের পিছনে থাকবে। এই বিষয়টা বিএনপির জন্য বিব্রতকর। কিন্তু বিএনপি চাচ্ছে, তাদের নিয়ে বৃহত্তর একটি ঐক্য হোক। এই ঐক্যের নেতৃত্বে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াই থাকবেন। তবে বেগম জিয়ার অনুপস্থিতিতে বি. চৌধুরী কিংবা ড. কামাল নেতৃত্ব দেবেন। সুতরাং বি. চৌধুরীরা ঘোলা পানিতে যে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছেন, তা শেষ পর্যন্ত হবে না।

 

 

 

 

 

 

সূত্রটি জানায়, সেপ্টেম্বর পরেই জাতীয় সরকার গঠন হওয়া কথা রয়েছে। আর বি. চৌধুরী ও ড. কামালদের কী এমন মাঠের শক্তি আছে যে., তারা মাঠে আন্দোলন করতে পারবেন? আবার বিএনপির যে কয়েকজন শীর্ষ নেতা জাতীয় ঐক্য গঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

 

 

 

 

 

তার মধ্যে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অন্যতম। আর মির্জা ফখরুল কারাগারে চলে গেলে এই প্রক্রিয়া দেখবে কে? আর মির্জা আলমগীরকে কারাগারে নেওয়ার মত সরকারের কাছে যথেষ্ট উপাদানও আছে। তার বিরুদ্ধে অংসংখ্য মামলা রয়েছে। সুতরাং ঐক্য হয়ে যাবে, এটা নিয়ে খুব বেশি আশাবাদী হওয়ার কিছু নেই!

 

 

 

 

 

 

এ বিষয়ে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব এম এম আমিনুর রহমান বলেন, জাতীয় ঐক্যের বিষয়ে যে ধরণের তৎপরতা চলছে তার দ্রুত সমাধান হওয়া জরুরি। কারণ সময় বেশি নেই। আর বি. চৌধুরী ও ড. কামাল দেশের প্রবীণ নাগরিক। আর বিএনপি একটি বৃহৎ শক্তি।

 

 

 

 

 

এই শক্তিকে পিছনে রেখে তারা যদি নেতৃত্ব দিতে চান তাহলে এই ঐক্য প্রক্রিয়া সফল হবে না। এটা তাদেরকে বিবেচনায় আনতে হবে। বিএনপিকে সাথে রেখে যদি একটি নেতৃত্বের জায়গা তারা তৈরীর করতে পারেন তাহলে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য জনগণ আশা করতে পারে।

 

 

 

 

 

 

এদিকে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরাম একসঙ্গে কাজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সেই লক্ষ্যে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার ড. কামাল হোসেনের বাসায় জাতীয় ঐক্যর বিষয়ে বৈঠক শেষে বি. চৌধুরী এ কথা জানিয়েছেন। তবে তিনি আরো জানিয়েছেন, বৈঠকে বিএনপির বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।

 

 

 

 

 

 

তবে যুক্তফ্রন্ট ও গণফোরামের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে বিএনপি। এবিষয়ে দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে যাওয়ার আগে জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়েছিলেন।

 

 

 

 

 

 

আজকে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত এই জাতীয় ঐক্যের প্রক্রিয়া অনেকদূর অগ্রসর হয়েছে। একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের স্বার্থে, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করার জন্য, নির্দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন, সংসদ ভেঙে দিয়ে নির্বাচন এবং নির্বাচন কমিশনকে সংস্কার করে নির্বাচনের জন্য আজকে ২০ দলের বাইরেও যারা জাতীয় ঐক্যের সৃষ্টিতে কাজ করছেন, তাদের আমরা অভিনন্দন জানাই।