প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   ময়মনসিংহের গৌরীপুরে খুঁটিতে বেঁধে কিশোর সাগরকে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ মাস পর ৭ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক পরিমল চন্দ দাস গত ১২ আগস্ট আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

 

 

 

 

মামলায় আক্কাছ আলী ওরফে আক্কা, হাসান আলী হাসু, জুয়েল, সুহেল, কাইয়ুম, রিয়াজ উদ্দিন খাঁ, ফজলুর রহমান ফজলু ও রোকন উদ্দিনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রোকন উদ্দিন পলাতক রয়েছেন। অন্য আসামিরা আদালতের মাধ্যমে জামিনে মুক্ত আছেন।

 

 

 

 

 

তদন্তকারী কর্মকর্তার প্রাপ্ত তথ্যমতে, নিহত কিশোর সাগর গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রে ভাঙারি সংগ্রহ করতে গেলে কাইয়ুম নামের হ্যাচারি কর্মচারী তাকে চোর সন্দেহ করে। কাইয়ুমের ডাক চিৎকারে হ্যাচারি মালিক আক্কাস আলী ওরফে আক্কা হ্যাচারির অফিস কক্ষ থেকে রশি ও লাঠি নিয়ে আসে। পরে কাইয়ুমের সহায়তায় সাগরকে আটক করে হ্যাচারীর সাইনবোর্ডের খুঁটির সাথে বেঁধে আক্কাস ও কাইয়ুম এলোপাতাড়ি তাকে পিটিয়ে আহত করে।

 

 

 

 

 

এ সময় সাগরকে চুরি করার কথা স্বীকার করতে চাপ প্রয়োগ করে বেদম পিটাতে থাকে এবং চোর আটক করার খবর প্রচার করতে থাকে। আক্কাস আলী ও কাইয়ুমের চিৎকারে স্থানীয় রিয়াজ উদ্দিন খাঁ, ফজলুর রহমান ফজলু, রোকন উদ্দিনসহ অনেকেই উপস্থিত হয়ে সাগরকে নির্দয়ভাবে পেটাতে অংশ নেয়। নির্যাতন সইতে না পারা সাগর এক পর্যায়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লে তড়িঘড়ি করে গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের পাশে গভীর কাঁশবনে লুকিয়ে ঘাতকচক্র আত্মগোপন করে।

 

 

 

 

 

ঘটনার পরপরই পুলিশ ও র‌্যাব মামলার প্রধান আসামি আক্কাস আলী ওরফে আক্কা ও কাইয়ুমকে গ্রেপ্তার করে। আক্কাস ও কাইয়ুম আদালতে তাদের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেয়। এছাড়াও পুলিশ রিয়াজ উদ্দিন খাঁ ও ফজলুর রহমান ফজলুকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠালে তারাও হত্যাকাণ্ডে নিজেদের জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

 

 

 

 

 

 

 

নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ময়মনসিংহ শহরের নাটকঘর লেনের রেলওয়ে বস্তির হাসি বেগমের ছেলে সাগর মিয়া (১৬)। বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিত্যক্ত জিনিস (ভাঙারি) সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিল। নিত্যদিনের মতো সাগর গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর ভাঙারি মালামাল কিনতে বের হয়। পরে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ মহাসড়কের গৌরীপুর উপজেলাধীন চরশিরামপুর এলাকার গাউছিয়া মৎস্য হ্যাচারিতে চোর সন্দেহে সাগর নামের ওই কিশোরকে আটক করে বেধড়ক পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

 

 

 

 

 

এদিকে ওই রাতে সাগর ঘরে না ফেরায় মা হাসি বেগমসহ পরিবারের অন্যান্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরদিন সকালে ময়মনসিংহ-কিশোরগঞ্জ সড়কের গৌরীপুরের চরশ্রীরামপুর গ্রামের গাউছিয়া মৎস্য প্রজনন কেন্দ্রের (হ্যাচারি) পাশে কাশবনের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয় সাগরের লাশ।

 

 

 

 

 

 

এর আগে সাগরকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যাকাণ্ডের স্থিরচিত্র ও ভিডিও চিত্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পুলিশ তৎপর হয়ে লাশটি উদ্ধারের পর নিহতের পরিবারের লোকজন এসে সাগরকে শনাক্ত করে।

 

 

 

 

 

এ ঘটনায় নিহতের বাবা শিপন মিয়া বাদি হয়ে গেল বছরের ২৬ সেপ্টেম্বর গৌরীপুর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় হ্যচারি মালিক আক্কাস আলি ওরফে আক্কা, হাসু, ছাত্তার, জুয়েল, সোহেল ও কর্মচারী কাইয়ুমসহ অজ্ঞাতনামাদের আসামি করা হয়।

 

 

 

 

 

 

মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা ময়মনসিংহ গোয়েন্দা পুলিশের উপ-পরিদর্শক পরিমল চন্দ দাস বৃহস্পতিবার বলেন, চাঞ্চল্যকর সাগর হত্যাকাণ্ডের অভিযোগপত্রটি আদালতে জমা দেয়া হলেও বিচারক সেটিকে এখনও আমলে নেননি। অভিযোগপত্রটি দ্রুত বিচারে আমলে নেয়া হলে নৃশংস হত্যাকাণ্ডটির বিচারকাজ দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।