প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি জনসমর্থন হারিয়ে এখন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নিয়ে তারা নতুন ষড়যন্ত্র শুরু করেছে। তবে এতে বিএনপি সফল হবে না। ২০০১ সাল আর এদেশে ফিরে আসবে না।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার সিলেটের রেজিস্টারি মাঠে সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগ আয়োজিত শোক দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

 

 

 

এসময় তিনি বলেন, এই সরকারের অধীনে, এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে নির্বাচন হবে। এই নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করা হলে রাজপথেই বিএনপিকে শায়েস্তা করা হবে।

 

 

 

 

 

তিনি আরো বলেন, ‘আজ মির্জা ফখরুল সাহেব ২১ শে আগস্টের গ্রেনেড হামলার বিচার চান। কতোটা নির্লজ্জ হলে তিনি এ কথা বলতে পারেন। তিনি কার কাছে বিচার চাইছেন? যাকে হত্যা করতে চেয়েছিলেন তার কাছে?

 

 

 

 

গ্রেনেড হামলায় বিএনপি জড়িত এমন দাবি করে তিনি বলেন, হাওয়া ভবন ছিলো গ্রেনেড হামলার মাস্টার মাইন্ড। খালেদা জিয়াও এই হামলার দায় এড়াতে পারেন না। তারা যদি জড়িত না থাকন তাহলে কেনো আন্তর্জাতিক তদন্ত হলো না, কেনো হামলার আলামত নষ্ট হলো, আর কেনইবা জজ মিয়া নাটক সাজাতে হলো? এই হামলা ছিলো শেখ হাসিনাকে হত্যার চক্রান্ত, আর এতে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব জড়িত ছিলো।

 

 

 

 

 

 

বিএনপির সংলাপের দাবি নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সংলাপের বিরুদ্ধে নই, আমরাও সংলাপ করতে চাই। কিন্তু কার সাথে সংলাপ করবো? যারা ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালিয়ে আওয়ামী লীগকে নিঃশেষ করে দিতে চেয়েছে তাদের সাথে? সংলাপের দরজা সেদিনই বন্ধ হয়ে গেছে যেদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মুখের ওপর খালেদা জিয়ার বাসার দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিলো। খালেদা জিয়ার ছেলে মৃত্যুর সংবাদ শুনে শোক জানাতে গিয়েছিলেন আমাদের নেত্রী। কিন্তু সেদিন আপনারা দরজা বন্ধ করে দিয়েছেন। সংলাপের দরজাও সেদিন বন্ধ হয়ে গেছে।

 

 

 

 

 

তিনি নেতা কর্মীদের আগামী নির্বাচনের জন্য ঐক্যবদ্ধ থাকার আহবান জানিয়ে বলেন, সকল ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে আগামী নির্বাচনে সিলেটে আওয়ামী লীগকে বিজয়ী করতে হবে।

 

 

 

 

 

সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বদর উদ্দিন আহমদ কামরানের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ মিঠু, এনামুল হক শামীম, আহমদ হোসেন, মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, দপ্তর সম্পাদক আব্দুস সোবহান গোলাপ, সিলেট-৪ আসনের সাংসদ ইমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সাংসদ মাহমুদুস সামাদ কয়েস, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ্যাড. লুৎফুর রহমান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদ উদ্দিন আহমদ প্রমুখ।

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ তার বক্তব্যে বলেন, নির্বাচন যথাসময়ে হবে। বিএনপি এখনো হত্যার রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তারা নির্বাচনে আস্থা রাখে না, জনগণে আস্থা রাখে না। তারা চায় বোমাবাজি, আর মানুষ পুড়িয়ে ক্ষমতায় আসতে। তারা নিজেরা আন্দোলন করতে পারে না তাই কোমলমতি শিশুদের আন্দোলন নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছিলো।

 

 

 

 

 

জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আগস্ট শুধু শোকের মাসই নয়, আগস্ট আমাদের কাছে আতঙ্কের মাস। ১৫ আগস্ট বাঙালী জাতির ইতিহাসে কলঙ্কময় দিন। এইদিন ঘাতকরা স্বপরিবারে হত্যা করেছে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, বাংলাদেশের স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে। এই আগস্ট মাসেরই ১৭ তারিখে মুন্সিগঞ্জ ছাড়া দেশের ৬৩ জেলায় সিরিজ বোমা হামলা করেছে মৌলবাদী গোষ্ঠি, আর ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শুণ্য করতে চালানো হয়েছিলো গ্রেনেড হামলা।

 

 

 

 

 

দুপুর দুইটা থেকে শুরু হওয়া এই আলোচনা সভাকে ঘিরে সিলেট আওয়ামী লীগের তৎপরতা ছিলো চোখে পড়ার মতো। সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে জড়ো হতে থাকে নেতাকর্মীরা। সভার নির্ধারিত সময়ের আগেই রেজিস্ট্রারি মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কেন্দ্রীয় নেতারা আসার পর আলোচনা সভায় জনসমাগমে মহাসমাবেশে রুপ নেয়। নেতাকর্মীদের স্লোগানে মুখরিত হয় সভাস্থল।

 

 

 

 

 

 

 

 

 

সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিকুর রহামানের পরিচালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সাংসদ মুহিবুর রহমান মানিক, সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান, মৌলভীবাজার পৌরসভার মেয়র ফজলুর রহমান, সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি আশফাক আহমদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. নাসির উদ্দিন খান, সিলেট মহানগর আওয়ামী লীগের সহ সভাপতি বিজিত চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম নাদেল, আওয়ামী লীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদ, এ্যাড. রঞ্জিত সরকার, সুব্রত পুরকায়স্থ, যুবলীগ নেতা মুশফিক জায়গীরদার, মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি আব্দুল বাছিত রুম্মান, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম তুষারসহ আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীরা।