প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে গ্রেপ্তার করা বাংলাদেশ সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর পুত্র এবং তার তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

 

 

 

 

বুধবার(২৯ আগস্ট ২০১৮)মার্কিন গণমাধ্যম রিয়েল ক্লিয়ার ওয়ার্ল্ডে প্রকাশিত এক নিবন্ধে তিনি এই মন্তব্য করেন।

 

 

 

 

 

সজীব ওয়াজেদ জয় বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে কোনও জনাকীর্ণ থিয়েটার হলে আগুন না লাগলেও আগুন আগুন বলে চিৎকার করা বেআইনি। বাংলাদেশে শহিদুল আলম এটাই করেছেন এবং তার বিরুদ্ধে সঠিকভাবেই অপরাধী হিসেবে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, গত মাসে রাজধানী ঢাকায় বাসের ধাক্কায় দুই স্কুলশিক্ষার্থীর মৃত্যুর ঘটনায় শোকাহত হয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমে আসে এবং নিরাপদ সড়কের দাবি জানায়। সরকার তাদের দাবি মেনে নেয়। সরকার ট্র্যাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ ও বেপরোয়া গাড়িচালানোর জন্য সাজা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সফল হয়।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, দেশের প্রধানবিরোধী দলের নেতারা এই আন্দোলনে তাদের রাজনৈতিক সুবিধা হাসিলের সুযোগ দেখে। বিএনপি সদস্যরা আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঢুকে পড়ে, স্কুল ড্রেস পরে তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যায় এবং শিক্ষার্থীদের উসকে দেয়। শান্তিপূর্ণ আন্দোলন সহিংসতায় রূপ নেয়।

 

 

 

 

প্রধানমন্ত্রী তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা বলেন, এই ভয়ঙ্কর পরিবর্তনের জন্য দায়ীদের অন্যতম শহিদুল আলম। সহিংসতায় উসকানি দেয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি উসকানি দিতে পেরেছেন কারণ তার সেলিব্রেটি ইমেজ রয়েছে। তাই উসকানি দেয়ার পরও তার পক্ষে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সরব তৎপরতা দেখা গেছে।

 

 

 

 

 

তিনি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে শহিদুল আলম স্বাধীনভাবে ভিন্নমত প্রকাশ করে গেছেন। কখনও কখনও তিনি বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে কথা বললেও সরকারের কঠোর সমালোচনাও করেছেন। সবসময় সরকার তার বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা দিয়েছে, যা সব বাংলাদেশিরই আছে।

 

 

 

 

 

তিনি আরও বলেন, সরকারকে জনস্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হয়, তাই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রকৃতপক্ষে সরকারের এই উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজনীয় ছিল। তাই শহিদুল আলম ভুক্তভোগী নন, বরং তার কর্মকাণ্ডই অনেক মানুষের ক্ষতির কারণ হয়েছে।

 

 

 

 

 

 

উল্লেখ্য, নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ৬ আগস্ট শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগের দিন রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাকে তুলে নেয় ডিবি।