প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     পশ্চিমা দেশগুলোতে সুন্দরী প্রতিযোতিতায় অংশ নিতে হলে সংক্ষিপ্ত পোশাক পড়তে হয় এমনটাই ভেবে থাকেন সবাই। এই ধারণাকেই ভুল প্রামাণ করে দিয়েছেন পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত সারা ইফতিখার। হিজাব পরেই এ বছর মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত জয়ী হতে না পারলেও ইতিহাস গড়েছেন এই মুসলিম তরুণী।

 

 

 

 

রক্ষণশীল পরিবারের মেয়ে সারা বলেন, ‘২২ হাজারের মধ্যে সেরা পঞ্চাশে জায়গা পেয়ে সম্মানিত আমি। হতে পারে আমি প্রথম হিজাব পরিহিতা ফাইনালিস্ট। তবে দিনের শেষে আমি আর পাঁচটা সাধারণ মেয়ের মতোই। আমার মতো সকলেরই এই পর্যায়ে পৌঁছানোর সুযোগ রয়েছে।’

 

 

 

 

 

২০ বছর বয়সী সারা বর্তমানে ওয়েস্ট ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন বিষয়ে পড়ছেন। এক সাক্ষাৎকারে জানান, নিজেকে কখনই শুধুমাত্র পড়াশোনার গন্ডির মধ্যে আটকে রাখতে চাননি তিনি।

 

 

 

 

সাজগোজের দিকে বরাবরই আগ্রহ ছিল তাঁর। মেক-আপ আর্টিস্ট হিসেবেও কাজ করেছেন। সেই সূত্রেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়ে যান।

 

 

 

 

 

চলতি বছর জুলাইয়ে মিস হাডার্সফিল্ড নির্বাচিত হন সারা। সেখান থেকেই মিস ইংল্যান্ড প্রতিযোগিতার জন্য মনোনয়ন পান তিনি।

 

 

 

 

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় দারুন জনপ্রিয় সারা। সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা সম্পর্কে প্রচলিত ধ্যান ধারণা ভাঙতে চান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি যদি পা থেকে মাথা পর্যন্ত ঢেকে রাখতে চাই, রক্ষণশীল পোশাক পরতে চাই, তাতে সমস্যা কোথায়?

 

 

 

 

বাকিদের মতো আমিও একজন প্রতিযোগী। আমি যদি নিজের বার্তা পৌঁছে দিতে পারি, তাহলে আরও অনেকেই সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে অনুপ্রাণিত হবেন।’

 

 

 

 

 

দুঃস্থ শিশুদের জন্যও কাজ করছেন সারা। ইনস্টাগ্রামে তাদের নিয়ে একটি পেজ খুলেছেন এই সুন্দরী। ১৬ বছর বয়স থেকে জামাকাপড়ের ব্যবসা করছেন তিনি। আয়ের একটি বড় অংশ তিনি মিস ওয়ার্ল্ড কর্তৃপক্ষের ‘বিউটি উইথ পারপাস’নামের একটি সংস্থায় দান করেছেন।

 

 

 

 

 

সুন্দরী প্রতিযোগীতার সংজ্ঞা পাল্টে দেওয়া সারা বলেন, ‘সৌন্দর্যের কোনও নির্দিষ্ট সংজ্ঞা নেই। জাতি, বর্ণ, ওজন, আকার যাই হোক না কেন, প্রত্যেকেই নিজের মতো করে সুন্দর।’