প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার নয়! মেয়ে বডিবিল্ডার। কোনও ভারতীয় পরিবার এমনটা ভাবতে পারে না। ইউরোপা ভৌমিক ঠিক তাই করে দেখিয়েছেন। যার পেশিবহুল শরীরে নজর কেড়েছে সবার। জাতীয় স্তর পেরিয়ে আন্তর্জাতিক স্তরেও সাফল্য পেয়েছেন তিনি।

 

 

 

 

বছর উনিশের বাঙালি তরুণী ইউরোপা ভৌমিক এখন দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন বডিবিল্ডিং-এর আসরে। উচ্চতা ৪ ফুট ১১ ইঞ্চি। লম্বা না হওয়ার জন্য অল্প বয়সেই সহপাঠীদের মধ্যে বিদ্রুপের শিকার হতেন ইউরোপা।

 

 

 

 

প্রতিযোগিতায় নামেন ইউরোপা। তবে সেই প্রতিযোগিতায় হেরে যান তিনি। ১৯ বছরের এই মেয়েটা ইতিমধ্যে ভারত তথা এশিয়ার মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ পেশাদার দেহ সৌষ্ঠব প্রতিযোগিতায় খ্যাতি অর্জন করেছে।

 

 

 

 

 

সত্যি কথা বলতে কী, মনোহর আইচ কিংবা গুণময় বাগচির নাম আমরা বেশ কয়েকবার শুনেছি। কিন্তু, কোনও বাঙালি মহিলা বডি বিল্ডারের নাম আমাদের কানে আসেনি।

 

 

 

 

এবার সেই “না-শোনার” চৌকাঠটাই অতিক্রম করল নিউটাউনের ইউরোপা। বলা ভালো, পেশি শক্তি সঞ্চালনের জগতে ইউরোপা প্রথম বাঙালি মহিলা, যে আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের নাম উজ্জ্বল করল।

 

 

 

 

 

তথাকথিত সুন্দরী বঙ্গ ললনাদের সাধারণ মাপকাঠিতে যেমন চেহারা হয়, ইউরোপা ঠিক তার উলটো। উচ্চতা ৪ ফুট ১০ ইঞ্চি। পেশিবহুল চেহারা। পরিমার্জিত চুলের স্টাইল। প্রথম সাক্ষাতেই মনে হবে, আধুনিক ফ্যাশনের একজন কিশোরী।

 

 

 

 

কথায় কথায় উঠে এল “ইউরোপা” নামের প্রসঙ্গ। একটু অদ্ভুত নাম। কিন্তু, এর পিছনে কারণটা কী? উত্তরে ইউরোপা জানাল যে তাঁর জীবনটা অনেকটা “লাইফ অফ পাই” সিনেমার মত। ইউরোপার বাবা পরিমল ভৌমিক জাহাজের ক্যাপ্টেন। মা সুপর্ণা ভৌমিক গৃহবধূ।

 

 

 

 

 

মেয়ের জন্মের সময় দু’জনেই নাকি জাহাজে ছিলেন। জাহাজের নাম ছিল স্যামপোল ইউরোপা। জাহাজের নাবিকরা ঠিক করেছিলেন ছেলে হলে নাম হবে স্যাম ও মেয়ে হলে নাম থাকবে ইউরোপা। জন্ম হয় ইউরোপার। অর্থাৎ জন্ম থেকেই ইউরোপা সবার থেকে আলাদা।

 

 

 

 

 

শৈশবটা আর পাঁচটা মেয়ের মতোই ছিল ইউরোপার। শিক্ষিত পরিবারের মেয়ে। ছোটোবেলা থেকে নামকরা বেসরকারি স্কুলে পড়াশুনো করেছে। কিন্তু, প্রথমে নিজের শরীর নিয়ে একেবারে আত্মবিশ্বাসী ছিল না। সেকারণে ১২ বছর বয়সে জিমে যোগ দেয়। এরপর কয়েকমাসের মধ্যে শরীরের গঠনে রূপান্তর আসতে শুরু করে।

 

 

 

 

 

 

ধীরে ধীরে বডি বিল্ডিংয়ের প্রতি একটা ভালোবাসা জন্মায়। এরপর ট্রেনারের সঙ্গে জিম করতে করতেই পেশাদার বডি বিল্ডিংয়ে চলে আসে ইউরোপা। চলতি বছর জাতীয় বডি বিল্ডিং প্রতিযোগিতায় তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে ইউরোপা। পাশাপাশি এশিয়া বডি বিল্ডিং চ্যাম্পিয়নশিপে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে।