প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:   বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিকটিসের তথ্য অনুযায়ি ১৯০১ সালে বাংলাদেশে হিন্দুর সংখ্যা ছিল মোট জনসংখ্যার ৩৩ শতাংশ। ১৯৬১ সালে কমে হয় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ। ১৯৭০ সালেও হিন্দু জনগোষ্ঠি ছিল মোট জনসংখ্যার ১৭ শতাংশ। আর ১৯৭৪ সালে হিন্দুর সংখ্যা দাড়ায় ১৩ দশমিক ৫ শতাংশে।

 

 

 

 

 

১৯ জুলাই ২০১৮ তে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভারতের সংসদে বাংলাদেশ ব্যুরো অব স্ট্যাটিকটিসের বরাত দিয়ে জানান বাংলাদেশের এখন মোট জনসংখ্যার ১০ শতাংশ হিন্দু। এই হিসাবে দেখা যায়, ১৯৭০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ৭ শতাংশ হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়ে চলে গেছে।

 

 

 

 

 

এবারে ভোটের হিসাব, জাতীয় সংসদের আসন সংখ্যার হিসাবে দেখা যায়, ১৫ শতাংশ থেকে ৩২ শতাংশ হিন্দু জনগোষ্ঠি রয়েছে এমন এলাকায় সংসদীয় আসন রয়েছে ৫৩টি। দেশের ১৫টি জেলায় এগুলো অবস্থিত।

 

 

 

 

 

আর ১৫ শতাংশের নীচে আবার ১০ শতাশের উপরে এমন সংসদীয় আসন রয়েছে ৬২টি।অর্থাৎ ৩০০ আসনের ১১৫টি আসনে হিন্দুদের ভোটের ফ্যাক্টর রয়েছে।

 

 

 

 

 

যা কোন দলকে সরকার গঠনে সহায়তা করে না। কারণ সরকার গঠনে ১৫১টি আসনের প্রয়োজন রয়েছে। সুতরাং ভোটের হিসাবেও হিন্দুরা বাংলাদেশে আর গুরুত্বপূর্ণ নয়।

 

 

 

 

বাংলাদেশের মুসলিম ধর্মাবালম্বি, সেকুলার,নাস্তিক, মৌলবাদি ও সাম্প্রদায়িক মুসলিম তাদের সম্মিলিত মত হলো, হিন্দুরা ধর্মের ব্যাপারে খুবই মৌলবাদি তাই ভারতের একই ধর্মাবলম্বি হিন্দুদের কাছে চলে গেছে। সুতরাং হিন্দুদের সংখ্যা কমে যাওয়া কোন দুঃখের বিষয় না।

 

 

 

বাংলাদেশ ও ভারতের সরকার প্রধানরা এটাকে একটি সাধারণ ঘটনা হিসাবে মেনে নিয়েছে। দুই দেশের সরকারের অবহেলার শিকার বাংলাদেশের হিন্দু।তারা ভারতে গেলে হয় রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী।আর বাংলাদেশে সংখ্যাগুরু জনগোষ্ঠির ধর্মীয় রাজনীতির মাপকাঠি।

 

 

 

 

যাই হোক বাংলাদেশে এখন যেসব হিন্দু রয়েছেন সংখ্যায় মাত্র দেড় কোটি।তারা বড় কোন রাজনৈতিক শক্তি না। বড় অর্থনৈতিক শক্তিও না। দেশের স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, প্রতিরক্ষা কোন স্থানেই তাদের স্থান নেই। গত ৪৬ বছরেও তাদের স্থান হয়নি।এর বাইরে সরকারি চাকরিতে সব মিলে হিন্দু জনগোষ্ঠির লোক ৩ শতাংশ।(সূত্র; অর্থমন্ত্রণালয়ের পুজার বোনাসের হিসাব থেকে)

 

 

 

 

কিন্তু জনসংখ্যার হিসাবে যা ১০ শতাংশ হওয়ার কথা। পরিসংখ্যান ব্যুরোর শিক্ষার হিসাবে আরো বেশি, কারণ বয়স্ক শিক্ষায় হিন্দু জনগোষ্ঠি ৬২ শতাংশ আর মুসলিম হলো ৫৪ শতাংশ। বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের ৪৮টি ব্যাংকে হিন্দু পরিচালক মাত্র ৭ জন। দেশের সিটি কর্পোরেশনগুলোর কোন নির্বাচনেই হিন্দু মেয়র কখনো ছিল না।

 

 

 

 

 

দেশের ব্যবসায়ীদের সবচেয়ে বড় সংগঠন এফবিসিসিআইয়ে হিন্দু সভাপতি দূরে থাক কোন পরিচালকও কখনো হিন্দু হয়নি। বিজিএমিইএবা বিকেএমইএ কোন হিন্দু সভাপতি বা পরিচালক হয়নি। ১৯৯৬-২০০১ সালের আওয়ামী লীগ সরকারে কোন হিন্দু কেবিনেট ছিল না।

 

 

 

 

 

২০১৪ দশম সংসদে কোন কেবিনেট মন্ত্রী নেই। ২০০৯ সালে কেবিনেটে অবশ্য দুজন কেবিনেট মন্ত্রী ছিলেন। বর্তমানে কেবিনেটে পূর্ণ মন্ত্রী মাত্র একজন। আর প্রতি মন্ত্রী একজন। বড় রাজনৈতিক দল এমনকি কমিউনিস্ট পার্টিতেও প্রেসিডিয়াম সদস্য দুই এক জনের বেশি কখনই হয়নি।

 

 

 

 

 

বাংলাদেশের এই পরিস্থিতিতে হিন্দুদের মধ্যে সবচেয়ে বড় পদটি পেয়েছিলেন সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি। তাকে নিয়ে কত কান্ড। একবার এ লাগে তো আরেকবার ও লাগে। অবশেষে নিজের বাড়ি বিক্রি করে পদত্যাগ। পরে যুক্তরাষ্ট্রে পাড়ি।

 

 

 

 

নিজের বাড়ি বিক্রির টাকাও নাকি তার দুর্নীতির টাকা।৭০ এর পর স্বাধীনতার সুফল ৭১টেলিভিশনে ফলাও প্রচার।এ কথাগুলো বলা হলো এ কারণে যে এখন নির্বাচন। ইতিমধ্যেই আমাদের রাষ্ট্রপতি হিন্দু নেতাদের বলেছেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে হবে।

 

 

 

 

আবার একই দিন আওয়ামী লীগ সেক্রেটারি বলেছেন, আপনারা সতর্ক হোন হিন্দুদের উপর হামলা হতে পারে।তার মানে বরাবরে মতই ইসলাম বাঁচাও ভোটের ইস্যু। ভোটের আগে হিন্দুদের উপর হামলা। কৃত্রিম প্রতিপক্ষ তৈরী করে ইসলামী ভোট নিজেদের বাক্সে নিয়ে নেয়া।

 

 

 

 

 

এখানে প্রশ্ন হলো, যেখানে দেশের ৯০ শতাংশ মুসলামান, তারাই নির্ধারণ করবেন কারা বাংলাদেশ চালাবে। এরজন্য ১০ শতাংশ হিন্দুকে কেন মারতে হবে।১০ শতাংশ যদি ভোট দেয় তবে তো ৯০ শতাংশকেই দিবে।এটি আগেই আলোচনা করেছি। কিন্তু মুসলমানরা ভোট কাকে দিবে।

 

 

 

 

 

 

যে সাচ্চা মুসলমান তাকেই তো মুসলমানের ভোট দেয়া উচিৎ। তাই সাচ্চা প্রমাণে মাপকাঠি হলো হিন্দু। হিন্দুদের মারপিট করতে হবে। যারা মার বেশি দিবে তারাই সাচ্চা। আর প্রেসিডেন্টের ঘোষণা অনুযায়ি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে এবারো বরাবরের মাপকাঠি হিসাবে ব্যবহার হবে হিন্দু সম্প্রদায়।