প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     সরকার খালেদা জিয়াকে কারাগারে হত্যার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শুক্রবার সকালে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন তিনি।

 

 

 

 

ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার পরিবারের সদস্যবৃন্দ দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সঙ্গে কারাগারে গিয়েছিলেন। তারা এসে যে বর্ণনা দিয়েছেন, তাতে আমরা উদ্বিগ্নই নই, আমরা হতবাক- বিস্মিত। এর পরও সরকার তার চিকিৎসার জন্য কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না।

 

 

 

 

‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাকে মিথ্যা সাজানো মামলায় শাস্তি দিয়ে কারাগারে বেআইনিভাবে আটক রেখে হত্যা করার হীন প্রচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার।’

 

 

 

 

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা আজকেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে চিঠি পাঠাব। আমরা তার সঙ্গে দেখা করতে চাই, দেখা করে দেশনেত্রীর সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাব।

 

 

 

 

বৃহস্পতিবার দেখা করে আসা পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য তুলে ধরে মির্জা ফখরুল বলেন, তারা জানিয়েছেন, দেশনেত্রী অত্যন্ত অসুস্থ। তার বাম হাত ও বাম পা প্রায় অবশ হয়ে গেছে। অসহ্য ব্যথা অনুভব করছেন তিনি। তিনি আরও বলেছেন- তার কোনো চিকিৎসা হচ্ছে না।

 

 

 

 

‘একই কথা তিনি বলেছেন ৫ তারিখে কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরিত বেআইনি আদালত কক্ষে। তিনি বলে দিয়েছেন- আমি আর এই আদালতে আসতে পারব না শারীরিক কারণে। আমরা তার স্বাস্থ্য নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন।

 

 

 

 

তিনি বলেন, দেশের সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী কোনো অসুস্থ নাগরিককে সুস্থ না হলে বিচারকার্য চালানো যায় না। এটি সম্পূর্ণ অমানবিক ও সংবিধান পরিপন্থী।

 

 

 

 

 

‘আমরা অনেকবার বলেছি, তাকে পরীক্ষা করে চিকিৎসকরাও বলেছেন, তিনি মারাত্মকভাবে অসুস্থ। অবিলম্বে বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তর করে তাকে চিকিৎসা দেয়া তার জীবন রক্ষার জন্য অতিপ্রয়োজন।

 

 

 

 

 

আমরা অত্যন্ত গুরুত্ব দিচ্ছি তার জীবন রক্ষার জন্য। এখন যে অবস্থায় তিনি আছেন তাতে তার জীবন নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে, তিনি এ অবস্থায় কতদিন বেঁচে থাকতে পারবেন।’

 

 

 

 

মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যথায় সব দায়দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে। বিশেষ করে সংবিধান লঙ্ঘন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে তাদের অভিযুক্ত হতে হবে।

 

 

 

 

‘আমরা কারা কর্তৃপক্ষকেও স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্তৃপক্ষ। আপনাদের দায়িত্ব সুস্পষ্টভাবে আইন ও বিধান দ্বারা পরিচালিত। এই দায় আপনাদেরও বহন করতে হবে।’

 

 

 

 

 

বিএনপি মহাসচিব বলেন, সরকার আমাদের কথা কর্ণপাত না করে খালেদা জিয়াকে পরিত্যক্ত নির্জন কারাগারে স্যাঁতসেঁতে ঘরে আবদ্ধ করে রেখেছে। একজন সাধারণ বন্দির সঙ্গে এ ধরনের আচরণ করে না।

 

 

 

 

 

‘সরকার তাকে আবার শাস্তি দেয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। এটি স্পষ্ট যে, দেশনেত্রীকে রাজনীতি থেকে এবং আসন্ন নির্বাচন থেকে দূরে সরিয়ে রেখে একতরফাভাবে নির্বাচনে নিজেদের নির্বাচিত ঘোষণা করার নীলনকশা নিয়েই এ অপপ্রয়াস চালাচ্ছে সরকার।’

 

 

 

 

 

 

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, কেন্দ্রীয় নেতা সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, মাসুদ অরুণ, মুনির হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।