প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:     চলতি বছরের শেষ সপ্তাহে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সংবিধান অনুসারে নির্বাচনকালীন সরকারের অধীনে হবে এই নির্বাচন।ক্ষমতাসীন দলের নেতা ও মন্ত্রীরা জানিয়েছেন, চলতি মাসে অথবা অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে।

 

 

 

 

নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে এখন রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত ইস্যু নির্বাচনকালীন সরকার। এই সরকারের মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে, কারা থাকছেন তাতে— এমন জল্পনা-কল্পনা সবখানে।

 

 

 

 

সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা না হলেও ক্ষমতাসীন দলের নেতারা তাদের বক্তব্যে এই সরকারের কাঠামো, আকার এবং কর্মপরিধি সম্পর্কে ধারণা দেয়ার চেষ্টা করছেন।

 

 

 

 

 

অর্থমন্ত্রী আবদুল মাল আবদুল মুহিত তো একধাপ এগিয়ে জানিয়েছেন, ২৭ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। আর ২০ দিনের মধ্যে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। ওই সরকারে নিজের থাকার সম্ভাবনার কথাও স্পষ্ট করেছেন তিনি।

 

 

 

 

 

যদিও ঘটা করে নির্বাচনের তারিখ বলে দেয়ায় অর্থমন্ত্রীর প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নূরুল হুদা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

 

 

 

 

 

সিইসি বলেছেন, অর্থমন্ত্রী নির্বাচনের তারিখ বলে ঠিক কাজ করেননি। আর ওবায়দুলের কাদেরের ভাষ্য, এসব বলার দায়িত্ব কোনো মন্ত্রীর নয়, নির্বাচন কমিশনের। নির্বাচন কমিশনকে বিব্রত করা আমাদের কাজ না। নির্বাচন কমিশনই বলবে কবে নির্বাচন হবে।

 

 

 

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিসেম্বরে নির্বাচন। চলতি মাসেই এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন।

 

 

 

 

নির্বাচনকালীন সরকারের আকার নিয়ে আওয়ামী লীগের এই সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার কখন হবে, সাইজ কি হবে? আকারে কতটা ছোট হবে, মন্ত্রিসভায় কতজন থাকবেন, তা একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছাড়া এ বিষয়ে আর কেউ জানেন না। পার্টির সাধারণ সম্পাদক হয়ে আমিও এখন পর্যন্ত জানি না।’

 

 

 

 

 

তবে ওবায়দুল কাদেরই গত ২০ জুন বলেছিলেন, ‘আগামী অক্টোবরে নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। সে সময়ে মন্ত্রিসভার আকার ছোট হবে।’

 

 

 

 

 

আওয়ামী লীগের একাধিক কেন্দ্রীয় নেতা  বলেছেন, ‘নির্বাচনকালীন সরকার গঠন প্রধানমন্ত্রীর এখতিয়ারে। এটা কেমন হবে আমাদের জানা নেই।’

 

 

 

 

 

তবে দলের বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, ১৮ থেকে ২০ সদস্যের নির্বাচনকালীন সরকার গঠন করা হবে। এতে দলের সিনিয়র ও সরকারের একাধিক মন্ত্রী থাকবেন। ভিন্ন পরিস্থিতি না হলে জাতীয় পার্টি এবং ১৪ দলের শরিকদের থেকেও এই সরকারে ঠাঁই দেয়া হবে।

 

 

 

 

 

সূত্রের দাবি, আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমদ, মতিয়া চৌধুরী, আবুল মাল আবদুল মুহিত, সৈয়দ আশরাফুল ইসলামসহ সিনিয়র নেতাদের নির্বাচনকালীন সরকারে থাকা অনেকটাই নিশ্চিত।

 

 

 

 

 

এছাড়া আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গুডবুকে’ থাকা বিশ্বস্ত নেতারাও স্থান পাবেন এই নির্বাচনকালীন সরকারে।