প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগে করেছেন, সরকার কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেবে না, ফেসবুকে লিখলেও ৫৭ ধারায় মামলা দেওয়া হচ্ছে, কাগজে লিখতে দিচ্ছে না। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের জানিয়ে দিয়েছে, শেষ রক্ষা হবে না।

 

 

 

 

আজ শনিবার বিকেলে ঢাকার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণসভায় মির্জা ফখরুল ইসলাম এ মন্তব্য করেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান কাজী জাফর আহমেদের তৃতীয় মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণ সভার আয়োজন করা হয়।

 

 

 

 

কাদের বলেন, নির্বাচনের পরিবেশ যখন হবে, তখন নির্বাচন হবে। নির্বাচনের আগে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে, সংসদ ভেঙে দিতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে যোগ্য ব্যক্তিকে দিয়ে কমিশন গঠন করতে হবে, নির্বাচনে সেনা মোতায়েন করতে হবে-এগুলোর মাধ্যমে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে।

 

 

 

 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, সরকার সুষ্ঠু নির্বাচনের সব রাস্তা বন্ধ করে দিচ্ছে। সরকারের লোকেরা বহু কথা বলছেন। কিছুদিন আগে তাঁরা ছবক দিতেন, নির্বাচনের কথা বলতেন। আসেন না নির্বাচনে, ভয় কেন? তিনি বলেন, কোনো কিছু পরিবর্তন না করে পুলিশ দিয়ে নেতা-কর্মীদের কারাগারে আটকে রেখে একা একা হেলিকপ্টারে করে ঘুরে বেড়িয়ে ভোট নেওয়া, এটি দেশের মানুষ হতে দেবে না। মানুষ গ্রহণ করবে না।

 

 

 

 

 

ফখরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সরকার কোথাও সভা-সমাবেশ করতে দেবে না, ফেসবুকে লিখলে ৫৭ ধারায় মামলা, কাগজে লিখতে দিচ্ছে না। কিন্তু দেশের মানুষ তাদের জানিয়ে দিয়েছে, শেষ রক্ষা হবে না। তিনি বলেন, সারা দেশ কারাগারে পরিণত হয়েছে।

 

 

 

 

এটি আসলে এখন নরক হয়ে গেছে। প্রতিটি গ্রাম, ইউনিয়নে বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে আগাম মামলা দিয়ে রাখা হচ্ছে। ঢাকার সব থানায়, ওয়ার্ডে আগাম মামলা দিয়ে রাখা হচ্ছে। নির্বাচন আসলে এসব মামলায় নেতা-কর্মীদের গ্রেপ্তার করা হবে। কী কাপুরুষ? সরকার কতটা কাপুরুষ হলে এই ব্যবস্থা নিতে পারে।

 

 

 

 

 

ইদানীং ভারতের পত্রপত্রিকা ভিন্ন সুরে কথা বলছে দাবি করে ফখরুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী লিখেছেন, যদি অবাধ সুষ্ঠু নির্বাচন হয় আওয়ামী লীগের লজ্জাজনক পরাজয় ঘটবে। এটাই বাস্তবতা।

 

 

 

 

 

সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদন উদ্‌যাপনের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, উন্নয়নের ফুলঝুরি ছড়ানো হচ্ছে, অন্ধকার আকাশে আতশবাজি করা হচ্ছে। এতে কাজ হবে না। আওয়ামী লীগ প্রচণ্ড ভয় পেয়েছে। সামনের নির্বাচনে পরাজয় ঠেকাতে অন্যায়, অগণতান্ত্রিক সব ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। বাস্তবতা ঠেকাতে আওয়ামী লীগ যা খুশি তাই করছে। টিকে থাকতে সবকিছু তছনছ করে দিচ্ছে।

 

 

 

 

 

প্রয়াত কাজী জাফরের স্মৃতিচারণ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, কাজী জাফর আহমেদের মধ্যে নেতৃত্বের সব গুণাবলি ছিল। রাজনীতির বাইরেও তিনি শ্রমিক নেতা হিসেবে জনপ্রিয় ছিলেন। রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন জায়গায় থাকলেও জনগণের কাছ থেকে তিনি কখনো বিচ্ছিন্ন হননি।

 

 

 

 

তিনি কিংবদন্তি নেতা। বাংলাদেশের রাজনীতির বাঁকে বাঁকে যখনই প্রয়োজন হয়েছে তিনি সামনে চলে আসতেন। তিনি আরও বলেন, কিউবার নেতা ফিদেল কাস্ত্রোকে বাতিস্তা সরকার সাজা দেওয়ার পর তিনি বলেছিলেন, ইতিহাস আমাকে ধারণ করবে, তোমরা আমাকে সাজা দিতে পার। কাজী জাফর আহমেদকে ইতিহাস ধারণ করে আছে। খালেদা জিয়াকে ইতিহাস ধারণ করছে।

 

 

 

 

 

স্মরণসভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান টি আই এম ফজলে রাব্বি চৌধুরী। সভায় আরও বক্তব্য দেন মোস্তফা জামাল হায়দার, জাফর আহমেদের মেয়ে কাজী জয়া, ইসমাইল হোসেন।

 

 

 

 

 

 

জোটের শরিক দলের নেতাদের মধ্যে ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খন্দকার গোলাম মোর্তজা, রেদওয়ান আহমেদ, আহসান হাবিব, সাইফুদ্দিন আহমেদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, গোলাম মোস্তফা ভূঁইয়া, প্রয়াত শফিউল আলম প্রধানের মেয়ে তাসমিয়া প্রধান প্রমুখ।