প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জোরপূর্বক বাড়ি থেকে স্কুল ছাত্রীকে তুলে নিয়ে ধর্ষণের ঘটনার মামলা দায়েরের ২৮ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ ধর্ষকদের গ্রেফতার করতে পারেনি।

 

 

 

 

অভিযোগ রয়েছে, আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ালেও অজ্ঞাত কারণে পুলিশ তাদের ধরছে না। আর পুলিশ বলছে, মামলা তদন্তের পাশাপাশি অভিযান চলছে, কিন্তু আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

 

 

 

 

 

অন্যদিকে, প্রভাবশালী ধর্ষকদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াচ্ছে স্কুলছাত্রীর পরিবার। হুমকিতে স্কুলও ছেড়েছে মেয়েটি। ধর্ষকদের বিচারের জন্য সাহায্যের আশায় দ্বারে দ্বারে ঘুরছে অসহায় বাবা।

 

 

 

 

 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১১ আগস্ট রাতে উপজেলার উধুনিয়া ইউনিয়নের বাবলুদহ গ্রামের দিনমজুর এরশাদ আলী মেয়ে স্থানীয় স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রীকে রাতে ঘর থেকে বের হলে একই গ্রামের সোনাউল্লাহ’র ছেলে মোতালেব তার দুই সহযোগী আব্দুল করিম ও সাগর মিয়ার সহযোগিতায় মুখে গামছা বেঁধে মোতালেবের বাড়িতে তুলে নিয়ে ধর্ষণ করে।

 

 

 

 

 

খোঁজাখুজির একপর্যায়ে এলাকাবাসীর সহায়তায় মোতালেবের বাড়িতে হাত-মুখ বেঁধে ধর্ষণ অবস্থায় মোতালেবকে পাওয়া যায়। কিন্তু লম্পট মোতালেব পালিয়ে যায়। বিষয়টি তাৎক্ষণিক ইউপি সদস্যসহ স্থানীয় মাতব্বরদের জানানো হয়। তারা উপযুক্ত বিচার দেয়ার আশ্বাস দেয়। কিন্তু বিচার না পেয়ে ১২ আগস্ট মেয়েটির বাবা এরশাদ বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। কিন্তু অদ্যাবদী পর্যন্ত কোন আসামিকে পুলিশ গ্রেফতার করেনি।

 

 

 

 

স্কুলছাত্রীর বাবা এরশাদ আলী জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিরা এলাকায় প্রকাশ্যে ঘুরছে। পুলিশ তাদের গ্রেফতার করছেনা। কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি আসামিদের পক্ষ নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দিতে তাদের ভয়ভীতি-হুমকি দিচ্ছে। তাদের ভয়ে গ্রাম ছেড়ে পালিয়ে রয়েছি। ধর্ষকদের ভয়ে মেয়েটিও স্কুলে যেতে পারছে না।

 

 

 

 

 

স্কুল ছাত্রী কালো রাতের ঘটনা বর্ণনা করে কান্নাজড়িত কন্ঠে জানান, নিজস্ব সর্বস্ব খুইয়ে বিচারের আশায় মামলা করেছি। কিন্তু মামলা করে এখন লম্পটদের হুমকিতে পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। আমরা গরীব বলে কি ন্যায় বিচার পাব না?

 

 

 

 

 

 

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উল্লাপাড়া মডেল থানার উপ-পরিদর্শক জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কিন্তু আসামিদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।