প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : অনেক পরিবারেই দেখা যায় যে বড়দের তুলনায় বাচ্চারাই বামা-মায়ের স্মার্টফোন বা ট্যাবলেট ব্যবহার করছে। এমনকি এতে তারা অভিভাবকদের চেযে বেশি পারদর্শিতাও অর্জন করে ফেলেছে। অনেক শিশুর ক্ষেত্রে এটা রীতিমত আসক্তিতে পরিণত হয়েছে। কাজেই শিশুরা বাবা-মায়ের ফোন নিয়ে এত বেশি সময় কাটাচ্ছে যে অনেক অভিভাবকই এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন।

 

এই শঙ্কা থেকে বেরিয়ে আসতে বড় বিনিয়োগকারীরা আইফোন নির্মাতার দ্বারস্থ হয়েছে। তাদের আহ্বান, অ্যাপল যেন এমন সফটওয়্যার তৈরি করে যা বাচ্চাদের স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত করে দেবে। এমন দুটি বিনিয়োগ কম্পানি এই আহ্বান জানিয়েছে যারা অ্যাপলের ২ বিলিয়ন ডলারের শেয়ারের মালিক।

জানা পার্টনার্স এবং ক্যালিফোর্নিয়া টিচার্স পেনশন ফান্ড নামে এ দুটি প্রতিষ্ঠানের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে অ্যাপলকে এক ডিজিটাল লক চালু করার অনুরোধ জানানো হয়। এতে বলা হয়, শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর অতিরিক্ত স্মার্টফোন ব্যবহার যে প্রভাব ফেলছে তা অ্যাপলকে বিবেচনা করতে হবে।

 

তারা আরো বলেন, অ্যাপল যদি এই ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের ব্যাপারে কিছু না করে তাহলে তাদের সুনাম এবং স্টক মার্কেটে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

সম্প্রতি রয়টার্সের একটি রিপোর্টে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের অর্ধেক টিনএজার মনে করে যে তাদের মোবাইল ফোনের প্রতি আসক্তি তৈরি হয়ে গেছে। তারা কোনো মেসেজ এলে সঙ্গে সঙ্গেই তার জবাব দিতে অস্থিরতা বোধ করেন।

লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স-এর সামাজিক মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক সোনিয়া লিভিংস্টোন বলেন, এই আহ্বান শুনে তিনি খুশি হয়েছেন। অ্যাপল এবং অন্যান্য প্রস্তুতকারকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান যেন স্মার্টফোনে যেন বাচ্চাদের দীর্ঘ সময় ব্যবহারের পর বিরতি দেবার কথা মনে করিয়ে দেওয়া হয়।

অবশ্য তিনি স্মার্টফোনের ব্যাপারে ‘নেশা’ কথাটির ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন। ‘স্মার্টফোনে বুঁদ হয়ে থাকার ব্যাপারটা ঠিক কিন্তু একে নেশা বলা যায় না’, বলেন তিনি।
সূত্র : বিবিসি বাংলা