প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:    চাঁদপুরের হাজীগঞ্জে ১২ বছর পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে লাশ উত্তোলন করা হয়েছে।মঙ্গলবার দুপরে হাজীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জিয়াউল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে চাঁদপুরের সিআইডি ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম এ লাশ উত্তোলন করেন।

 

 

 

 

২০০৬ সালের ২৩ জুন উপজেলার সদর ইউনিয়নের পশ্চিম কাজীরগাঁও গ্রামের দরগাহ বাড়ির মৃত আবদুল মতিনের ছেলে মৃগী রোগী ডা. মো. রফিক আহমেদ (৫০) ফজর নামাজের অজু করতে গিয়ে গিয়ে পানিতে পড়ে মারা যান।

 

 

 

 

ডা. রফিক আহমেদের মৃত্যুর ৯ বছর পর ২০১৫ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর সহোদর ছোট ভাই ডা. মনির আহমেদ ডা. রফিক আহমেদকে হত্যা করা হয়েছে মর্মে চাঁদপুর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সহোদর ছোট ভাই শহীদ, আপন চাচা ওয়াজেদ মিয়ার দুই ছেলে আনোয়ার হোসেন ও মো. হারুন, আপন মামা শাহরাস্তি উপজেলার আবদুল মান্নানের ছেলে আ. মমিন, সহদোর চার বোন নারগিস, জাহানারা, তাহমিনা, শামসুন্নাহারকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।

 

 

 

আদালত মামলা আমলে নিয়ে হাজীগঞ্জ থানাতে তদন্তের জন্য প্রেরণ করেন। হাজীগঞ্জ থানার এসআই মিজানুর রহমান পাটোয়ারী দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারি ডা. রফিক আহমেদ পানিতে ডুবে মারা গেছে মর্মে আদালতে রিপোর্ট দাখিল করেন।

 

 

 

 

মামলার বাদী ডা. মনির আহমেদ আদালতে থানার তদন্তকৃত ফাইনাল রিপোর্টের ওপর নারাজি দিয়ে করে, মামলা সিআইডিতে প্রেরণের জন্য আবেদন করেন।

 

 

 

 

পরে আদালতের আদেশে সিআইডিতে মামলা হস্তান্তর করা হয়। সিআইডি চাঁদপুর ইন্সপেক্টর সাইফুল ইসলাম মামলা তদন্ত করছেন।

 

 

 

 

মঙ্গলবার লাশ উত্তোলনের সময় সিআইডি ওসি সাইফুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে। এটি চাঁদপুর সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হবে। বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে লাশের ময়নাতদন্ত দরকার।

 

 

 

 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সদর ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ সফিকুল ইসলাম মীর, সিআইডির এসআই আবদুল মান্নান, এসআই জসিমউদ্দিন।

 

 

 

 

 

এলাকাবাসী জানায়, ডা. রফিক আহমেদের কোনো ছেলেমেয়ে নেই। তারা পারিবারিকভাবে সবাই ঢাকায় বসবাস করেন। ঢাকায় তাদের প্রচুর জমি রয়েছে। পারিবারিকভাবে ভাইবোনদের ডা. রফিকের সম্পত্তির ভাগ দিতে হবে বিধায় ডা. মনির সহোদর ভাইবোন ও আত্মীয়স্বজনকে জড়িয়ে এ মামলা দায়ের করেছেন।