প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ও দুবাইভিত্তিক কোম্পানি এমিরেটস ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের (ইনোক) যৌথ অংশীদারিত্বে একটি স্থায়ী তরল পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। দেশে এলপিজির দাম কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে বিপিসি সূত্র বলছে।

 

 

 

 

দেশে এখন এলপিজির মোট চাহিদা রয়েছে ৩০ লাখ মেট্রিক টন। এর বিপরীতে সরবরাহ ক্ষমতা সর্বোচ্চ ৭ লাখ মেট্রিক টন। আবাসিকে প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধের কারণে এলপিজির চাহিদা বাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে এলপিজি হবে রান্নাঘরের প্রধান জ্বালানি। ফলে এখন থেকেই এলপিজির দাম সাশ্রয়ের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। তবে যথেষ্ট উদ্যোগের অভাবের কথাও বলছেন বিশেষজ্ঞরা।

 

 

 

 

 

গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদকে পাঠানো এক চিঠিতে বাংলাদেশের সুবিধাজনক জায়গায় এলপিজি টার্মিনাল নির্মাণের প্রস্তাব দেন ইনোক’র নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ বিভাগের প্রধান অলিভার স্টিন। তিনি প্রস্তাবে জানান, এরমধ্যে দিয়ে দীর্ঘমেয়দি এলপিজি সরবরাহ পাবে বাংলাদেশ। তারা বিপিসির সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে কাজ করতে চান বলেও জানান।

 

 

 

 

এ বিষয়ে বিপিসির পরিচালক (প্ল্যানিং অ্যান্ড অপরাশেন) সৈয়দ মোহম্মাদ মোজাম্মেল হক বলেন, ‘আমরা ইনোক-এর প্রস্তাব পেয়েছি। আমরাও এলপিজি টার্মিনাল করতে আগ্রহী। এতে দেশে এলপিজির পরিবহন খরচ প্রতি টনে ৭০ ডলার কমে আসবে। এতে বোতল প্রতি দাম কমতে পারে ১০ ভাগ হারে। অর্থাৎ এখন যে দামে গ্রাহক এলপিজি কিনছে তার থেকে ১০ ভাগ কমে এলপিজি পাবে।’

 

 

 

 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে রান্নার জ্বালানির পুরোটাই মেটাতে হবে এলপিজি দিয়ে। কারণ আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশীয় গ্যাসের উৎপাদন কমে আসবে। এর বিপরীতে রান্নার জন্য দামি এলএনজি সরবরাহ করা কঠিন হবে। তখন চাইলেও রান্নার জন্য গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে না। ফলে এখন থেকেই এর প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি।

 

 

 

 

 

এ ধরনের টার্মিনালের সুবিধা সম্পর্কে বিপিসির একজন কর্মকর্তা বলেন, টার্মিনাল করা গেলে বড় আকারের জাহাজ বাংলাদেশে আনা সম্ভব। যেসব জাহাজ একবারে ৭০ হাজার টন পর্যন্ত এলপিজি পরিবহন করতে পারে। আর এখন সাধারণত ৫ হাজার টনের জাহাজে করে এলপিজি পরিবহন করা হয়। এতে দাম বেশি পড়ে। অনেক দিন থেকেই বিশেষজ্ঞরা বলছিলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে হলে পরিবহন খরচ কমাতে হবে।সেক্ষেত্রে স্থায়ী বা ভাসমান এলপিজি টার্মিনাল তৈরি করতে হবে।

 

 

 

 

 

এরআগে এলপিজি নানাভাবে দেশে আমদানি করা হলেও প্রথমবারের মতো এলপিজি টার্মিনাল হতে পারে এটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই টার্মিনালে সাগরের মধ্য থেকে পাইপলাইনে করে এলপিজি নির্ধারিত ট্যাংকে সরবরাহ করা হবে। এরপর সেখান থেকে দেশের অন্য জায়গায় বড় ট্যাংকারে করে পৌঁছে দেওয়া হবে। মহেশখালী ও কুতুবদিয়ায় এ ধরনের টার্মিনাল নির্মাণের জন্য সাগরের পর্যাপ্ত ড্রাফট (গভীরতা) রয়েছে বলে তারা জানান।

 

 

 

 

আবাসিক ছাড়াও দেশে এলপিজির নানামুখী ব্যবহার শুরু হয়েছে।এরই মধ্যে দেশে অটো গ্যাস চালু হয়েছে। যা মূলত পরিবহনের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছে। পেট্রোল ও সিএনজির চেয়েও অটোগ্যাস কম দামে পাওয়া যেতে পারে।এছাড়া এলপিজি এখন বাণিজ্যিক রান্নাঘরেও ব্যবহার হচ্ছে।

 

 

 

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বুয়েটের অধ্যাপক ম. তামিম বলেন, বিপিসি যদি টার্মিনাল করতে চায়, সেটি ভালো হবে। বিপিসি যদি নিজস্ব তত্ত্বাবধানে বিক্রি করে, তাহলে হয়তো দাম কম পড়বে।

 

 

 

 

 

সেক্ষেত্রে বাজারে এই মুহূর্তে যেসব কোম্পানি এলপিজি সরবরাহ করছে, তারাও দাম কমিয়ে দিয়ে প্রতিযোগিতায় থাকতে চাইবে।সবমিলিয়ে দামের সুবিধা সাধারণ মানুষ পেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে বিপিসিকে ব্যবসার চিন্তা থেকে সরে আসতে হবে। কারণ এই ধরনের টার্মিনাল করতে প্রচুর বিনিয়োগ করতে হয়।প্রচুর বিনিয়োগের পর কম দামে গ্যাস দেওয়াটা বিপিসির জন্য কঠিন হয়ে পড়তে পারে।’