প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:      জেলার তানোর উপজেলায় জামাইয়ের বিরুদ্ধে শাশুড়িকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে জামাইয়ের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের অভিযোগে শাশুড়িকে তালাক দেন তার স্বামী।

 

 

 

রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপি’র চকদমদমা গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় শাশুড়ি বাদী সোমবার (১ অক্টোবর) বিকেলের দিকে জামাইকে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেন। এ ঘটনায় ওই এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

 

 

 

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,উপজেলার চাঁন্দুড়িয়া ইউপি’র চকদমদমা গ্রামের ফয়েজ উদ্দিনের ছেলে রাজ্জাক বিয়ে করেন উপজেলার পাঁচন্দর ইউপি’র যোগীশো গ্রামে। বিয়ের পর থেকেই জামাই রাজ্জাকের সঙ্গে শাশুড়ির গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠে।

 

 

 

 

এ বিষয়টি রাজ্জাকের শ্বশুর জানতে পেরে গত বৃহস্পতিবার ভুক্তভোগী শাশুড়িকে তালাক দেন। তালাকের পর শাশুড়ি জামাই রাজ্জাকের বাড়িতে আসেন। সেখানে এসে রোববার (৩০ সেপ্টেম্বর) জামাই রাজ্জাককে তার শাশুড়ির সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলেন স্ত্রী। দেখার পর ওই রাতেই ঘটনাটি একই গ্রামের আসগরকে জানায়। আসগর রাজ্জাকের স্ত্রীকে মহাসিনের কাছে পাঠায়। তাদেরকে বলার পর তারা আরসেদ নামের আরেক ব্যক্তি রাজ্জাকের বড় ভাই বজলুরের কাছে যেতে বলেন।

 

 

 

 

বজলুর ঘটনা জানার পর বিষয়টি ধামাচাপা দিতে রাজ্জাকের শাশুড়ি ও স্ত্রীকে বেধড়ক মারপিট করে বের করে দেয়। তিনি মারপিট করেও ক্ষান্ত না হয়ে রাজ্জাকের শাশুড়ি ও স্ত্রীকে বাড়ি থেকে বের করে দিতে চাইলে তারা যেতে না চাইলেও জোরপূর্বক গাগরন্দ মোড়ে অয়েজ উদ্দিনের ভ্যানে তুলে দেয়।

 

 

 

 

কিন্তু স্থানীয়রা কালিগঞ্জ থেকে ফেরত এনে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে এসে রাখেন। গ্রামবাসীদের অনুরোধে ইউপি মেম্বার সুলতানের বাড়িতে রাখে শাশুড়িকে। আর রাজ্জাকের স্ত্রী থাকে অন্যের বাড়িতে।

 

 

 

সুলতান মেম্বার জানান, সকলের অনুরোধে আমার বাড়িতে রেখেছি। তবে চেয়ারম্যানকে বলা হলে তিনি থানায় দিতে বলেন শাশুড়িকে। সোমবার (১ অক্টোবর) দুপুরের দিকে ইউপি’র চৌকিদাররা রাজ্জাকের শাশুড়িকে থানা নিয়ে আসেন। রাজ্জাকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি তাকে।

 

 

 

 

রাজ্জাকের বড় ভাই বজলুর জানান, তারা মারাত্মক অপরাধ করেছে এজন্য মেরে বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয়েছে বলে এড়িয়ে যান।

 

 

 

 

ওই এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, রাজ্জাক এর আগেও কয়েকবার বিয়ে করেছে। তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া দরকার।

 

 

 

 

এ বিষয়ে তানোর থানার ওসি রেজাউল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় রাজ্জাকের শাশুড়ি বাদী হয়ে জামাই রাজ্জাককে আসামি করে থানায় মামলা দায়ের করেছেন। মামলার ভিত্তিতে পুলিশ রাজ্জাককে গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালাচ্ছে বলে জানান তিনি।