প্রথমবার্তা, প্রতিবেদক:       ‘দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে যে যন্ত্রণা বয়ে বেড়াচ্ছি, কিছুটা হলেও এ রায়ের মাধ্যমে স্বস্তি পাচ্ছি। তবে আরো বেশি খুশি হতাম যদি গ্রেনেড হামলার মাস্টারমাইন্ড তারেক রহমানের ফাঁসি হতো।’গ্রেনেড হামলায় আহত সাভারের মাহবুবা পারভীন রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার দুপুরে এ কথা বলেন।

 

 

 

 

মামলায় রায়ে ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডে সন্তুষ্ট প্রকাশ করে তিনি আরো বলেন, তারেক রহমানের যাবজ্জীবন না দিয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হলে আরো বেশি সন্তুষ্ট হতাম। তবুও আমি খুশি।

 

 

 

 

 

মাহবুবা পারভীন বলেন, গ্রেনেড হামলায় আমি বেঁচে গেলেও এখনো শরীরে রয়েছে প্রায় ১৮০০ স্প্রিন্টার। যার যন্ত্রণা বয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তিনি বলেন, আগস্ট এলেই এর ভয়াবহ স্মৃতি মনে পড়ে এবং এখনও আঁতকে উঠি। সেই স্মৃতি আজো তাড়া করে বেড়ায়, কান্নায় চোখ-মুখ ভিজে যায়।

 

 

 

 

 

শরীরে এতো যন্ত্রণা সহ্য করে এই মামলার রায়ের জন্য অপেক্ষার প্রহর গুনছিলাম আমি। আজকে রায়ের মধ্য দিয়ে সেই অপেক্ষা শেষ হয়েছে।

 

 

 

 

তিনি আরোও বলেন, বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে যারা হত্যা করার ষড়যন্ত্র করেছে, আইভি রহমানসহ ২৩ জন নেতাকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে, তাদের শাস্তি দেখে যেতে পারবো কিনা সে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম, অবশেষে এই রায়ের মধ্য দিয়ে তার অবসান ঘটেছে।

 

 

 

 

এখন মৃত্যুর আগে রায় কর্যকর দেখে যেতে পরলেই হয়।

২০০৪ সালের ২১ আগস্টের সমাবেশে দলীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে মাহবুবা পারভীন সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন। ঘটনার সময় তিনি মঞ্চ থেকে নিচে নেমে আসছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তে বিকট শব্দে গ্রেনেড বিস্ফোরিত হয়। এর কিছুক্ষণ পরই তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে পিজি হাসপাতাল এবং এর ৫-৬ দিন পর বাংলাদেশ মেডিকেলে চিকিৎসা দেয়া হয়।

 

 

 

 

 

অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কলকাতার পিয়ারলেস হাসপাতালে। সেখানে ২৫ দিন চিকিৎসা দেয়ার পর চিকিৎসকরা আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্যাংকককে নিয়ে যাওয়ার জন্য তার ভাই তরুন তসলিম উদ্দিন ওসমানীকে পরামর্শ দেন। কারণ তার শরীরে রয়েছে ১৮শ’ স্পিøন্টার, যা ভয়ানক যন্ত্রণাদায়ক।