প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   রাজধানীর হাইকোর্ট মাজার গেটের সামনে ফের পুলিশ ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশসহ আন্তত ১০ জন আহত হয়েছে।আজ বৃহস্পতিবার বিকাল ৪টার দিকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়ে সন্ধ্যা পর্যন্ত গড়ায়। এ সময় ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়ে জনদূর্ভোগের সৃষ্টি হয়, আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান ব্যবহার করে।

 

 

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র জানায়, বরাবরের মতই আজ পুরান ঢাকার বকশিবাজার আদালতে হাজিরা দিয়ে ফিরছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বিকাল ৪টার দিকে বিএনপি চেয়ারপারসনের গাড়ি বহর মাজারের সামনে আসলে হাইকোর্টে অবস্থানকারী দলের নেতাকর্মীরা ওই বহরে যোগ দিতে রাস্তায় অবস্থান করেন। এতে ওই এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীরা ক্ষিপ্ত হয়ে পুলিশের উপর ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। পুলিশ তাদের উপর লাঠিচার্জ শুরু করে।

 

 

এক পর্যায়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ইট পাথরের মাত্রা বাড়তে থাকলে তা নিয়ন্ত্রণে পুলিশ জলকামান দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। এ সময় মাইকের মাধ্যমে পুলিশ বিএনপি নেতাকর্মীদের সতর্ক করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে। তবে থেমে থেমে সন্ধ্যা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলতে থাকে।   এ সময়ে চানখারপুল সংলগ্ন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাতেও মহিলা নেত্রীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়।

 

 

ঘটনাস্থলে দেখা গেছে, সংঘর্ষের সময় খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি বহর হাইকোর্টের মাজার রোডের সামনে প্রায় আধাঘণ্টা অবস্থান করে। পরে খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর ওই এলাকা থেকে সড়ে পড়ার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসে।

 

 

এর আগেও খালেদা জিয়ার গাড়িবহর এ পথ দিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পরিকল্পিতভাবে বিএনপি নেতাকর্মীরা সংঘর্ষে জড়ায় বলে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে।

 

 

ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-কমিশনার মারুফ হোসেন সরদার বলেন, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় আদালতে হাজিরা দিয়ে খালেদা জিয়া ফিরে যাচ্ছিলেন। তার উপস্থিতিতে বিএনপি নেতাকর্মীরা রাস্তা অবরোধ করে যানজটের সৃষ্টি করে। তারা পুলিশের ব্যরিকেড ভেঙ্গে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করে। বাধা দিতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করে ইট-পাথর নিক্ষেপ করে। এতে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের রাজারবাগ পুলিশ লাইন্স হাসপাতালে চিকিত্সা দেওয়া হয়েছে।

 

 

তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের দাবি, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর হাইকোর্ট এলাকায় পৌঁছালে দলীয় নেতাকর্মীরা ওই বহরে যুক্ত হতে চাইলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় পুলিশের লার্ঠিচার্জে অনেক নারী নেত্রীও আহত হয়েছে বলে তারা দাবি করেন।

 

 

শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, সরকারি কাজে বাধা দেওয়ায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে একাধিক মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে।

 

 

উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনের মত জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দূর্নীতি মামলায় হাজিরা দিতে পুরান ঢাকার বকশিবাজার আলিয়া মাদরাশার মাঠে স্থাপিত আদালতে যান খালেদা জিয়া। দলীয় নেত্রীর আদালতে হাজিরা দেওয়াকে কেন্দ্র করে দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা আদালতের আশপাশে অবস্থান নেন। ঠিক একইভাবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হাইকোর্ট, মত্সভবন, দোয়েল চত্তর, ও চানখারপুল এলাকায় সতর্ক অবস্থান নেয় পুলিশসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে গতকাল পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ হলেও কাউকে আটক করেনি পুলিশ।