প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট : মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা গণহত্যার ব্যাপারে স্বাধীন তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে লন্ডনভিত্তিক আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। ১০ জন রোহিঙ্গা মুসলিমকে হত্যার সঙ্গে সেনা সদস্যরা জড়িত রয়েছে বলে প্রথমবারের মতো দেশটির সেনাবাহিনীর স্বীকারোক্তির পর অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এ ধরনের আহ্বান জানিয়েছে।

অ্যামনেস্টি বলছে, দেশটির সেনাবাহিনী রোহিঙ্গা হত্যার ব্যাপারে জড়িতদের বিষয়ে যে স্বীকারোক্তি দিয়েছে তা অবশ্যই ইতিবাচক। তবে বিশাল অপরাধের এটি একেবারেই খণ্ডচিত্র।

প্রসঙ্গত, রাখাইন রাজ্যের মংডুর ইন দিন গ্রামে ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে একটি গণকবরের সন্ধান পায় দেশটির আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। সেই গণকবর থেকে কমপক্ষে ১০ জন রোহিঙ্গার মরদহে উদ্ধার করা হয়। যা নিয়ে নানা ধরনের আলোচনা-সমালোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

গত বুধবার দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লেইং তার ফেসবুকে পেজে একটি বিবৃতি দেন। সেখানে বলা হয়, সেনাসদস্য এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা বাঙালি সন্ত্রাসীদের (রোহিঙ্গাদের বাঙালি হিসেবে বিবেচনা করে মিয়ানমার) হত্যার ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিল। জড়িতদের ব্যাপারে আইনানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যদিও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার আসছিল মিয়ানমার। অন্যদিকে রাখাইনের নিধনযজ্ঞকে পাঠ্যপুস্তকে উল্লিখিত গণহত্যার উদাহরণের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছিল জাতিসংঘের পক্ষ থেকে।

তবে সেসব অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে রাখাইনে জাতিসংঘের তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সাংবাদিকদের প্রবেশেরও অনুমতি দেয়া হয়নি। রোহিঙ্গা নিধনের ব্যাপারে নিশ্চুপ আছেন শান্তিতে নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচি।

অথচ ২৫ আগস্টের পর থেকে প্রায় সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে সর্বস্ব ফেলে বাংলাদেশে পালিয়ে এসে আশ্রয় শিবিরে জায়গা নিয়েছে।

সূত্র : আল জাজিরা।