প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  শরীরী আগুন আর পাগলামি না – প্রত্যেকের জীবনে কখনও না কখনও প্রেম আসে। সেই অনুভূতি তারাই জানবেন যারা কোনও সম্পর্কে ছিলেন বা আছেন। প্রত্যেক মুহূর্ত একে অপরের সঙ্গে কাটানোর ইচ্ছে, নিজেদের সব কিছু একে অপরের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া, সারা রাত জেগে ফোনে কথা — সব যেন স্বপ্নের মধ্যে বাস করার মতো। তবে অনেক সম্পর্কই আছে, যেখানে এই স্বপ্নটা যখন বাস্তবের সঙ্গে হাত মেলায় তখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়ে। শুধুমাত্র গনগনে আঁচের মতো রসায়ন থাকলেই কি সম্পর্কের উষ্ণতা বজায় থাকে?

মনোবিদদের মতে, না। সম্পর্কের স্থিতির জন্য প্রয়োজন শান্তির। প্রয়োজন একে অপরকে যথেষ্ট স্পেস দেওয়ার, একে অপরকে বোঝার। না হলে প্রথম দিকে রসায়ন যতই ভালো হোক, স্পার্কটা নিভে গেলেই কিন্তু উত্সাহে হারিয়ে ফেলেন অনেকে। দেখে নিন কেন সম্পর্কে শান্তি এবং স্পেস কেন জরুরি… খবর ইন্ডিয়া টাইমাসের। সব সময় একে অপরের প্রয়োজন হয় না: এক সঙ্গে সময় কাটানো ভালো। তার মানেএই নয় যে সর্ব ক্ষণ একে অপরকে প্রয়োজন হবে। আসলে হয়ও না। নিজস্ব স্পেস থাকা একান্ত জরুরি। না হলে দমবন্ধ লাগতে বাধ্য। যখন প্রয়োজন হবে একে অপরের ভরসা হয়ে উঠুন, কিন্তু নিজস্বতা ভুললে তা কখনও সম্ভব নয়।

কোয়ালিটি সময় কাটান: সারা দিন বা সারা সপ্তাহ খাটনির পর যখন সঙ্গী বা সঙ্গিনীর সঙ্গে দেখা করার অনুভূতিই আলাদা। সে সময় চাহিদাটা শুধুমাত্র একে অন্যের জন্য থাকে। বাকি সব কিছু গৌন। তাই সেই অনুভূতি গড়ে তুলতে স্পেস খুব প্রয়োজন।

জীবন না হয়ে জীবনের অংশ হয়ে উঠুন: বেশিরভাগ সময় দেখা যায়, সম্পর্ক হওয়ার পর বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন, আড্ডা সব জলাঞ্জলি দিয়ে ধ্যান-জ্ঞান শুধুমাত্র সঙ্গী বা সঙ্গিনীর ওপরই থাকে। অনেকে রাখতে বাধ্য হন। একটা কথা মনে রাখবেন, এতে আপনি তার স্বাভাবিকতা নষ্ট করে ফেলছেন।

নিজের জন্য সব সময় আলাদা করে সময় না চেয়ে, তার স্বাভাবিকতার সঙ্গে মিশে যান। সময়ও কাটানো হবে, একে অপরকে স্পেসও দিতে পারবেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল, এতে মানসিক শান্তিও বজায় থাকবে।

চাইলেই অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে উঠুন: একে অপরকে বুঝলে সম্পর্ক এমনিতেই মধুর হয়ে উঠবে। ফলে চাইলেই আপনারা অ্যাডভেঞ্চারাস হতে পারেন। একলা সময়ে নিজেদের Naughty দিকটা কাজে লাগান। আবার স্রেফ খোসগল্প করেও মন ভালো করে তুলুন। চয়েস আপনাদের।

কামনার আগুনও থাকবে: বিশ্বাস, ভরসা, আর বোঝাপড়া যত ভালো হবে সম্পর্ক তত উষ্ণ হয়ে উঠবে। যতই খারাপ সময় আসুক, দিনের শেষে আপনি জানেন আপনার সঙ্গী বা সঙ্গিনীর কামনা থাকবে আপনাকে ঘিরেই। স্পার্ক সব সময়ই বেঁচে থাকবে।

সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে: সুখ আর শান্তির মধ্যে তফাতটা গুলিয়ে ফেলবেন না। সুখ থাকলেই যে শান্তি থাকবে তার কোনও মানে নেই। তেমনই এক বিছানায় ঘুমোলেই যে বোঝাপড়া থাকবে, তারও কোনও নিশ্চয়তা নেই। তাই মনে রাখবেন শান্তি, বোঝাপড়া এবং ব্যক্তিগত স্পেস একটা সম্পর্কে দীর্ঘস্থায়ী করে তোলে।