প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  আন্তর্জাতিক আইনের একজন ছাত্র হিসেবে এই বিষয়ের প্রতি আমার বেশ আগ্রহ।  আন্তর্জাতিক আইন সম্পর্কে আপনারা সম্ভবত অবগত আছেন যে যুদ্ধ, সন্ধি ও নিরপেক্ষতা, যুদ্ধকালে এ তিনটি বস্তু অতীব প্রয়োজনীয়। রাসুল (সা.)-এর জীবনীতে রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে বেশুমার অনুকরণীয় উদাহরণ আমরা পেয়ে থাকি। সেগুলোর একটি হচ্ছে যুদ্ধ। এখানে সে প্রসঙ্গে কিছু কথা বলছি।

নিরাপত্তা বাড়ানো প্রিয় নবীজির কৃতিত্ব
দুর্ভাগ্যবশত হজরত আদম (আ.) ও হাওয়ার সন্তানদের সময় থেকেই যুদ্ধ শুরু হয়ে গিয়েছিল। তারা নিজেদের পরস্পরের মাঝে মারামারি করত। এটা একটা চরম বাস্তবতা, অস্বীকার করার সুযোগ নেই। কিন্তু রক্তপাত কমানো, যুদ্ধের পরিবর্তে সন্ধি ও নিরাপত্তা বাড়ানোর এমন বিশেষ কর্মপদ্ধতি একমাত্র আমাদের প্রিয় নবী (সা.)-এর বৈশিষ্ট্য ও অবদান। অবাক হওয়ার মতো বিষয় হলো, মক্কায় প্রথমে কোনো ইসলামী হুকুমত ছিল না। হিজরতের পর নবীজি (সা.) মদিনায় বসবাস করতে শুরু করলেন। দশ বৎসর পর তিনি মদিনায় মৃত্যুবরণ করেন। এখানকার রাজত্ব শুরু হয় মদিনা শহরের এক অংশ থেকে। কেনন পুরো মদিনা তখনও মুসলমানদের হয়নি। এখানকার কিছু ইহুদিও সেই ইসলামী রাজত্বে শরিক হতে আগ্রহী হয়। তবে অনেক বিধর্মী তা অস্বীকার করে। মোটকথা একটি শহরের এক অংশ থেকে প্রথমে ইসলামী রাজত্ব শুরু হয়েছিল। দশ বৎসর পর যখন নবীজির ইন্তেকাল হয়, ওই সময় এ শহরই এমন এক রাজত্বের কেন্দ্রভূমিতে পরিণত হয়েছিল, যা চতুর্দিকে ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে গিয়েছিল। অর্থাৎ নবীজির ইন্তেকালের পর এই ইসলামী রাজত্বের আয়তন ছিল কমবেশি ৩ মিলিয়ন কিলোমিটার। ভিন্ন শব্দে, ১০ বৎসর সময়ের মধ্যে চতুর্দিকে ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার আয়তন বিজিত হয়েছিল। যেন দৈনিক গড়পড়তা ৮ শত কিলোমিটার পরিমাণ জায়গা নিয়মিত ইসলামী রাজত্বে বেড়ে চলছিল। এখানে বিজয়ের পরিব্যাপ্তি ও ক্ষিপ্রতার একটা প্রসঙ্গ আছে। প্রশ্ন হতে পারে যে, এই ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার বিজয় করতে কত মানুষের রক্ত দিতে হয়েছিল? নবীজি (সা.)ও কি দুনিয়ার অপরাপর বিজয়ী নেতাদের মতো যে তাঁর কাছে মানুষের রক্তের কোনো মূল্য থাকবে না?! না এখানে প্রিয় নবীর অতুলনীয় কোনো বৈশিষ্ট্য ও কৃতিত্ব রয়েছে? সিরাতুন্নবী বিষয়ক গ্রন্থাদি থেকে আমি সবগুলো যুদ্ধের পরিসংখ্যান একত্রিত করেছি। মুসলমান কতজন ছিলেন? শত্রুপক্ষে কতলোক ছিল? সে যুদ্ধে কয়জন মুসলমান শহীদ হয়েছিলেন? শত্রুপক্ষের কয়জন নিহত হয়েছিল? সাড়ে দশ বৎসরের সেই পঁচিশ-ত্রিশটি যুদ্ধের টোটাল পরিসংখ্যান শুনে আপনারা অবাক হয়ে যাবেন। ১০ বৎসরের মাঝে আছে ১২০ মাস। প্রতি বৎসরে আছে ১২ মাস। ওই পুরো ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার বিজয় করতে গিয়ে মাসপ্রতি শত্রুপক্ষের ২ জন করেও মরতে হয় নি। এটাই হলো মানুষের রক্তের সেই মূল্য ও মর্যাদা প্রদান, যা রাসুল (সা.) বাস্তবে প্রতিষ্ঠা করে দেখিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি এমন করেননি যে থিওরি হিসেবে বলে দিলেন, মানুষের রক্তের অবমূল্যায়ন কোরো না। আর নিজে ক্ষমতা পেয়ে যাচ্ছেতাই করে ফেললেন! যেভাবে আজকাল আমরা দেখতে পাচ্ছি, এমনটা কখনো ছিল না। পুরো সময়ে শত্রুপক্ষের নিহতদের সংখ্যা ২ শতও অতিক্রম করেনি। অথচ মাত্র ১০ বৎসর সময়ে ৩০ লাখ বর্গকিলোমিটার তিনি বিজয় করতে সক্ষম হয়েছিলেন।

উভয়পক্ষের সৈনসংখ্যাও অবাক করার মতো
এবার অন্য একটি বিষয়ের প্রতি খেয়াল করুন! যেসব যুদ্ধে মুসলমান ও অমুসলমান মুখোমুখি হয়েছিলেন, সেসব যুদ্ধে উভয়দলের সৈনদের সংখ্যাও অবাক করার মতো। বদর যুদ্ধে মুসলমানদের সংখ্যা, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সঙ্গীদের সংখ্যা মাত্র ৩১৩ আর শত্রুদলে সৈন্যদের সংখ্যা ৯৫০, অর্থাৎ মুসলমানদের চেয়ে ত্রিগুণেরও বেশি। উহুদ যুদ্ধে মুসলমান ছিলেন ৭০০ জন আর প্রতিপক্ষে ছিল ৩ হাজার। খন্দক যুদ্ধে মুসলমান ছিলেন ১৫০০ জন আর অপরপক্ষে ছিল ১২ হাজার। খায়বার যুদ্ধে মুসলমান ছিলেন ১৫০০ জন আর শত্রুপক্ষে ছিল অস্ত্রসজ্জিত প্রশিক্ষিত ২০ হাজার ইহুদি সৈন্য। আর খায়বারের পুরো জনসংখ্যা কত ছিল, আল্লাহই ভালো জানেন! কেননা মুসলমানরা ওদের বসবাসের ভূমি খায়বারে গিয়েই যুদ্ধ করেছিলেন। ওরা তাদের দুর্গে নিরাপদ অবস্থানে থেকে মুসলমানদের ওপর আক্রমণ করছিল। এবার চিন্তা করুন! এসব লড়াইয়ে মুসলমানদের জয় হয়, শত্রুপক্ষের সৈনসংখ্যা দ্বিগুণ, ত্রিগুণ, চারগুণ এবং দশগুণ হওয়া সত্ত্বেও! মুসলিম বাহিনীর নেতৃত্ব কে দিচ্ছিলেন? যুদ্ধের পূর্ব অভিজ্ঞতা যাঁর নেই। সেনাপতি ছিলেন রাসুল (সা.)।

তড়িৎ অধ্যয়ন ভুল বোঝাবোঝির কারণ হয়
বদর যুদ্ধ সংক্রান্ত এমন কিছু বিষয় আছে, কেউ যদি ওসবের গভীরে না পৌঁছতে পারে তবে সে প্রকৃত বিষয় বুঝতে পারবে না। উপরন্তু সে আপত্তি করে বসতে পারে যে, তিনি তো কোনো নবীই নন, যেন সাধারণ এক মানব! পক্ষান্তরে ওই ব্যক্তি যদি ঘটনার গভীরতা উপলব্ধি করে নিতে পারে, তবে সেও প্রকৃত অবস্থা জেনে নিবে। উদাহরণস্বরূপ বলা যেতে পারে, কিতাবাদিতে লিখা আছে যে বদর যুদ্ধের সময় ময়দানের পাশেই একটি ছোট্ট পাহাড়ের চূড়ায় নবীজি (সা.) এর জন্য একটি ছোট্ট ঝোপ নির্মাণ করা হয়েছিল। যাতে করে ওই ঝোপের ভেতর থেকে নবীজি (সা.) উভয়পক্ষের সার্বিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। প্রয়োজনমতো ওখান থেকে নির্দেশনা দিতে পারেন। যেমন মুসলমানদের এই দল যেন আগে বাড়ে, ওই দল যেন পেছনে চলে আসে। অমুক দল যেন ওইদিকে মুজাহিদদের সাহায্য করতে যায় ইত্যাদি। তা ছাড়া শত্রুপক্ষের অবস্থাও তিনি পুরোপুরিভাবে অবলোকন করতে পারবেন। কিতাবাদিতে স্পষ্ট লিখা আছে, ওই জায়গায় ঝোপটির সামনে দুটি দ্রুতগামী উট প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সাহাবায়ে কেরাম নবীজি (সা.)-এর কাছে অনুরোধ করেন, হে আল্লাহর রাসুল! আল্লাহ না করুন যদি অবস্থা বেগতিক আকার ধারণ করে, তাহলে আমরা তো আল্লাহর রাহে শহীদ হয়ে যাব। কিন্তু আপনিও যদি শহিদ হয়ে যান, তবে ইসলামও খতম হয়ে যাবে। অতএব এমন পরিস্থিতিতে এই উট দুটো ব্যবহার করে আপনি ও আপনার ইচ্ছেমত আরো দু-চার জনকে নিয়ে এ স্থান ত্যাগ করে নিরাপদ দূরত্বে চলে যাবেন। এই যে আমি বললাম, কেউ যদি স্থূলদৃষ্টিতে বিবেচনা করে তবে সে মনে করবে যে নবীজি (সা.) একজন ভীতু ছিলেন (নাউজুবিল্লাহ) এবং পলায়নের ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রেখেছিলেন। কিন্তু একটু চিন্তা করে দেখুন! তিনি হলেন সবার জন্য উত্তম আদর্শ। সারা দুনিয়ার আগন্তুক মুসলমান বাদশাহ ও সেনাপতিদের জন্যও তাঁকে আদর্শ হতে হবে। বস্তুত এমন কর্মপন্থা দ্বারা তিনি যেন পরবর্তীদের বলে দিচ্ছেন যে এমন ব্যবস্থা ও পরিকল্পনা তোমরাও গ্রহণ করবে। এটা তোমাদের রাষ্ট্রের জন্য, রাজত্বের জন্য, যুদ্ধের জন্য এবং স্বয়ং তোমাদের জন্য ফলপ্রসূ। তো পরবর্তীদের জন্য নমুনা স্থাপনের জন্য তিনি এমনটা করেছিলেন, যদিও তার প্রয়োজন না দেখা দেয়। তিনি সেটা করে দেখিয়ে দিলেন যে এমনি করাটা উচিত। এটাই আমার ইন্ট্রুডাকশন, যার ভিত্তিতে আমি ছোট ছোট বিষয়গুলোকেও উত্তম আদর্শের সূত্রাকারে দেখতে পারি এবং উপকৃত হওয়ার রশদ সংগ্রহ করতে পারি।

এই ভাষণের ওপর অধুনা জেনারেলরাও হতবম্ভ
যুদ্ধ প্রসঙ্গে কিতাবাদিতে আরেকটা বিষয় উল্লিখিত হয়েছে। মুসলমানদের সংখ্যা একেবারে স্বল্প। মাত্র ৩১৩ জন। পক্ষান্তরে শত্রুদলের সংখ্যা অনেক বেশি। ৯৫০ জন। ভোর থেকে যুদ্ধ শুরু হওয়ার কথা। নবীজি (সা.) রাত্রেই সৈনিকদের বিন্যস্ত করে দিলেন। এরা সামনে থাকবে, ওরা পেছনে। এরা ডানদিকে থাকবে, ওরা বামদিকে। এদলের প্রধান হবেন ইনি, অপর দলের প্রধান হবেন উনি। তারপর সকালে সৈনিকদের কাতারবন্দি করেন। সবকিছু নিজে পর্যবেক্ষণ করেন। এখানে ছোট একটা বিষয়। আজ হয়তো আমরা সেটাকে গুরুত্বপূর্ণ মনে নাও করতে পারি। চিন্তা করুন! আজ থেকে ১৪ শত বছর পূর্বের ঘটনা। সৈনিকদের সারিবদ্ধ করে নির্দেশ দিলেন, কেউ যেন অপর থেকে এক ইঞ্চিও সামনে অগ্রসর না হয়। তেমনি এক ইঞ্চিও পেছনে না যায়। হাতে একটি তীর। যদি কোনো ব্যক্তি অনিচ্ছায় হঠাৎ সামনে বা পেছনে চলে যায়, তবে ওই তীর দেখিয়ে তাকে যেন স্মরণ করিয়ে দেয়া হয়, ভাই! একটু আগ বাড়ুন বা একটু পেছনে সরুন। বাহ্যত এটি একটি সাধারণ বিষয় মনে হয়? কিন্তু সৈনিকদের সারিবদ্ধ হওয়ার প্রকৃত রূপ আমরা ওখানেই দেখতে পাই। কেননা তখনকার সময়ের আরবের সাধারণ বেদুইনরা সারিবদ্ধ থাকার প্রতি তেমন যত্নবান ছিল না। ফল এই দাঁড়ালো যে সৈনিকদের শক্তি, সাহস ও মনোবল বৃদ্ধিতে কোনো কিছু এত ফলপ্রদ হয়নি, যতটুকু হয়েছিল এই সারিবদ্ধ থাকা। অনুমান করুন! সারিবদ্ধ না হয়ে বিক্ষিপ্তভাবে শত্রুদের ওপর তীর নিক্ষেপ আর সবাই মিলে এক সারিতে থেকে একইসঙ্গে তীরনিক্ষেপের মাঝে কত ব্যবধান! বস্তুত একসঙ্গে যখন সবগুলো তীর শত্রুদের দিকে নিক্ষিপ্ত হবে, তখন সেগুলো লক্ষ্যবেধ করতে সক্ষম হবে। পক্ষান্তরে কাতার ঠিক না হলে, বিক্ষিপ্তভাবে নিক্ষেপ করা তীরগুলোর কোনোটি শত্রুদের ওপর পড়বে, কোনোটি অযথা লক্ষ্যভ্রষ্ট হবে। সৈনিকদের এমন সারিবদ্ধ হওয়ার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা আমরা নবীজির সেই নির্দেশ থেকেই অনুধাবন করতে পারি। তারপর যুদ্ধ শেষ হতেই তিনি সৈনিকদের সম্বোধন করে সংক্ষিপ্ত একটি ভাষণ পেশ করেন। সেই ভাষণ শুনে এখনকার জেনারেলরাও হতবম্ভ হয়ে যাবেন। কিতাবাদিতে লিখা আছে, নবীজি (সা.) সৈনিকদের নির্দেশ দিলেন, যতক্ষণ শত্রুপক্ষ তোমাদের দিকে এগিয়ে না আসবে, ততক্ষণ সোজা দাঁড়িয়ে থাকবে, কেউ যেন সারি থেকে আগে-পিছে না সরে। নিজ সারিতে যেন স্থির থাকে। শত্রু যখন তীর পৌঁছবে না এমন দূরত্বে থাকবে, তখন অযথা নিজেদের তীর নষ্ট করবে না। কখনও নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র অযথা বিনষ্ট করবে না। যখন দেখবে শত্রু তীরের লক্ষ্যস্থলে আসছে তখন অন্য কোনো অস্ত্র ব্যবহার করবে না, না তরবারি, না বর্শা। শুধুমাত্র তীর ব্যবহার করবে। কখনও অপ্রাসঙ্গিক এবং অপ্রয়োজনীয় বস্তু ব্যবহার করবে না। তীর নিক্ষেপের পর প্রত্যেকের সঙ্গেই কিছু পাথর থাকা উচিত; তা ছুঁড়ে মারবে। পাথর মেরে শত্রুদের আঘাত করতে চেষ্টা করবে। শত্রু যখন আরো কাছে চলে আসবে তখন তোমরা বর্শা হাতে নিবে। এর থেকেও যদি কাছে চলে আসে, তবেই তরবারি দ্বারা শত্রুদের প্রতিহত করবে। অস্ত্রশস্ত্রের সংরক্ষণ, অস্ত্র সমূহকে কার্যকর থেকে কার্যকর বানানো এসব বিষয় আমরা ওই ভাষণ থেকেই শিখতে পাই। এরপর আরেকটি বিষয় লক্ষ্য করার মতো। মুসলমানদের মধ্যে চেতনা ও প্রেরণা সৃষ্টি করা এবং জান বাজি রেখে যুদ্ধে বিজয় লাভ করার প্রতি উদ্বুদ্ধ করা। এ কাজটিও নবীজি (সা.) অত্যন্ত দক্ষতার সাথে করেছেন। সৈনিকদের সম্বোধন করে তিনি বলেন, অবশ্য এর পূর্বে দোয়ায়ও তিনি তা ব্যক্ত করেছিলেন যে, মুসলমানরা! এসময় ভূপৃষ্ঠে তোমরা ওই একমাত্র ব্যক্তি, একমাত্র দল, একমাত্র জাতি; যারা আল্লাহর উপাসনা করছ। তোমরা মারা গেলে এ দুনিয়ায় আল্লাহর উপাসনাকারী কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আল্লাহর দ্বীন প্রচারের জন্য তোমরা আমানত বহনকারী। আপনারা অনুমান করতে পারেন যে প্রত্যেক ব্যক্তির হৃদয় কী পরিমাণ আন্দোলিত হয়েছিল একথায় যে আমি আল্লাহর আমানত বহনকারী। প্রাণ গেলে যাবে, তবু এ আমানত আমাকে পূর্ণ করতেই হবে। আমরাই একমাত্র লোক, যারা এসময় ভূপৃষ্ঠে সত্যিকার অর্থে আল্লাহর উপাসনা করছে। এরপর কী হতে পারে, কী হয়েছিল- তা আপনারা ইতিহাস থেকে দেখে নিতে পারেন। মাত্র তিনশো মানুষ নিজেদের থেকে ত্রিগুণ বেশি সশস্ত্র লোকদের পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিল। অবাক করার মতো বিষয়।

১৯৮৪ সালে সিন্ধু ইউনিভার্সিটিতে ড. মুহাম্মাদ হামিদুল্লাহ (রহ.) প্রদত্ত উর্দু ভাষণের সংক্ষেপিত ভাষান্তর করেছেন মাহফুয আহমদ