প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :    আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন বাংলাদেশ সফররত তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী বিনালি ইলদ্রিম ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রাজধানীর হোটেল সোনারগাঁওয়ে দুই নেতার মধ্যে এ নিয়ে আলোচনা হয়।

 

 

বৈঠক শেষে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের এ তথ্য জানিয়ে এও বলেছেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা সমস্যার স্থায়ী সমাধানে তুরস্ক করছে বলে তারা (তুরষ্কের পক্ষ থেকে) জানিয়েছেন।

 

 

 

বৈঠকে বেগম জিয়ার সঙ্গে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা সাবিহ উদ্দিন আহমেদ ও ড. এনামুল হক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।

 

 

 

বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মির্জা ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে যে সমস্যার উদ্ভব হয়েছে, তা সরজমিনে দেখার জন্য ও রোহিঙ্গাদের কিভাবে তাদের দেশে স্বসন্মানের সঙ্গে, নিরাপত্তার সঙ্গে ফেরত নিয়ে যাওয়া যায়, তার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কথা বলতে তারা এখানে এসেছেন। তুরস্ক সরকার ও তাদের জনগন রোহিঙ্গাদের প্রতি অত্যন্ত সহানুভুতিশীল। সেজন্য তারা প্রথম থেকে কাজ করছেন। উনারা (তুরস্ক) মনে করেন, রোহিঙ্গাদের তাদের দেশে নিজ বাসভুমিতে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে এবং পুরোপুরিভাবে একটা স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। তার জন্য অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বিশ্ব সংস্থাগুলোর সঙ্গে তারা যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

 

 

 

৪৫ মিনিট স্থায়ী বৈঠকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, আগামী সংসদ নির্বাচনসহ নানা বিষয়েও আলোচনা হয়। মির্জা ফখরুল বলেন, তাদের (তুরস্ক) সঙ্গে আলাপ হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতি কেমন চলছে।

 

 

 

আসন্ন নির্বাচনের কি অবস্থা দাঁড়াবে, আমরা সেই নির্বাচনে আমাদের ভুমিকা কি থাকবে, সরকারের ভুমিকা কেমন আছে এবং দেশ কেমন চলছে। সরকার কী ভুমিকা পালন করছে দেশের একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্যে ইত্যাদি বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

 

 

 

 

‘আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপি কী ভূমিকার কথা তুরষ্ককে জানিয়েছে’-এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের বিষয়ে আমরা আমাদের বক্তব্য বলেছি, তারা তাদের মতামত দিয়েছেন।

 

 

 

রোহিঙ্গাদের ব্যাপারে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে কি ভুমিকা রাখছে? এমন আরেক প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব জানান, তারা মনে করেন রোহিঙ্গাদেরকে সসম্মানে তাদের স্বদেশে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। এজন্য একটি স্থায়ী সমাধান করা প্রয়োজন। এই লক্ষ্যে তারা আন্তর্জাতিক বিশ্বের সঙ্গে অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে কথা বলছে।

 

 

 

ফিলিস্তিনের জেরুসালেম ইস্যুতে কোনো কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, এই ইস্যুতে তারা সম্পূর্ণ প্যালেস্টাইনের পক্ষে রয়েছেন।

 

 

 

বৈঠক চলাকালে হোটেল সোনারগাঁও এবং এর আশেপাশে কঠোর নিরাপত্তা চোখে পড়ে।