প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :   কাবিননামা লিখাঃ মুরাদ ইমরান অফিস থেকে খুব তারাহুড়ো করে বের হচ্ছে সাহেদ। মনটাও বেশ ফুরফুরে। কেনই বা হবে না! ঘরে নতুন বউ। ভিতর থেকে কেমন যেন একটা টান অনুভব করে। তবে সাহেদ জানে না এই টানের অর্থ কি ভালবাসা না কি বিয়ে নামক কোন একটি কাগজের লিগ্যাল সার্টিফিকেট এর অধিকার আদায় করতে বউ এর শরীর ছুঁয়ে দেয়া!

 

গাড়ির জানালার পাশে বসে কথা গুলা ভাবতেই মুচকি হেসে দিল সাহেদ। তবে বেপারটা যাই হোক এখানে কারও কিছুই বলার থাকে না। কারন বিয়ে করা বউ এর সাথে যা ইচ্ছে তাই করা যায়। সাহেদ ভাবে আর হাসে। এই পৃথিবীটা বড়ই অদ্ভুত। এখনে মনের ইচ্ছা বড় কথা নয়। এখানে বিয়ের দলিল হাতে থাকলেই মন ধারণ করা শরীরটাকে অনায়াসে নেড়েচেড়ে দেখা যায়।

 

 

বাড়িতে পা রাখতেই সাহেদের ফুরফুরে মেজাজটা যেন আরও কয়েক গুন বেরে গেল। কোথায় যেন একটা কামনার সুর বাজছে! রোজ বাড়ি ফিরে সবার সাথে দেখা করার পর নিজ ঘরে যাওয়া সাহেদ নামের মানুষটা আজ সোজা নিজের ঘরে চলে গেলো। সারা শরীরে কেমন যেন একটা অনুভূতি। মাথার ভিতরটায় শুধু একটাই চিন্তা, এই অন্ধকার ঘরে কোথাও জামা কাপড়ে ঠেকে থাকা এক তনু দেহ বসে আছে।

 

 

সাহেদের আজ আর তর সইছে না। কেন যেন বারবার ইচ্ছে হচ্ছে এখনই ঝাপিয়ে পরতে। ঘরের বাতি জ্বালতেই চারপাশে চোখ বুলালও সাহেদ। ঘরের কোথাও কেউ নেই। বাথ রুমের দরজা দিয়ে উকি দিল, সেখানেও কেউ নেই। হঠাৎ করেই মনের আকাশটায় মেঘ জমছে। মুচকি হাসিতে হেসে যাওয়া সাহেদ এর মুখটা ক্রমেই চুপসে গেলো। বিছানায় বসতেই চোখে পরলো সাদা রং এর একটা কাগজ।

 

 

সাহেদ, বিয়ের আগে আমি আপনাকে হাজার বার বলে ছিলাম আমি এ বিয়েতে রাজি নই। এমন কি আপনার পায়ে ধরেও বলতে রাজি ছিলাম আমার এতো বড় সর্বনাশ করবেন না। আমি অন্য কারও আমানত, দয়া করে খেয়ানত করবেন না। আপনি এটাও খুব ভাল করে জানতেন আমার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা আমার পরিবার কখনই মেনে নিবে না।

 

 

আর তাই আমার বাড়িতে বিয়ে প্রস্তাব দিয়ে নিজেকে সমাজের সুপুত্র হিসেবে জাহির করে বিয়ের কাজটা শেরে ফেলেন। আমারও যে কপাল! এমন একটা পরিবারে জন্ম গ্রহণ করলাম যেখানে নিজের চাওয়া পাওয়া বলে কিছু নেই।

 

 

 

নেই কোন মতামত প্রকাশের স্বাধীনতা। প্রেম করেছি তার মানেই আমি হলাম খারাপ। আর যাকে ভালবেসেছি সেও খারাপ। পরিবারের স্বীদ্ধান্তের বাহিরে আমার কোন কিছু করার ক্ষমতা ছিল না। আর এই সুযোগটার সৎ ব্যবহার করলেন আপনি। আমি অনেক বার কিছু প্রশ্নের সমূখিন হয়ে ছিলাম। এই সাহেদ নামের মানুষটি আমার মাঝে কি পেয়েছে যাকে সব কিছু বলার পরও এই দুনিয়ায় এতো মেয়ে রেখে সে আমাকেই বিয়ে করছে। কেন হাজার বার বলে বুঝানোর পরও সে আমাকেই বিয়ে করবে!

 

 

এমন প্রশ্নের উত্তর গুলা খুঁজে পেলাম বাসর রাতেই যখন আপনি আমার উপর ঝাপিয়ে পরলেন। কিন্তু তা তে অনেক দেরি হয়ে গিয়ে ছিল। বরাবরের মত আপনার শিক্ষা জীবনের সার্টিফিকেট এর আড়াঁলে আপনার বিয়ের সার্টিফিকেট এর ক্ষমতা প্রয়োগ করলেন প্রতিটি রাতে প্রতিটি দিনে। আমি শুধু নিশ্চুপ হয়ে আপনার ক্ষমতার প্রয়োগটুকুই দেখে যাচ্ছিলাম আর ভাব ছিলাম মানুষের রুপ ধারণ করা মানুষ গুলা কতটা অমানুষ হতে পারে। কখনও কি আমার অনুভূতিটা জানতে চেয়ে ছিলেন! জানেন সাহেদ, নিজেকে আপনার বউ মনে হতো না।

 

 

মনে হতো আমি যেন বিক্রি হওয়া একটা মানুষ। যাকে বিয়ে নামের কোন এক দলিলের মধ্যমে আপনার কাছে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। আর আপনি রোজ কিনে আনা এই মানুষটির দেহটাকে ভোগ করতেন। আর আমিও আপনাকে সেই দলিলের কারনে কিছু বলতে পারতাম না। দাঁতে দাঁত চেপে দুই চোখের জল ছড়িয়ে মৃত একটা দেহের মত বিছানায় পরে থাকতাম। আপনার সফলতার চেয়ে ব্যর্থতাটাই বেশি হয়ে গেলো সাহেদ। আপনি আমার দেহটা পেলেও মনের ধারের কাছেও আসতে পারলেন না। আমার মনটা আজও তাকেই ভালবাসে। আর বাকিটা জীবন তাকেই ভালবাসবে। ভাবছেন ভালবাসা আবার কি জিনিস! ওহ, হ্যা। আপনার ভাবারই কথা।

 

 

কারন আপনি তো জানেনই না ভালবাসা কি জিনিস। তবে বলি, শুনুন। অনেক বার চেয়ে ছিলাম আত্মহত্যা করবো। কিন্তু যতবার আত্মহত্যা করতে যেতাম ততবার ওই মানুষটার কথাই মনে পরতো। যে মানুষটার আমি ছাড়া আর কেউ নাই। ভালবাসে বলেই আজও সে পথ চেয়ে বসে থাকে। মনে প্রাণে বিশ্বাস করে একদিন তার ভালবাসার মানুষটি ফিরবে। আমার বিয়ে হয়ে গেছে কি না, কেউ আমার দেহটাকে ভোগ করেছে কি না তা তার কাছে বড় কথা নয়। বড় কথা এটাই, তার ভালবাসার মানুষটি একদিন ফিরবে। আপনি জয়ী হয়ে ছিলেন। আপনার জেদ আপনি পূরণ করে ছিলেন কিন্তু আফসোস শেষ পর্যন্ত আপনি হেরে গেলেন।

 

 

 

পরিবারে শিকল ভাঙ্গার ক্ষমতা আমার সে দিন না থাকলেও আপনার শিকল ভাঙ্গার ক্ষমতা আমার আছে। তবে বড্ড ভুল হয়ে গেছে। সে দিন যদি পরিবারের শিকলটা ভেঙ্গে দিতাম তবে আমার জীবনে এমন একটা দাগ পরতো না। আর বাকিটা জীবন একটা নষ্ট অতীত বয়ে বেড়াতেও হতো না। তবে আমি এই ভেবে ভাগ্যবতী, আমি যার কাছে ফিরে যাচ্ছি তার আমার এই নষ্ট অতীত নিয়ে কোন মাথা ব্যথা নাই। কিন্তু আমার এক বুক ভরা কষ্ট আছে। যা তার পাওয়ার কথা ছিল তা অন্য কেউ পেয়ে গেছে। তিলে তিলে সাধনা করে যে মানুষ নিজ হাতে ফসল ফলালো অথচ সেই ফসল অন্য কেউ কেটে নিয়ে গেলও। কথা দিয়ে গেলাম সাহেদ।

 

 

ওই মানুষটাকে আগে ঠিক যতটা ভালবাসতাম তার চাইতেও অনেক অনেক গুন বেশি ভালবাসবো। প্রয়োজনে নিজের জীবনটা ত্যাগ করবো তার জন্য। যত দিন বেঁচে থাকবো তার কোন ক্ষতি হতে দিব না। কষ্ট দেওয়া তো অনেক দূরের কথা। চিঠি আর লম্বা করলাম না। সবটা এখানেই শেষ করে দিয়ে গেলাম। ডিভোর্স লেটার দুই এক দিনের মাঝেই পেয়ে যাবেন। আশা করি এর পর অন্য কারো জীবন নিয়ে বিয়ে নামের কোন কিছু দিয়ে খেলা করার আগে ভেবে দেখবেন কাজটা ঠিক হচ্ছে কি না। চলে গেলাম সাহেদ। যাবার আগে শেষ একটা কথা বলে যাই আপনাকে।

 

 

এই পৃথিবীর এই প্রান্তে যদি আপনার মত দেহ ভোগী কোন পুরুষ থেকে থাকে তবে এই পৃথিবীর অন্য প্রান্তে আমার ভালবাসার মানুষটার মত একজন মহান পুরুষ আছে। জোর করে আর যাই হোক অনুভুতির লেনদেন হয় না। ভাল থাকবেন। চিঠিটা দুই হাতের মুঠোর চাপে চুপসে ফেলেছে সাহেদ। ঘামে ভিজে যাওয়া কপাল দিয়ে টপটপ করে ঘাম গড়িয়ে নিচে এসে পরতেই নিজের অজানতে চোখ দুটো ছলছল করে উঠলো। এক হাতের আঙ্গুলে চোখের পানি আরেক হাতের আঙ্গুলে কপালের ঘাম নিয়ে দুই আঙ্গুলের দিকে তাকিয়ে আছে। কপালের ঘাম আর চোখের পানির রং এক, দু’টোর মাঝেই আছে লবনের পরিমান তারপরও তাদের অবস্থান ভিন্ন।

 

 

 

ঠিকি তেমনি সাহেদ নামের মানুষটি মানুষ হলেও অমানুষ এর সাথে তার ঠিক এতোটাই মিল। শুধু অবস্থানটাই ভিন্ন। এ সমাজে তার মত ভাল চাকুরী, গাড়ি বাড়ি করা মানুষের দ্বারা খুব সহজেই হাজারটা মেয়ের গড়ে তোলা স্বপ্ন ভেঙ্গে দেয়া কোন বেপার না। কিন্তু কারও স্বপ্ন ভেঙ্গে নিজের স্বপ্ন কখনই গড়া যায় না। এই সহজ কথাটা বুঝতে সাহেদের অনেক দেরি হয়ে গেলো। বারান্দায় বেশ অনেকটা সময় হেলান দিয়ে দাঁড়িয়ে আছে সাহেদ। দুই হাতের মুঠোয় তার টুকরো টুকরো করে ছিঁড়ে ফেলা বিয়ের কাবিননামা। হালকা বাতাসে বারান্দার বাহিরে হাত দু’টো মেলে ধরতেই টুকরো কাগজ গুলো উড়তে শুরু করলো। মনে হচ্ছে যেন টুকরো কাগজ গুলা উড়ছে না, উড়ছে পাপের বোঝায় ভারী হয়ে যাওয়া কিছু মেঘ।ভার্জিন দোস্ত কত দিন ধরে উপোষ করে আছি । একটা খুজে দে না ,,,,। – তোকে আমি বলতে চাচ্ছিলাম ।

 

 

 

 

কিন্তু তুই আগে বলে বসলি । যাক ভালই হলো। একটা পাইসি বুচ্ছস। পুরো ভার্জিন ,,, – ধুর একটা হলেই হলো । তবে দোস্ত কবে কোথাই কখন বল তারাতারি। – আরেহ ব্যাডা থাম। আজকে রাত্রে কন্ফার্ম হয়ে তোকে জানাবো । কিন্তু মামা,,,, – কি কিন্তু ,,,তারাতারি বল – মাল যে বেশি চাই – ধুর,,,,তোর সাথে কি আমার মালের হিসাব । যা চাই দিবো । এখন বল কবে ঠিক করে দিবি।আর তুইতো এইসবের ব্যাপারি ,,হাহাহাহাহা – আচ্ছা কথা বলে দেখি,,, আর তর সইছে না । কত দিন পর বেড শেয়ার। সেই তিন সপ্তাহ আগে লাস্ট হয়েছিল। তারপর আর পাওয়া যায়নি । মানে খুজে দেইনি । আজকে আবার একটা নিউ । এইসবের মজাই আলাদা ।

 

 

 

লাইফটা ইন্জয় না করলে হয় নাকি। – কিরে দোস্ত খবর পাইলি। – হুম কালকে রাত্রে । হোটেল লাইটে।কালকে রাত্রে ওকে ভদ্রামোড় থেকে উঠিয়ে নিবি । আর এই নে কন্টাক্ট নম্বর। – থাংকু,,দোস্ত । নেক্স টা রেডি রাখিস বুঝলি সেই কন্টাক্ট নম্বরে কথা বলেছিলাম মেয়েটার সাথে । মেয়েটার ছবিটাও নিয়েছি । উফফফ দেখতে যা জোস । মনে হচ্ছে কালকের রাতটা খুউব যম্বে পরের দিন ,, কথা মত ভদ্রাই ওয়েট করছি গাড়ি নিয়ে । ওকে বলা হয়েছিল কালো একটা প্রিমিয় গাড়ির সামনে কালো শার্ট পরে দারিয়ে থাকবো আমি । ঠিক ৯:০০ বাজে । ও আমার সামনে হাজির । বাপরেহ পুরো একটা পরি দারিয়ে আছে আমার সামনে । আগে এমন কোনো মেয়ে পাইনি ।কিন্তু দেখেতো মনে হচ্ছে পুরো নিউ । মানে ভার্জিন ,,,,তাহলে কনক ঠিকি বলেছে। কিন্তু ঐ এইসব পাই কোথাই থেকে।

 

 

 

ধ্যাত অত সত ভাবার সময় নাই। কিন্তু মেয়েটার দিক থেকে চোখ ফেরাতেই পারছি না। – কি দেখছেন এভাবে – না মানে ,,,দেখছি যে তুমি ছবির চেয়েও মারাত্মক সুন্দরি । মেকাপ করে এতো সুন্দরি হয়ে এসেছো নাকি। – না এটা ন্যাচারাল । ছুয়ে দেখতে পারেন কিন্তু তার গায়ে হাত দিতে মনটা ইতস্তবোধ করলো। – কি লজ্জা পাচ্ছেন নাকি । ছুয়ে দেখেন – এখানেই কি সব কাজ শেষ করে ফেলবে নাকি । গাড়িতে ওঠো ,তারপর গাড়িতে ওঠার পরে সেও একটা শব্দ করেনি । আমিও কোনো রা করিনি। ব্যাপারটা কেমন যেন ঘোলাটে লাগছে । গাড়িতে ওঠার পর থেকেই কেমন একটা অস্থিরতা ভাব কাজ করছে। আজকে এমন নার্ভাস লাগছে কেন আমাকে ।কপালেও ঘাপের পানি জট হয়ে আছে । আর একটু পরেই হোটেল

 

 

 

লাইট। রাজশাহীর নাম করা একটা হোটেল । ফোর স্টার সমতুল্য। আগে অনেক রাত কাটিয়েছি এই হোটেলে । প্রতি রাতেই একেকটা করে । কত গুলো তা বলতে পারবো না । সেই হিসেবটা রাখার ইচ্ছাও করিনি কখনও । এই ভাবতে ভাবতে কখন চলে এসেছি নিজেও জানি না । – কি হলো নামবেন না । – নেমে কোথাই যাবো । – কেন ,তিন তলায় – তুমি কি সব রেডি করে রেখেছো নাকি। – আরেহ আমি কাস্টমার নিয়ে ওটাতেই উঠি । ওটা আমার জন্য বুক করা । ভাবতেও অবাক লাগছে । এটাতো ভালই আপডেট ।

 

 

 

 

আগের গুলো এমন ছিল না । মনে হয় পার্মানেন্ট এটা । – আমার গাড়ি থেকে নামতে ইচ্ছা করছে না । – কেন ,আমার সাথে রাত কাটানোর ইচ্ছা নাই নাকি । – এমন সব উদ্ভট কথা বলছো কেন । – ওমা ,,আমাকে নিয়ে এসেছেন কেন তাহলে। – জানি না ,,, – আপনি ঘামছেন কেন। ব্যাপারটা কি বলুনতো। অনেক্ষন ধরে দেখছি আপনি বারবার কপাল মুচ্ছেন । এই শ্বিতে গাড়ির ভেতর কেউ ঘামে । – চলেন ভেতরে চলেন সত্যি আজকে আমার এমন লাগছে কেন । কি হলো আমার । অন্য দিন গুলোতে কত হট হট ভাব থাকে ভেতরে । কিন্তু আজকে আমার প্রতিটি কোষ দুর্বল হয়ে আছে । কোনো অনুভতি কাজ করছে না ভেতরে। পাশ ঘেষে এত সুন্দর একটা মেয়ে হাঁটছে।একটু পরে তার সাথে অনেক কিছু করবো । কিন্তু এইসব ভাবলে ভেতরে কেমন যেন লাগছে ।

 

 

 

রুমে ঢোকার পরে ,, – এই নিন ড্রিং করুন । – না ভাল লাগছে না । – কি বলেন । ভাল লাগছে না মানে । আপনার ফ্রেন্ড তো বললো আপনার নাকি ড্রিংক ছারা জমেই না । – আমার ভাল লাগছে না বলেছি । এত কথা বলেন কেন আপনি। চুপ করে থাকতে পারেন না । সরেন আমি ঘুমাবো। আমার এই কথা টা শুনে মেয়েটা হাাাাা করে তাকিয়ে আছে । মনে মনে হয়ত বলছে এমন কাস্টমাল কখনও সে দেখেনি । রাত টা মোজ মাস্তি করার নাম করে সে ঘুমিয়ে পরছে । এ কেমন রে। কিন্তু আমার কিছু করার নাই । আমার ভেতরে কোনো অনুভতি কাজ করছে না । কিচ্ছু ভালো লাগছে না । মনে চাচ্ছে একটা বিশাল ঘুম দিই। খুউব দুর্বল লাগছে।

 

 

 

পুরো রাজ্জের ঘুম চোখে ঝেকে বসেছে। আমি আর কোনো কথা না বলেই শুয়ে গেলাম । ঘুমের ভেতরেও অস্থিরতা। একটা সপ্ন শুরু হলো । কি নিল ,,নারী ভোগ করতে এসেছো । কিন্তু পারবে না । কারন আমি ভার্জিন । আমার সতিত্ব এখনও কোনো পর পুরুষের ছোঁয়া পাইনি । কেউ পারবেওনা ছুতে। তুমিও পারবে না। আর কত কাল এই কাজ করবে । এইবার ভাল হওয়ার চেষ্টা করো। এমন সব হাজারও সপ্ন । ঘুম ভাঙ্গা ভাঙ্গা অবস্থা,,,,, ঘুম ভেঙ্গে গেলো । মাথাই কারো নরম হাতে স্পর্শ অনুভব করছি । মনে হচ্ছে কত মায়া ভালবাসা নিয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিচ্ছে।এমন কার হাত হতে পারে । কারো কথাই ঘোরটা ভেঙ্গে গেলো। – উঠেন ,, নামাজ পরবেন না ।

 

 

 

 

আমি ধরফর করে উঠে পরলাম । উঠেই দেখি মেয়েটা ।তার কোলে আমার মাথা ছিল । সেই তাহলে আমার মাথাই হাত বুলিয়ে দিচ্ছিল। কি সুন্দর লাগছে তাকে । হিজাব পরে আছে । সেই জন্য কি বেশি সুন্দর লাগছে,,? – একি তোমার কোলে আমার মাথা কেন। – আমি টেনে নিয়েছি আমার কোলে।কেন কোনো আপত্তি আছে নাকি আপনার । – আচ্ছা তুমি আমি এখানে কেন এসেছি বলোতো। মেয়েটা কান্না শুরু করে দিলো। – একি কানছো কেন তুমি । – আসলে আমি পতিতা বা কোনো বেশ্যা মেয়ে নই । আমি একজন ভার্জিন মেয়ে । আমি কোনো দিন এইসব কাজে অভ্যস্ত নই। আজ শুধু টাকার প্রয়োজনে আপনার কাছে নিজের সতিত্ব নষ্ট করে দিচ্ছিলাম ।

 

 

 

শুধু ,টাকার প্রয়োজনে আমি হা করে তাকিয়ে তার কথা গুলো গিলছি। – তাহলে আমাকে রাত্রে বললে যে। এই তিন তলা তোমার ফেভরেট । তোমার কাস্টমারকে তুমি এখানেই নিয়ে আসো – আমাকে এইসব কথা শিখিয়ে দেওয়া হয়েছে । আমি সত্যি বলছি বিশ্বাস করেন । আমি কোনো পতিতা নই। আমার এক বান্ধবি এই কাজে আমাকে ঠেলে দিয়েছে । আমার বাবা নেই । মা আর ছোটো ভাই । ছোটো ভাইয়ের অপরেশন করা লাগবে । অনেক টাকার দরকার । এত টাকা পাবো কোথায় । সেই বান্ধবি কে বললে সেই আমাকে এইসব শিখিয়ে দিলো । আমি প্রথমে রাজি হচ্ছিলাম না । পরে টাকার নেশায় আর টিকতে পারিনি । আপনার সাথে রাত কাটাতে রাজী হয়ে গেলাম । আমি আসলে এইসব কাজ জীবনেও করিনি । তার প্রত্তেকটা কথা মাথার ওপর দিয়ে গেলো। মেয়েটাও প্রচুর কাঁদছে । – আমি মান্নত করেছিলাম । যদি খোদা আমাকে আজ রক্ষা করে । তাহলে আমি এক মাস রোজা রাখবো