প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  এখন কিশোর-কিশোরীদের মাঝে শারীরিক পরিশ্রম ও খেলাধুলার প্রবণতা কমে গেছে। পাশাপাশি অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণের প্রবণতাও অনেক বেড়েছে। ফলে স্থূলতা ও নানা রোগের প্রকোপ লক্ষ করা যায়। গবেষণায় দেখা যায়, বারবার জাংক ফুড খেলে কিশোর-কিশোরী ও তরুণদের দেহের ওজন অনেক বাড়ে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি বাড়ে।

কিভাবে তৈরি করবেন কিশোর-কিশোরীদের খাদ্যাভ্যাস
বয়সের কারণে কিশোর-কিশোরীদের ছেলেমেয়েদের স্বাদের পরিবর্তন ঘটে। এ সময় তারা ফাস্ট ফুড বা জাংক ফুডের প্রতি বেশি ঝুঁকে পড়ে। খাবারের প্রতি কারো অনীহা, আবার কারো অতি আসক্তি দেখা দেয়। তবে একটু সচেতন হলেই কিশোর-কিশোরীদের খাদ্যাভ্যাস সহজেই তৈরি করা সম্ভব।

তাদের যদি জানিয়ে দেওয়া যায়, কোন খাবারে তাঁদের কতটুকু উপকার হবে তাহলে তারা বাইরে খেলেও সুষম খাবারের কথা মাথায় রাখবে। এখন জেনে নিন কী খাওয়া উচিত, কিভাবে খাদ্যতালিকা মেনে চলতে হবে ইত্যাদি।

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো
১. ভিটামিন ও মিনারেল শরীরের জন্য স্বাস্থ্যকর এবং সুন্দর ত্বক, চুল, নখের জন্যও এগুলো যথেষ্ট কার্যকরী। সবজি বড়া, ব্রকলি সালাদ, ফুলকপি ভাজা, গাজরের হালুয়া, সবজি স্যুপ এ ক্ষেত্রে বেশ উপকারী।
২. শরীর গঠনে প্রোটিন বিশেষ সহায়তা করে, তাই মুরগি, ডিমের চপ, কাবাব, শিমের বিচি, সয়া বাদাম খেতে পারেন।
৩. বাদাম, কুকিজ, ক্যান্ডি, মাখন ও পিঠা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে তাই এগুলো খেতে পারেন।
৪. বিদেশি ফলের চেয়ে দেশি ফল, বিশেষ করে টক জাতীয় ফল খাবেন।
৫. ফলের জুস খাওয়ার সময় না ছেঁকে খাবেন।
৬. প্রতিদিন একটু ফল খাওয়ার চেয়ে কয়েকটি ফল দিয়ে তৈরি মিক্সড ফ্রুট খাবেন।
৭. প্রতিদিন সকালে ও রাতে এক গ্লাস দুধ খাবেন।
৮. স্বাদ পরিবর্তন বা খাবারের বাড়তি স্বাদের জন্য ২-৩টি পদের খাবার একসঙ্গে মিশিয়ে খাবার তৈরি করে খাবেন। এতে স্বাদও পাল্টাবে আবার খেতেও ভালো লাগবে।
৯. জাংক ফুড, বাড়তি তেল-লবণ ও চর্বিতে তৈরি ফাস্ট ফুড না খাওয়াই ভালো। তবে যদি খাওয়া হয়, তাহলে এর তিনগুণ মিক্সড সালাদ খেয়ে ফেলবেন তাহলে ক্যালরি বার্ন হয়ে যাবে আর আপনি অতিরিক্ত ওজনের হাত থেকেও বাঁচবেন।
১০. খেজুর অত্যন্ত পুষ্টিকর। সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর অথবা টিফিনে খেজুর নিয়ে নিবেন।
১১. ক্ষুধা লাগা ও শরীর সচল রাখার জন্য খেলাধুলায় অংশগ্রহণ ও হাঁটাহাটি-দৌড়ানো প্রয়োজন।
১২. বাইরে বের হওয়ার সময় পানি নিয়ে বের হওয়ার অভ্যাস করবেন, ফ্রিজের পানি হলেও ক্ষতি নেই। তবে যাদের ঠাণ্ডার সমস্যা আছে তারা ফ্রিজের পানি না খাওয়াই ভালো।
১৩. অস্বাস্থ্যকর খাবার, ড্রেসিং করা সালাদ ও মেয়নেজ খেতে হবে খুব কম।