প্রথমবার্তা ডেস্ক রিপোর্ট :  সঠিকভাবে চেষ্টা করলে দেহের ওজন স্বাভাবিক মাত্রায় ধরে রাখা অত্যন্ত সহজ। কয়েক দিনের চেষ্টাতেই পরিমিত খাওয়া, শারীরিক অনুশীলন ও ক্ষতিকর অভ্যাস ত্যাগ করতে পারলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এ লেখায় তুলে ধরা হলো তেমন কিছু উপায়।
পর্যাপ্ত পানি পান
পানি পানে দিন শুরু করুন। সকালে উঠেই পানি পান করুন এবং গোসল করে শরীরের বিষাক্ত পদ‍ার্থ ধুয়ে ফেলুন। ওজন কমানোর সহায়ক হিসেবে পানি পেশীতে এবং রক্তে নতুন কোষ সৃষ্টিতে সাহায্য করে।
সকালের খাবার
সকালে পর্যাপ্ত নাশতা করুন। প্রোটিনসহ ভালো পরিমাণ নাশতা আপনার ক্ষুধা কমিয়ে আনে এবং স্বাস্থ্যকর খাবারে আগ্রহ বাড়ায়। ভালো পরিমাণ নাশতা গ্রহণে সারাদিন মন যেমন ভালো থাকে তেমন ওজনও নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
শারীরিক অনুশীলন
আপনি যতই খাবার নিয়ন্ত্রণ করেন না কেন, শারীরিক অনুশীলন ছাড়া এ কাজে সফলতা পাওয়া মুস্কিল। তাই ওজন কমানোর জন্য আপনার অবশ্যই প্রতিদিন অন্তত আধ ঘণ্টা শারীরিক অনুশীলন করতে হবে। এটি হতে পারে জগিং কিংবা জোরে হাঁটা।
প্রোটিন খান
খাদ্য তালিকায় প্রোটিনের পরিমাণ বৃদ্ধি করুন। বিশেষ করে সকালের নাশতায়। প্রোটিন হজম হতে অন্যান্য খাদ্যের তুলনায় বেশি সময় নেয়। ফলে পাকস্থলী খাদ্যশূন্য হতে বেশি সময় নেয়। একইসঙ্গে আদর্শ ওজন ধরে রাখতে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
ফল খান
পানি এবং ফলের আঁশ আমাদের খাদ্য ঘাটতি পূরণ করে। ফল শরীর থেকে ক্ষতিকর চিনি অপসারণ এবং ক্যালরি নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। তবে জুস করে নয়, আস্ত ফল খেতে হবে।
মৌসুমী খাবার
প্রতিটি ঋতুতে বিভিন্ন ধরনের সবজি ও ফলমূল দেখা যায়। খাবার তালিকায় এসব মৌসুমী সবজি রাখুন। সবজির আঁশও খাবার হজম এবং ওজন কমাতে সাহায্য করে। যে কারণে প্রতিদিন কমপক্ষে তিন থেকে চার ধরনের সবজি খাওয়া উচিৎ। সে ক্ষেত্রে সবজির সালাদ খাওয়া সবচেয়ে নিরাপদ।
বাড়িতে তৈরি খাবার
স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ক্যালরি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। অস্বাস্থ্যকর ও বেশি খাওয়ার কারণে মূলত আমাদের ওজন বৃদ্ধি পায়। কখনো কখনো স্বাস্থ্যকর খাবারেও অপ্রয়োজনীয় ক্যালরি যোগ হয়। তবে বাড়িতে তৈরি খাবার এক্ষেত্রে বিশেষ সুবিধা দেবে।
স্যুপ ও সালাদ
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে স্যুপ এবং সালাদ খাওয়া খুবই পরিচিত একটি বিষয়। তবে অবশ্যই ক্রিম এড়িয়ে চলতে হবে।
চিনি নিয়ন্ত্রণ
চিনি ও কৃত্রিম চিনি দেহের বাড়তি ওজনের জন্য অনেকাংশে দায়ী। এ কারণে মিষ্টি খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষত কেক-পেস্ট্রি ইত্যাদি খাওয়া বন্ধ করতে হবে। দৈনন্দিন বহু খাবারে চিনি থাকে, যা আপনার দেহের স্বাভাবিক চাহিদা পূরণ করতে পারে। তাই মিষ্টি পানীয়, কোমল পানীয়, চিনি দেওয়া চা ইত্যাদিও বাদ দিতে হবে।
দুগ্ধজাত খাবার নিয়ন্ত্রণ
বিভিন্ন ধরনের দুগ্ধজাত সামগ্রী যেমন মাখন-পনির ইত্যাদি কমিয়ে আনলে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সহায়ক হবে। তবে শক্তির জন্য আমাদের এ খাবারগুলো পরিমিত মাত্রায় দরকার। এ কারণে দই খাওয়া যেতে পারে। এছাড়া ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে রয়েছে এমন চর্বিযুক্ত খাবার, ওলিভ ওয়েল, বাদাম বাড়িতে রাখুন।